নতুন-পুরাতন ৯টি কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ

0
5554

শাহীনুর ইসলাম : নতুন-পুরাতন মিলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৯টি কোম্পানির উৎপাদন বন্ধ। অনেক কোম্পানির উৎপাদনে আসার নেই কোন সম্ভাবনা, ঋণের ভারে নিমজ্জিত। তবুও অনেক কোম্পানির বাড়ছে শেয়ারপ্রতি দর। দরের উত্থানে বাতাসে ভাসছে আশঙ্কা।

উৎপাদন বন্ধ থাকা নত‍ুন কোম্পানিগুলো হলো- সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড এবং এমারাল্ড ওয়েল কোম্পানি লিমিটেড।

পুরাতন কোম্পানিগুলোর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বিচ হ্যাচারি লিমিটেড এবং মে মাসে কে এন্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ হয়। এখন পর্যন্ত উৎপাদনে আসতে পারেনি কোম্পানি দুটি।

তালিকায় আরো রয়েছে- মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং, রহিমা ফুড করপোরেশন, নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বিডি অটোকারস লিমিটেড।

দর বৃদ্ধির কারণে সব আশঙ্কাকে উড়িয়ে দিয়ে ‘মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগ’ করার আহ্বান জানান এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমরান হাসান

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিচ হ্যাচারি কোম্পানি লিমিটেডের গত এপ্রিল মাস থেকে ‘উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এখনো চালু হয়নি, তবে কবে নাগাদ হবে সে কথাও বলা যাচ্ছে না। খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে কোম্পানি।’ এসব কথা স্টক বাংলাদেশকে বলেন কোম্পানির সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম।

বিচ হ্যাচারি লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ। তবুও কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি দর বেড়েই চলেছে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু ও তার পরিবারের মালিকানাধীন মাল্টিমোড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কে এন্ড কিউ। কোম্পানির প্রধান দুটি ইউনিটের একটিতে ড্রাইসেল ব্যাটারিতে ব্যবহৃত কার্বন রড উৎপাদন করা হত। অন্য ইউনিটে উৎপাদন করা হতো আলকাতরা। কোম্পানির কর্তৃপক্ষ ব্যবসা পরিবর্তনের আভাস দিয়ে উৎপাদনে না এলেও শেয়ারের দর বাড়ছে।

উৎপাদন বন্ধ হওয়ার পরে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেডের শেয়ারপ্রতি অনেক বেড়েছে। ‘৭ দিনের মধ্যে কোম্পনিকে গ্যাস প্রদানে’ জ্বালানী মন্ত্রণালয়কে উচ্চ আদালত (গ্যাস উপজাত পদার্থ) সরবরাহের নির্দেশ ১০ আগস্ট দিলেও এখনো চালু হয়নি কোম্পানি।

গ্যাস সরবরাহ এবং উৎপাদন সম্পর্কে সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি লিমিটেড কোম্পানি সেক্রেটারি কায়কোবাদ স্টক বাংলাদেশেকে বলেন, জ্ব্রালানী মন্ত্রণালয় আমাদের গ্যাস সরবরাহ করলে দ্রুত উৎপাদনে যেতে পারবো। নতুন কোন বিড়ম্বনা আর হবে না।

ইতোমধ্যে প্লান্টের কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। উৎপাদনে যেতে সব ধরণের উপকরণ আমাদের তৈরি রয়েছে। নতুন প্লান্ট তৈরির কাজও চলছে বলেন কায়কোবাদ।

এমারাল্ড ওয়েল কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ। তবু শেয়ারপ্রতি দর কয়েক দফায় অনেক বেড়েছে। বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে এমারাল্ড অয়েলের কোম্পানি সচিব মেহেরুন্নেছা রোজি স্টক বাংলাদেশকে ‘আগামী ২০ তারিখে উৎপাদন শুরু’ করার বৃহস্পতিবার আভাস দেন।

তিনি বলেন, আগামী ২০ তারিখে উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে শ্রমিক এবং অর্থ সংকটে ‍আরো দু-এক দিন সময় লাগতে পারে। আমরা চেষ্টা করছি, সব সামলে উৎপাদনে যেতে।

শ্রমিক ছাটাই সম্পর্কে তিনি বলেন, ভারতীয় অনেক শ্রমিকের ভিসার মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার তারা দেশে ফিরে গেছেন। নতুন করে আরো অনেক শ্রমিক আসছে। তাছাড়া বর্ষাকালে আমাদের উৎপাদন বন্ধ থাকে। তবে শিগগিরই আমরা উৎপাদনে যাবো।

মডার্ন ডায়িং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিং লিমিটেডের উৎপাদন প্রায় ৬ বছর ধরে বন্ধ। ডিএসই প্রতিষ্ঠানটির ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গণ এবং প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করলে এ তথ্য বেরিয়ে আসে। ২০১০ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সব মেশিনারিও বিক্রি করা হয়েছে।

রহিমা ফুড কর্পোরেশন লিমিটেডের বিভিন্ন খরচ মেটাতে চুক্তিভিত্তিক রিফাইনিং ভিত্তিতে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হয়। পরে সবকিছু অনুকূলে না থাকায় সেটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বলেন কোম্পানির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোয়েব।

তিনি বলেন, ভোজ্য তেলের দাম টন প্রতি প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার কমে গেছে। এ অবস্থায় এলসি করলে কোম্পানি প্রচুর লোকসানের সম্মুখীন হত। যে কারণে লোকসান এড়াতে উৎপাদন বন্ধ রেখেছি।

২০১৩ সাল থেকে নর্দার্ন জুটের ফ্যাক্টরি বন্ধ রয়েছে। উন্নতমানের সুতা উৎপাদনের জন্য বর্তমানে ফ্যাক্টরি ঢেলে সাজানোর কথা থাকলেও তা আর হয়নি। নতুন স্থাপিত যন্ত্রগুলোতে পরীক্ষামূলক উৎপাদন কাজ শুরু কথা বলা হলেও তা হয়নি।

মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের ১০ বছর ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ পরিদর্শনে যান। এ সময় পরিদর্শক দল কোম্পানির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ দেখতে পান।

বিডি অটোকারস লিমিটেডের উৎপাদন ২০০১-০২ সাল থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। শুধুমাত্র সিএনজি রি-ফুয়েলিংয়ে (ইউনিট-২) চালু রয়েছে। কোম্পানির ফ্যাক্টরি এবং প্রধান কার্যালয় ভাড়াও দেয়া হয়েছে। তবুও বাড়ছে শেয়ারপ্রতি দর।

তবে ঝুঁকি এড়াতে দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এসব কোম্পানির দর বৃদ্ধির ‘সঙ্গত কারণ’ না থাকায় মৌলভিত্তি সম্পন্ন কোম্পানিতে বিনিয়োগের পরামর্শ প্রদান করেন এমরান হাসান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here