মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ২০১০ এর পর থেকেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার ও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা। সব পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত ক্যাপিটাল মার্কেটের উন্নয়নে কাজে লাগেনি। মার্কেট দুদিন ভালো থাকে তো ১০ দিন খারাপ। এসব কথা বলেন বাংলাদেশ শেয়ার ইনভেস্টর এসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাবলু।

রাজধানীর মতিঝিলে নিজ কার্যালয়ে স্টক বাংলাদেশকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি তিনি এসব কথা বলেন। এনামুল হক বলেন, ২০১০ সালে বাজার ধ্বসের পর তা উন্নয়নে সরকার আশার বাণী শুনিয়েছিল। কিন্তু আশার বাণী এখন নিরাশায় পরিণত হয়েছে।

অসংখ্য বিনিয়োগকারী ভেবেছিল ডিভিডেন্ড পরবর্তী বাজার ভালো থাকবে। কিন্তু ভুল, তাদের ধারণা ভুলে পরিণত হয়েছে। অন্যান্য বারের মতো এবারও ডিভিডেন্ড পরবর্তী বাজার নিম্নমুখী হয়েছে। সরকারের কোন পদক্ষেপেই কাজে আসেনি।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী ৪০ লাখ পরিবারের সাথে সরকার ছেলে খেলা করছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজার সর্ম্পকে যথেষ্ট সচেতন সে দেশের সরকার প্রধানরা। একদিন বাজারে অন্যরকম কিছু দেখলে তারা তদন্ত শুরু করে। তাৎক্ষণিক বাজার স্বাভাবিক করতে তারা নানা পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। ব্যতিক্রম শুধু আমাদের দেশের সরকার। দীর্ঘদিন ধরে বাজার নিম্নমুখি থাকলেও কোন ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি সরকারসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে হলে পুঁজিবাজার ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আমাদের সরকার একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের কথা বলছে। আর অপর দিকে নিম্নমুখি পুঁজিবাজার উন্নয়নের দেখভাল করছে না। এভাবে কখনই দেশ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হতে পারবে না।

এনামুল হক বলেন, বর্তমান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)’র চেয়ারম্যান হচ্ছেন অযথা। বাজার উন্নয়নে তার কোন পদক্ষেপ কাজে লাগেনি। বরং তিনি অসংখ্য নিম্নমানের কোম্পানিকে আইপিওতে নিয়ে এসেছেন। এসব নিম্নমানের কোম্পানি বাজার থেকে অসৎ পন্থায় টাকা তুলে নিয়ে বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করেছে। এধরনের চেয়ারম্যানকে সরিয়ে সৎ, কর্মঠ, নিষ্ঠাবান ও অভিজ্ঞ লোককে কমিশনের চেয়ারম্যান করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অসংখ্য ভালো মানের কোম্পানি রয়েছে; যারা বাজারে বিনিয়োগ করতে চায়। কিন্তু বাজারের এমন পরিস্থিতিতে তারা বিনিয়োগ করতে ভয় পাচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

বাজার পরিস্থিতিকে অস্বাভাবিক করতে অসংখ্য কোম্পানি একাধিক রেকর্ড ডেট ঘোষণা করছে। ফলে বিভ্রান্ত হয়ে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার সেল/বাই করছেন। এতে করে তারা ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মূলত বাজার উন্নয়নে সরকারকে নিজ হাতে উদ্যোগ নিতে হবে। নিয়ন্ত্রক সংস্থঅগুলোতে সৎ, অভিজ্ঞ ব্যক্তি বসাতে হবে। প্রতিনিয়ত তাদের কাজের তদারকি করতে হবে। পাশাপাশি মেম্বারদেরকে না দিয়ে যেসব কোডে শেয়ার রেগুলার কেনাবেচা হয় সেসব কোডে আইপিও তে আসা কোম্পানিগুলোকে প্রাইমারী শেয়ার বন্টন করে দিতে হবে। তবেই বাজার ভালো হবে বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here