‘গ্যাসের দাম বাড়লে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাবে পোশাকশিল্প’

0
488

রাহেল আহমেদ শানু : গুলশানে জঙ্গি হামলার কারণে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর ঝড় বয়ে গেছে। ওই হামলার পর অনেক ক্ষেত্রেই আমাদের বিদেশে গিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে মিটিং করতে হচ্ছে। দেশের শিল্প খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না বললেই চলে।

ফলে ব্যাংকে অলস টাকা পড়ে আছে। রেমিট্যান্সও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। এ অবস্থায় কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্যেও রপ্তানি আয় মোটামুটি ধারাবাহিকতার মধ্যেই আছে। কিন্তু এখন গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্পকারখানায় ধস নামবে বলে জানালেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।

স্টক বাংলাদেশের সঙ্গে সে‍ামবার একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

২০১৮ সাল নাগাদ উচ্চমূল্যে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির কথা বলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে সরকার। প্রতি ঘনফুট গ্যাস সঞ্চালন চার্জ দশমিক ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে দশমিক ৩৩ টাকা করতে গত ২৬ জুন আবেদন করেছে জিটিসিএল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গতবার সরকার গ্যাসের ২৭ শতাংশ দাম বাড়ায়। এবার কোনো কোনো েেত্র তা ১৩০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি জনগণের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনবে।

কারণ, গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাসাভাড়া, যানবাহনের ভাড়া, চাল-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে দেশের বিশাল অংশের শ্রমজীবী মানুষের ওপর। তারা খুব কষ্টে থাকেন বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

siddikur rahman. 2
সিদ্দিকুর রহমান -ফাইল ছবি

ডলারের বিপরীতে টাকার মান বিষয়ে তিনি বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হওয়া এবং বিশ্ববাজারে পোশাকের দরপতনের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে এ খাতের উদ্যোক্তারা। সরকার বলছে, গ্যাস শেষ হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি আমরাও বুঝতে পারছি। তবে আমরা ব্যবসায়ীরা চাই, গ্যাসের দাম ধাপে ধাপে বাড়ানো হোক। এ ক্ষেত্রের ৫-১০ বছরের একটি পরিকল্পনা থাকলে ভালো।

গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা আগামী বছরের শুরুতে হলে সেটি শিল্পের জন্য ইতিবাচক হতো। এক বছরের ব্যবধানে ক্যাপটিভে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম ৪৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করলে কোনো শিল্পকারখানাই টিকিয়ে রাখা যাবে না। সরকারই একসময় ব্যবসায়ীদের ক্যাপটিভ নিতে উৎসাহিত করেছে। এখন আবার তা নিরুৎসাহিত করছে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তিন বছরের মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পনা নিয়েছে উল্লেখ করে সভাপতি বলেন, চলতি মাসে দেশটির সরকার ছয় হাজার কোটি রুপির বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। তা ছাড়া ভারতে প্রচুর পরিমাণে তুলা উৎপাদিত হয়, তাদের বস্ত্র খাত শক্তিশালী। বাংলাদেশের তুলার চাহিদার বড় অংশই বর্তমানে ভারত থেকে আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়।

এসব তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়ার আহ্বান জানিয়ে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গ্যাসের মূল্য বাড়ালে আমাদের বস্ত্র খাতের প্রতিযোগিতা সমতা শেষ হয়ে যাবে। দেশের সর্বোচ্চ পণ্য রপ্তানি আয়ের উৎস পোশাকশিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য হলেও পশ্চাদমুখী সংযোগ শিল্পকে শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here