সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল নিয়ে জটিল ‘রহস্য’

0
3040

শাহীনুর ইসলাম : সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের উৎপাদন নিয়ে নতুন করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। কোম্পানির মালিকপক্ষ দাবি করেছে, ‘আমরা আশা করছি আগামী সপ্তাহে গ্যাস সংযোগ পাবো।’ এ বিষেয়  প্রচণ্ড আশাবাদী কোম্পানির কর্তৃপক্ষ।

অন্যপক্ষ বলছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। জবাব দিতে ব্যর্থ হলে লাইসেন্স জব্দ এবং প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে জানিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয়ের কড়া চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ‘ভেবেচিন্তে’ সংবাদ প্রকাশ করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে সিভিও।

আগামী সাত দিনের মধ্যে গত অর্থবছরে কনডেনসেট ক্রয়ের পরিমাণ, কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রল বিক্রির পরিমাণ জানাতে বলা হয়েছে মন্ত্রণালয়কে। গ্যাসের (কনডেনসেড) উপজাত পদার্থ সরবরাহ নিয়ে রহস্য আরো ঘনিভূত হচ্ছে।

CVO. chairmanরহস্য উম্মোচনে যোগাযোগ করা হয় সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম শামীমের সঙ্গে। চেয়ারম্যান ব্যস্ত থাকায় তার পক্ষ থেকে স্টক বাংলাদেশকে বলা হয়, আদালতে রিট করা হলে আদালত দুবার আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আদালতের নির্দেশে আশা করছি আগামী সপ্তাহে জ্বালানী মন্ত্রণালয় গ্যাস সরবরাহ করবে।

গ্যাস (কনডেনসেড) উপজাত পদার্থ ১০ আগস্ট (প্রকাশিত প্রতিবেদন) ‘৭ দিনের মধ্যে কোম্পনিকে গ্যাস সরবরাহে’ জ্বালানী মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আদালতের নির্দেশনায় এখনো সরবরাহ না করা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে এটা নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক চলছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে সংযোগ পাবো বলে আশা করছি।

তবে কনডেনসেট (গ্যাসের উপজাত) পরিশোধন না করে জ্বালানি তেল ভেজাল করার বিষয়ে সম্প্রতি কোম্পানির ব্যস্থাপনা পরিচালক এ এইচ এম হাবিবুল্লাহ বলেন, ভুল বোঝাবুঝি কারণে এমনটি হয়েছে। আশা করছি দ্রুত আমরা আবারো শুরু করতে পারবো।

habib ullah, cvoতবুও অনিশ্চিত কোম্পিানির ভাগ্য। পরিশোধন না করে কনডেনসেট (গ্যাসের উপজাত) জ্বালানি তেলে ভেজাল করায় সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাখ্যা চেয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বন্ধ করে দেয়া হবে বলে চিঠির মাধ্যমে হুমকিও দিয়েছে সরকার।

আরো জানতে চাইলে কোম্পানির সেক্রেটারি কায়কোবাদ স্টক বাংলাদেশকে বলেন, জ্ব্রালানী মন্ত্রণালয় আমাদের গ্যাস সরবরাহ করলে দ্রুত উৎপাদনে ফিরে যেতে পারবো। নতুন কোন বিড়ম্বনা আর হবে না। ইতোমধ্যে প্লান্টের কিছু পরিবর্তনও আনা হয়েছে। তাছাড়া উৎপাদনে যেতে সব ধরণের উপকরণ আমাদের তৈরি রয়েছে। নতুন প্রান্ট তৈরির কাজও চলছে বলেন তিনি।

কোম্পানির ৬ জন পরিচালকের মধ্যে নুরুল আলম আনছারী এবং মো. আমীনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আগামী সাত দিনের মধ্যে গত অর্থবছরে কনডেনসেট ক্রয়ের পরিমাণ, কনডেনসেট থেকে উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রলের পরিমাণ জানাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সময়ে পেট্রোল পাম্প ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কী পরিমাণ পরিশোধিত তেল দিয়েছে তার হিসাবও চাওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দেয়া এক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই নোটিশ প্রদান শুরু করেছে জ্বালানি বিভাগ।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যালকে দেয়া নোটিশে বলা হয়েছে, যদি যথাযথভাবে এই হিসাব দিতে না পারেব্যর্থ হয়, তাহলে লাইসেন্স জব্দ ও প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হবে।

জ্বালানী মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি ক্রয় করেছিল ১৯ হাজার টন কনডেনসেট। বিপিসির কাছে বিক্রি করেছে মাত্র ৭৯২ টন (৯ লাখ ৯০ হাজার লিটার) পেট্রোল। কিন্তু বাকি ১৮ হাজার ২০৮ টন কনডেনসেটের হিসাব নেই। ক্রয় করা কনডেনসেট দিয়ে অন্য কোনো জ্বালানি তৈরি করেছে কিনা সে সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্রও দেখাতে পারেনি কোম্পানিটি।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে কনডেনসেট বিক্রি বন্ধ করে দেয় পেট্রোবাংলা। কনডেনসেট বাজারে ছেড়ে দিয়ে জ্বালানি তেল ভেজাল করা বিপিসি’র এমন অভিযোগ অস্বীকার করে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থার ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে, সরকারী কোনো সংস্থা যেন ‘ভেবেচিন্তে’ সংবাদ প্রকাশ করে সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানায় কোম্পানিটি।

পরবর্তীতে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল কনডেনসেট সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করেছে। এ প্রেক্ষিতে সাত দিনের মধ্যে কনডেনসেট সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

পাশাপাশি উচ্চ আদালত পেট্রোবাংলা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং জ্বালানি ও খণিজ সম্পদ বিভাগকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই কনডেনসেট সরবরাহ বন্ধ করার আইনগত অধিকার সরকারি এ চার সংস্থার নেই। তাই রায়ের কপি পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে সিলেট গ্যাস ফিল্ডকে কনডেনসেট সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত।

পাশাপাশি চুক্তি ভঙ্গ করে এবং আইনগত ভিত্তি ছাড়াই এমন নির্দেশ কেন দিয়েছে এর জবাব সিলেট গ্যাস ফিল্ড, বিপিসি, পেট্রোবাংলা এবং জ্বালানি ও খণিজ সম্পদ বিভাগকে আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পেছনের খবর : সিভিওর জটিলতা অবসান, ‘৭ দিনের মধ্যে গ্যাস প্রদানের’ নির্দেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here