মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা, ইউরো ও পাউন্ডের দরপতনসহ নানা প্রতিকূলতার মাঝেও জেমিনি সি ফুড এ বছর ভালো করেছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন পর গত বছর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চিংড়ী রপ্তানী করে জেমিনি সি ফুড প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।

বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সেলিব্রেটি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত জেমিনি সি ফুডের ৩৪ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ৩০ জুন ২০১৬ সমাপ্ত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে জেমিনি সি ফুড রপ্তানী হতে ১শ’ ১১ দশমিক ২১ কোটি টাকা আয় করেছে। যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ৯০ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রয় ২২ দশমিক ৮৬ শতাংশ  বৃদ্ধি পেয়েছে।

DSC03944
জেমিনি সি ফুডের ৩৪ তম বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা

তিনি আরও বলেন, এ বছর প্রথম নয় মাসে কোম্পানির মোট মুনাফা অর্জিত হয়েছে ৮ দশমিক ৪২ কোটি টাকা। গত বছর একই সময়ে এই মুনাফা ছিল ৬ দশমিক ৮৭ কোটি টাকা। কোম্পানির নীট মুনাফাও বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর প্রথম নয় মাসে নীট মুনাফা ছিল ০ দশমিক ৮০ কোটি টাকা। আর এ বছর একই সময়ে নীট মুনাফা হয়েছে ২ দশমিক ২৮ কোটি টাকা।

DSC03945কোম্পানির সিএফও জাকির আহমেদ জাকির বলেন, জেমিনি সি ফুডের পরিচালনা পর্ষদ সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৭০ শতাংশ ডিভিডেন্ড অনুমোদন করেছে। যার মধ্যে ২০ শতাংশ ক্যাশ ও ৫০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড। কোম্পানির হাতে আরও ১৩০ শতাংশ বোনাস অতিরিক্ত রয়েছে। পরবর্তীতে মন্দার সময়ে কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের এই বোনাস দেবে।

তিনি আরও বলেন, ডিভিডেন্ড নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। আগামী বছর ডিভিডেন্ডের পরিমাণ আরও বাড়বে। কোম্পানি সব সময় শেয়ারহোল্ডারদের পাশে ছিল, এখনও আছেএবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

সভায় কোম্পানির চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদ শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিক্রমে ৫টি এজেন্ডা পাশ করেন। উল্লেখযোগ্য এজেন্ডাগুলো হলো-সমাপ্ত অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোম্পানির ২০ শতাংশ ক্যাশ ও ৫০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড অনুমোদন। এছাড়াও কাজী ইনাম আহমেদকে পুণরায় পরিচালক পদে নিয়োগ।

এজিএমে চেয়ারপার্সন আমিনা আহমেদ এর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির পরিচালক কাজী নাবিল আহমেদ, কাজী ইনাম আহমেদ, স্বাধীন পরিচালক ব্যারিষ্টার কাজী রেহান নাবিল ও সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা।