টিপিপি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা : সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী

0
413
Screenshot_1
লি সিয়েন লুং

সিএনএ : সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ (টিপিপি) চুক্তি অনুমোদনের বিষয়টিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বিশ্বাসযোগ্যতার অগ্নিপরীক্ষা’ বলে অভিহিত করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসে ১২ জাতি টিপিপি চুক্তি অনুমোদন নিয়ে আশঙ্কা দেখা দেয়ায় তিনি এ মন্তব্য করলেন। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন।

পাঁচদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং সোমবার যুক্তরাষ্ট্র গেছেন। ইউএস চেম্বার অব কমার্স ও ইউএস-আসিয়ান বিজনেস কাউন্সিল ওইদিন তার সম্মানে এক সংবর্ধনা সভার আয়োজন করে। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প ও ব্যবসা খাতের দুই শতাধিক নেতা এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থীর অবস্থান টিপিপি চুক্তির ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়েছে। রিপাবলিকান দলীয় প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির বিরোধিতা করেছেন। ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন প্রথমদিকে চুক্তিটির পক্ষে থাকলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তার অবস্থান পাল্টেছে।

কংগ্রেসের প্রভাবশালী অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য চুক্তির কিছু বিষয়ে নতুন করে আলোচনার তাগিদ দিয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের অনেকে গোড়া থেকেই চুক্তিটি ঠেকিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী জানুয়ারির ২০ তারিখ নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব নেবেন। কাজেই প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় টিপিপি অনুমোদন না হলে চুক্তিটি ঝুলে পড়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএস চেম্বার ও ইউএস-আসিয়ান বিজনেস কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী বলেন, টিপিপি স্বাক্ষরকারী ১২টি দেশকে এ চুক্তিতে উপনীত হতে ছাড় দিতে হয়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা শুরুর কারো আগ্রহ নেই।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী মার্কিন আইনপ্রণেতাদের প্রতি টিপিপি চুক্তি অনুমোদনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার জন্য চুক্তিটি গুরুত্বপূর্ণ।

টিপিপি চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অর্থনৈতিক পালাবদলের রূপকার হবে বলে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, টিপিপির ১২টি পক্ষ বৈশ্বিক জিডিপির ৪০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে। এ দেশগুলো বিশ্ব বাণিজ্যের এক-তৃতীয়াংশ পরিচালনা করে। সম্মিলিতভাবে এ ১২টি দেশে ৮০ কোটি মানুষের বাজার রয়েছে।

এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কৌশলগত প্রস্তুতি হিসেবে মার্কিন সামরিক বাহিনী স্থায়ীভাবে সপ্তম নৌবহর মোতায়েন রেখেছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলে বহরের জাহাজগুলো মোতায়েন রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বলেন, ‘কৌশলগত বিচারে টিপিপি চুক্তিটি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সম্পৃক্ততার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজ কেবল সপ্তম নৌবহরের নয়।’

নির্বাচনের বছরে এমন একটি চুক্তির জন্য যথেষ্ট সমর্থন জোগানোর কাজটি সহজ নয় বলে সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন।

সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে। পরস্পরের অবস্থানের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃতীয় দেশের বাজারে ই-কমার্স, ফিনটেক, স্মার্টসিটিসহ অবকাঠামো খাতের নানামুখী সুযোগ উন্মোচনে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়।

চুক্তির সুবাদে মার্কিন কোম্পানিগুলো দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার বাজারে যাওয়ার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরকে প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজে লাগাতে পারবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারের সঙ্গে সিঙ্গাপুরের কোম্পানিগুলোর পরিচিতির সুযোগ নিতে পারবে। এছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার পথ উন্মোচনে সিঙ্গাপুরের কোম্পানিগুলো মার্কিন কোম্পানির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে।

সিঙ্গাপুরের পক্ষে বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাণিজ্য) লুক গহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইউএস অ্যান্ড ফরেন কমার্শিয়াল সার্ভিসেসের মহাপরিচালক ও বাণিজ্য  মন্ত্রণালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (গ্লোবাল মার্কেটস) অরুণ কুমার এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর লুক গহ বলেন, এ চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীরতর করবে। বাজার-সংক্রান্ত জ্ঞান, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক নেটওয়ার্কে দুই দেশের কোম্পানিগুলোর সামর্থ্যের সংযোগ ঘটিয়ে এ চুক্তি অবকাঠামো উন্নয়ন ব্যবসায় মূল্য সংযোজনে সহযোগিতা জোরদার করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here