লোকসানে এপেক্স ফুডস

0
1027

সিনিয়র রিপোর্টার : ২০১২-১৩ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রফতানিকারক হিসেবে সম্প্রতি ‘জাতীয় রফতানি পদক’ পায় শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি এপেক্স ফুডস লিমিটেড। এর আগের বছরও প্রতিষ্ঠানটি একই ধরনের স্বর্ণপদক পায়।

তবে রফতানিতে সর্বোচ্চ পদক পেলেও ২০১৪-১৫ হিসাব বছর থেকেই কোম্পানির আয় কমতে শুরু করে। দেশ থেকে হিমায়িত চিংড়ি রফতানিতে শীর্ষে থাকা প্রতিষ্ঠানটির রফতানি আয় দুই বছর ধরেই নিম্নমুখী। চলতি তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোম্পানিটি পরিচালন লোকসানের মুখে পড়েছে।

চলতি বছরের আগস্টে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রফতানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য দেশের ১১১টি প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় রফতানি পদক দেয়া হয়। মূলত ২০১১-১২ ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে রফতানিতে এগিয়ে থাকা কোম্পানিগুলো এ পদক পায়।

তালিকায় এপেক্স ফুডস লিমিটেডসহ শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মোট ছয়টি কোম্পানি রয়েছে, যার মধ্যে চারটি কোম্পানি উল্লিখিত উভয় বছরের জন্য পদক পেয়েছে। এপেক্স ফুডস দুই হিসাব বছরেই রফতানিতে স্বর্ণপদক পেয়েছে।

তবে দুই বছর ধরে এপেক্স ফুডসের রফতানি আয় কমছে। কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১১-১২ হিসাব বছরে তাদের রফতানি আয় ছিল ৩৯৩ কোটি টাকা, যা পরের বছর অর্থাৎ ২০১২-১৩ হিসাব বছরে ৩৩০ কোটি টাকায় নেমে আসে। সম্প্রতি এ দুই বছরের রফতানির জন্য কোম্পানিটি পুরস্কার পায়। ২০১৩-১৪ সালে রফতানি বৃদ্ধি পেয়ে ৩৮৪ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। তবে ২০১৪-১৫ হিসাব বছর থেকেই কোম্পানিটির রফতানি আয়ে অবনতি লক্ষ করা যায়।

২০১৪-১৫ হিসাব বছরে কোম্পানির রফতানি আয় আগের বছরের চেয়ে ২৮ শতাংশ কমে ২৭৫ কোটি টাকায় নেমে আসে। এতে কোম্পানিটি পাঁচ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো লোকসানের মুখে পড়ে। এ সময় পরিচালন লোকসান হয় ৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। অবশ্য এপেক্স স্পিনিং অ্যান্ড নিটিং মিলস ও সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডে (সিডিবিএল) বিনিয়োগের বিপরীতে পাওয়া লভ্যাংশ আয়ে শেষ পর্যন্ত নিট মুনাফায় থাকে কোম্পানিটি। তবে চলতি বছর রফতানি আয় আরো কমায় চাপ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির রফতানি আয় আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৩৭ শতাংশ কমেছে।

তৃতীয় প্রান্তিক (জুলাই ’১৫ থেকে মার্চ ’১৬) পর্যন্ত নয় মাসে এপেক্স ফুডসের রফতানি আয় হয়েছে ১৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৪৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রফতানি আয় কমেছে ৯০ কোটি ৯০ লাখ টাকা। এ সময় উত্পাদন খরচ হয়েছে ১৪৩ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। মোট মুনাফা দাঁড়ায় ১৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। প্রশাসনিক, বিক্রি বাবদ খরচ ও সুদ বাবদ ব্যয় বাদ দেয়ার পর কোম্পানির পরিচালন লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

একই সময়ে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় যোগ করার পরও নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২ টাকা ৭৯ পয়সা, আগের বছরের একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ২৭ পয়সা।

১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এপেক্স ফুডস লিমিটেড শতভাগ রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠান। হিমায়িত ও প্রক্রিয়াজাত চিংড়ি রফতানিতে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান তারাই। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ এ কোম্পানির হিমায়িত চিংড়ির প্রধান বাজার। তবে কয়েক বছর ধরে দেশের চিংড়ি শিল্প বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে।

ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের সস্তা ‘ভেনামি’ চিংড়ির কারণে ‘ব্ল্যাক টাইগার’ প্রজাতির চিংড়ির বিক্রয়াদেশ কমে যাওয়ায় এ-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো আয় কমতে দেখা গেছে। বর্তমানে চিংড়ি রফতানি উদ্বুদ্ধ করতে সরকার ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়। তবে উত্পাদন খরচ বেশি হওয়ায় রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোর চাপে আছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। রফতানি আয়ের অন্তত ৯০ শতাংশই ব্যয় হয় উত্পাদনে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ১৯৮১ সালে তালিকাভুক্ত এপেক্স ফুডসের পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালক, প্রতিষ্ঠান ৯ দশমিক ১৯ ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে রয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ শতাংশ শেয়ার।

১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি এপেক্স ফুডস শেয়ারের মঙ্গলবার সমাপনী দর ছিল ১৬৪ টাকা ২০ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here