মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : যেকোন কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) সমাপ্ত করতে কমপক্ষে ১ থেকে দেড় ঘন্টা সময় লাগার কথা। আর এই ১ থেকে দেড় ঘন্টার এজিএমে কোম্পানির চেয়ারম্যানের বক্তব্য, শেয়াহোল্ডারদের বক্তব্য ও এজেন্ডা পাশসহ নানা কর্মসূচি থাকে।  আশ্চর্যজনক হলেও সত্য, ৭ থেকে ৮ মিনিটে শেষ হয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা। যেখানে শেয়ারহোল্ডারদের বক্তব্যসহ ছিল না গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি।

বুধবার রাজধানীর পান্থপথে সামারাই কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৬ তম বার্ষিক সাধারণ সভায়  এসব চিত্র দেখা গেছে।

DSC03982
প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৬ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা

সভাস্থল ঘুরে দেখা গেছে, কোম্পানির পক্ষ থেকে এজেন্ডা বলার আগেই পাশ পাশ বলে সমর্থন দিচ্ছে গুটি কয়েক তথাকথিত শেয়ারহোল্ডার। দুইভাগে বিভক্ত এসব শেয়ারহোল্ডারদের একটি গ্রুপ বিশৃঙ্খলভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কথা বলতে দিচ্ছে না। আর অপর গ্রুপটি সভাস্থলে কোম্পানির চেয়ারম্যানের সাথে কানাঘুষা করছে।

এদিকে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কথা বলতে না পারায় সভা শেষে তারা কোম্পানি সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেনকে ঘিরে ধরেন কিছু বলার জন্য। কিন্তু সেক্রেটারি তাদের সাথে ভালোভাবে কথা না বলে তরিঘরি করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের সাথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

DSC03984নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোম্পানিটির এক শেয়ারহোল্ডার স্টক বাংলাদেশকে বলেন, যেকোন কোম্পানির বছরে একবারই এজিএম হয়। আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কোম্পানির ডিভিডেন্ড পাওয়ার আশায় থাকি। দু:জনক হলেও সত্য, এ বছর প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। শুধু তাই নয়, এবিষয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কথাও বলতে দেয়নি কোম্পানিটি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দিলে কোম্পানির কমপক্ষে ৩ কোটি টাকা ব্যয় হতো। কিন্তু কোম্পানি সেটি করেনি। গুটি কয়েক ক্ষমতাবান শেয়ারহোল্ডার; যারা কোম্পানিটির কথায় ওঠে-বসে। তাদেরকে ৫০ লাখ টাকা দিয়ে কোম্পানিটি এজিএম সম্পন্ন করেছে। আর এসব তথাকথিত শেয়ারহোল্ডারদের ভয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীর কথা বলতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক বিনিয়োগকারী স্টক বাংলাদেশকে বলেন, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারে আমার তিনটি বিও একাউন্ট রয়েছে। অথচ এজিএমের একটি বইও পাইনি। এমনকি কোম্পানিটি আমার কাছে বই পাঠায়নি। দুর্নীতি করে শেয়ারহোল্ডারদের সব টাকা লুটে-পুটে খেয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স। এমনকি সামান্য বই বিতরণও তারা দুর্নীতি করেছে।

এদিকে শেয়ারহোল্ডারদের উল্লেখিত অভিযোগ অস্বিকার করে স্টক বাংলাদেশের এই প্রতিবেদককে কোম্পানিটির সেক্রেটারী মো: মোজাম্মেল হোসেইন বলেন, আমার এখানে কিছুই করার নেই। কোম্পানি আমাকে যেভাবে নির্দেশনা দেয় আমি সেভাবেই কাজ করি। আপনার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই রিপোর্ট করেন।