আবারো সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজের ট্রেক স্থগিত

0
467

স্টাফ রিপোর্টার : গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থতায় সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) স্থগিত করেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) কর্তৃপক্ষ। গ্রাহকদের ১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও নগদ অর্থ পরিশোধ করতে না পারায় এ ব্যবস্থা নিয়েছে সিএসইর পরিচালনা পর্ষদ।

সম্প্রতি সিএসইর বোর্ডসভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এ কারণে গত ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ব্রোকারেজ হাউজটিতে শেয়ার লেনদেন বন্ধ রয়েছে। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো প্রতিষ্ঠানটির ট্রেক লাইসেন্স স্থগিত করল সিএসই।

এ বিষয়ে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. সাইফুর রহমান মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, সিএসই তদন্ত করে সিকিউরিটিজ হাউজটির বিরুদ্ধে বেশকিছু অনিয়ম পেয়েছে। তাদের ট্রেক লাইসেন্স চলমান থাকলে বিনিয়োগকারীদের নতুন করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেখানকার যে বিওধারীদের অ্যাকাউন্টে শেয়ার রয়েছে, তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে অন্যত্র শেয়ার স্থানান্তর করতে পারবেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা ফেরত দিতে সিলেট মেট্রোসিটির পরিচালকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর পরও যদি তারা পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেবে সিএসই। এক্ষেত্রে ট্রেক লাইসেন্স বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা নেয়ারও সুযোগ রয়েছে আইনে।

সিএসইর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজের ১ হাজার ৩১৫ জন গ্রাহকের মোট ১২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার পাওনা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত গ্রাহক হিসেবে ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সিএসইর ট্রেকহোল্ডার মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডে প্রায় ছয় হাজার গ্রাহক রয়েছে। কোম্পানিটির আগের ব্যবস্থপনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।

এ প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আগের পরিচালনা পর্ষদ গ্রাহকদের বিপুল পরিমাণ শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বিএসইসির তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়। ২০১৩ সালের ২ জুন থেকে ২০১৪ সালের ২০ মার্চ সময়ে গ্রাহকদের এ অর্থ আত্মসাত্ করা হয়। বিশেষ নিরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের বিভিন্ন দুর্নীতিও ধরা পরে। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে গ্রাহকদর অর্থ পরিশোধের জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হয় প্রতিষ্ঠানটি।

পাশাপাশি ২০১৪ সালে একপর্যায়ে ব্রোকারেজ হাউজটির নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ১ লাখ টাকার নিচে নেমে আসে। সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য (ব্রোকারেজ হাউজ) প্রতিষ্ঠানের নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ১ লাখ টাকার কম হতে পারবে না। হলে ব্রোকারেজ হাউজের স্টক এক্সচেঞ্জে তাদের সদস্য সনদ স্থগিত হয়ে যাবে।

ব্যালান্স ১ লাখ টাকার উপরে উঠে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সদস্য সনদ কার্যকর হবে। নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ১ লাখ টাকার কম থাকায় গত বছরের ৩ এপ্রিল থেকে সিএসই কর্তৃপক্ষ মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজের সব লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে ব্রোকারেজ হাউজটির প্রধান কার্যালয়সহ মোট সাতটি শাখায় গ্রাহকদের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্সের শর্ত পূরণ হলেও গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ না করায় লেনদেন কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠানটির ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ বহাল রাখে সিএসই। এর পর ট্রেক স্থগিতের বিরুদ্ধে আদালতে আবেদন জানায় সিলেট মেট্রোসিটি। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় কার্যক্রম চালু করার পক্ষে আদেশ দেন হাইকোর্ট। মাঝে চেম্বার আদালতে এ আদেশ স্থগিত হলেও ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখেন। ফলে শেয়ার লেনদেন চালু করার ক্ষেত্রে ব্রোকারেজ হাউজটির জন্য আইনগত সব বাধা দূর হয়। তবে ট্রেক চালু হলেও নির্ধারিত সময়ে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত বছর সিলেট মেট্রোসিটি সিকিউরিটিজ লিমিটেডের বর্তমান পরিচালক সৈয়দ হাছিন আহমেদ বিএসইসিতে করা আবেদনে জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিগত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইব্রাহিম  ও তার সহযোগীরা সিএসই ও সিডিবিএলের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানটির পুঁজি ও গ্রাহকের শেয়ার আত্মসাত্ করে। পরবর্তীতে বর্তমান ব্যবস্থাপনা পর্ষদ ২০১৪ সালের ১৩ অক্টোবর থেকে ২০১৫ সালের ৩১ মে পর্যন্ত গ্রাহকদের পাওনা শেয়ার ফেরত দেয়ার লক্ষ্যে ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকার শেয়ার ক্রয় করে।

সিএসইতে অভিযোগ করা ২ হাজার ২৮১ জন গ্রাহকের মধ্যে ৭৫৯ জনকে সেখান থেকে স্টক অনুযায়ী সম্পূর্ণ শেয়ার সমন্বয় করে দেয়া হয়েছে এবং ১ হাজার ৫২২ জন গ্রাহককে আংশিক শেয়ার সমন্বয় করে দেয়া হয়েছে। এর বাইরে সিএসইতে অভিযোগ করেনি এমন ৩ হাজার ৭৭৮ গ্রাহকের মধ্যে ৬৩০ জনকে তাদের স্টক অনুযায়ী সম্পূর্ণ শেয়ার ও ৩ হাজার ১৪৮ জন গ্রাহককে আংশিক শেয়ার সমন্বয় করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া গ্রাহকদের নগদ ৪২ লাখ ১১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

সিলেট মেট্রো সিটি সিকিউরিটিজের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শামীম আহম্মেদের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকরীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় গত বছর তাকে শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জন্য আজীবন নিষিদ্ধ করে বিএসইসি। পাশাপাশি তাকে ৫০ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here