আইপিওতে আনা আইসিবির বেশিরভাগ কোম্পানি ‘নিম্নমানের’

0
1468

রাহেল আহমেদ শানু : আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত একটি মার্চেন্ট ব্যাংক। ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ১৩টি কোম্পানির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে আইসিবি।

তালিকাভুক্ত ১৩টি কোম্পানির মধ্যে ৬ কোম্পানির শেয়ার দর ইতোমধ্যে ইস্যুমূল্যের নিচে নেমে এসেছে। আরো ১টি কোম্পানির শেয়ার দর রয়েছে অভিহিত মূল্যের নিচে। ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের এমন কর্মে বিস্ময় প্রকাশ করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে। মার্চেন্ট ব্যাংকটির ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ইস্যুকৃত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারপ্রতি আয় কমেছে।

একই সঙ্গে ৪৬ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর ইস্যু মূল্যের নিচে নেমে এসেছে। তবে একই সময়ে পুঁজিবাজারে সব থেকে বেশি কোম্পানি তালিকাভুক্তি করেছে এই মার্চেন্ট ব্যাংক।

কোম্পানিগুলো হলো- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল, জিএসপি ফাইন্যান্স, অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাস্টিক, ওরিয়ন ফার্মা, হামিদ ফেব্রিকস, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, সাইফ পাওয়ারটেক, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ন্যাশনাল ফিড মিল, ডরিন পাওয়ার জেনারেশন, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন ও একমি ল্যাবরেটরিজ।

মার্চেন্ট ব্যাংকটির ইস্যুকৃত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২টি কোম্পানি প্রিমিয়াম ছাড়া শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে ও ১১টি কোম্পানি প্রিমিয়ামসহ শেয়ারবাজারে এসেছে। এর মধ্যে ২টি কোম্পানি বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারবাজারে এসেছে। এসব কোম্পানির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৭ টাকা করে শেয়ার ইস্যু করেছে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে আসা একমি ল্যাবরেটরিজ। আর শুধুমাত্র অভিহিত মূল্যে আসা কোম্পানি দুটি হচ্ছে-সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ও ন্যাশনাল ফিড মিলস।

দেখা গেছে, আইসিবি ক্যাপিটালের ১৩টির মধ্যে ৬ কোম্পানির শেয়ার দর ইস্যুমূল্যের নিচে নেমে এসেছে। এর মধ্যে ১টি কোম্পানির শেয়ার দর রয়েছে অভিহিত মূল্যের নিচে।

নিম্নে কোম্পানি ১৩টির শেয়ারের ইস্যু দর ও বর্তমান দর ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো :

কোম্পানি নাম উত্তোলন করা টাকার পরিমাণ তালিকাভুক্তির সাল শেয়ার ইস্যু দর ২৭ আগস্টে শেয়ার দর
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল ১০৮.৫০ কোটি ২০১২ ৩৫ টাকা ১১২.১০
জিএসপি ফাইন্যান্স ৫০ কোটি ২০১২ ২৫ টাকা ১৩.১০
অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স ২২০ কোটি ২০১৩ ২২ টাকা ১৫.৪০
বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাস্টিক ৪০ কোটি ২০১৩ ২৫ টাকা ৪৫.৫০
ওরিয়ন ফার্মা ২৪০ কোটি ২০১৩ ৬০ টাকা ৩৭.৫০
হামিদ ফেব্রিকস ১০৫ কোটি ২০১৪ ৩৫ টাকা ১৬.৭০
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ১৫৭.৫০ কোটি ২০১৪ ৩৫ টাকা ২৪.৫০
সাইফ পাওয়ারটেক ৩৬ কোটি ২০১৪ ৩০ টাকা ৫৩.৯০
সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ ১৪ কোটি ২০১৪ ১০ টাকা ৯.৯০
ন্যাশনাল ফিড মিল ১৮ কোটি ২০১৫ ১০ টাকা ২০.৯০
ডরিন পাওয়ার জেনারেশন ৫৮ কোটি ২০১৬ ২৯ টাকা ৬১.৩০
ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (বুক বিল্ডিং) ২৩৭.৬০ কোটি ২০১৫ ৭২ টাকা ১৪১.৬০
একমি ল্যাবরেটরিজ (বুক বিল্ডিং) ৪০৯.৬০ কোটি ২০১৬ ৭৭ টাকা ১০৬.৭০

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর আর্থিক তথ্যমতে, আইপিও পূর্বের সাথে তালিকাভুক্তির পরের ইপিএস-এর তুলনা করার জন্য আইসিবি ক্যাপিটালের আনা ১৩টি কোম্পানির মধ্যে ১০টি কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৬টি কোম্পানির ইপিএস কমেছে। যার মধ্যে আবার ১টি কোম্পানি লোকসানের কবলে রয়েছে।

কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সময় ও সর্বশেষ প্রকাশিত ইপিএস তুলে ধরা হলো-

কোম্পানির নাম তালিকাভুক্তির সাল আইপিওকালীন-ইপিএস সর্বশেষ ইপিএস
বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল ২০১২ ৩.৪৯ (১ বছর) ৩.৯২ (১৪-১৫ অর্থবছর)
জিএসপি ফাইন্যান্স ২০১২ ৩.৫১ (১ বছর) ১.৯০ (২০১৫ সালে)
অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স ২০১৩ ২.৩৬ (১ বছর) ১.৭৭ (১৪-১৫ অর্থবছর)
বেঙ্গল উইন্ডসোর থার্মোপ্লাস্টিক ২০১৩ ১.৬২ (৬ মাস) ১.৭৬ (জুলাই-ডিসে.২০১৫)
ওরিয়ন ফার্মা ২০১৩ ৫.০০ (৯ মাস) ২.৮৮ (জানু-সেপ্টে.২০১৫)
হামিদ ফেব্রিকস ২০১৪ ৫.৫৮ (১ বছর) ১.৮০ (১৪-১৫ অর্থবছর)
ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ২০১৪ ২.০৯ (১ বছর) ২.৩২ (১৩-১৪ অর্থবছর)
সাইফ পাওয়ারটেক ২০১৪ ২.০১ (১ বছর) ৩.০৭ (১৪-১৫ অর্থবছর)
সুহৃদ ইন্ডাষ্ট্রিজ ২০১৪ ১.০৯ (১ বছর) (০.০৩) (১৪-১৫ অর্থবছর)
ন্যাশনাল ফিড মিল ২০১৫ ১.৮৬ (১ বছর) ১.৭৭ (২০১৪ সালে)
ডরিন পাওয়ার জেনারেশন ২০১৬ ২.২৫ (১ বছর)
ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন (বুক বিল্ডিং) ২০১৫ ৫.৯৮ (১ বছর)
একমি ল্যাবরেটরিজ (বুক বিল্ডিং) ২০১৬ ৫.৭০ (১ বছর)

এ বিষয়ে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজম্যান্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরিন সুলতানা ইসলামের মুঠোফোনে একাধিক দিন যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি সাড়া দেননি।

ডিএসইর সাবেক সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, কোনো কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনার পরেই একটি ইস্যু ম্যানেজারের দায়বদ্ধতা শেষ হয়ে যেতে পারে না। একটি কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসার পরে আয় কমে যাওয়া ও শেয়ার দর ইস্যু মূল্যের নিচে চলে যায়, তা হতে পারে না। এজন্য ইস্যু ম্যানেজারকেও দায়বদ্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো ইস্যু ম্যানেজারের ইস্যুকে টাকা উত্তোলনের অনুমোদনের আগে পূর্বের ইস্যুগুলোর বর্তমান অবস্থাকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

প্রসঙ্গত, ইস্যু ম্যানেজারদেরকে মূল্যায়নের জন্য পাবলিক ইস্যু রুলস-২০১৫ অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিগত ৫ বছরের ইস্যুকৃত কোম্পানির শেয়ার দর প্রসপেক্টাসে প্রকাশ করতে হয়। যা বিনিয়োগকারীদের কোনো ইস্যু ম্যানেজার কেমন কোম্পানি শেয়ারবাজারে আনে, তা বুঝতে সহযোগিতা করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here