ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানা স্থাপন করবে কে অ্যান্ড কিউ

0
636

সিনিয়র রিপোর্টার : নতুন ব্যবসা করবে মাল্টিমোড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড। সম্প্রতি ড্রাইসেল ব্যাটারির জন্য কার্বন রড ও আলকাতরার উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানিটি। কারখানাও কোম্পানি দুবাইভিত্তিক সিজে ফুডের কাছে ইজারা দিয়েছে।

অন্যদিকে মূল সম্পত্তির একটি অংশ কাছে রেখেছে কে অ্যান্ড কিউ। ওই জমিতে ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানা স্থাপন করে যৌথ ব্যবসা পরিচালনা করবে কে অ্যান্ড কিউর মূল প্রতিষ্ঠান মাল্টিমোড ও সিজে ফুড। এমন তথ্য নিশ্চিত করেন মাল্টিমোড গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিন।

জানা গেছে, ইজারা দেয়া ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০ বর্গফুটের এ জমি থেকে কে অ্যান্ড কিউ প্রতি বছর ১২ লাখ টাকার মতো আয় করবে। আগামী বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেবে কোম্পানি।

মাল্টিমোড গ্রুপের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ইফতেখার উদ্দিন বলেন, প্রায় ৪০ বছর একই মেশিনারিতে কারখানা চলছিল। অধিকাংশই উৎপাদন দক্ষতা হারিয়েছে। এছাড়া চীনের পণ্য সহজলভ্য হওয়ায় নতুন মেশিনারি কিনে শ্রমিকের খরচ দিয়ে ব্যবসায় ভালো করা প্রায় অসম্ভব।

ধারাবাহিক লোকসানের কারণে শ্রমিকদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ইজারা দেয়া সম্পত্তির আয় থেকে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ ও মুনাফা দেয়া হবে। বাকি জমির ওপর নতুন কোনো ব্যবসা শুরুর ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। সেক্ষেত্রে পুরনো নামেই নতুন ব্যবসা পরিচালনা করবে কোম্পানি।

তিনি আরো বলেন, ধারাবাহিক লোকসানের কারণে কোম্পানির বর্তমান দায় ৪ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের বিদায় করে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ায় ট্যাক্স, ভ্যাটসহ সব ধরনের খরচ কমে যাবে। আশা করছি ইজারা থেকে বার্ষিক আয়ে কে অ্যান্ড কিউ ধীরে ধীরে লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবে।

নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি চীনা পণ্যের কাছে বাজার হারানোয় দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে ছিল মাল্টিমোড গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ) লিমিটেড। সম্প্রতি ড্রাইসেল ব্যাটারির জন্য কার্বন রড ও আলকাতরার উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানিটি।

কারখানা প্রাঙ্গণের অর্ধেক জমি এরই মধ্যে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেয়া হয়েছে। অবশিষ্ট জমির সদ্ব্যবহার করতে নতুন ব্যবসা খুঁজছে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি।

সূত্র জানিয়েছে, ৪০ বছরের পুরনো মেশিনারি দিয়ে কারখানা পরিচালনা করায় দীর্ঘদিন ধরেই সক্ষমতা হারাচ্ছিল কোম্পানিটি। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে ড্রাইসেল ব্যাটারির চাহিদাও অনেক কমে গেছে। পণ্যের মান ধরে রেখে, কর্মীদের বেতন ও অন্যান্য খরচ মিটিয়ে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠছিল না কোম্পানিটি।

বাড়ছিল লোকসানের বোঝা। পুঞ্জীভূত লোকসান কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের কাছাকাছি চলে যায়। এমন পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে কারখানার আধুনিকায়ন করলেও এর ব্যবসায়িক সাফল্য সম্পর্কে নিশ্চিত ছিল না কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

এ অবস্থায় কারখানা বন্ধ করে দিয়ে সম্প্রতি ঢাকার ধামরাইয়ে নিজস্ব জমির একটি অংশ দুবাইভিত্তিক এক প্রতিষ্ঠানকে ১৫ বছরের জন্য ইজারা দিয়েছে কে অ্যান্ড কিউ। বাকি জমিতে কোম্পানির একটি সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন রয়েছে।

কোম্পানি সূত্র জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতা করার মতো নতুন ব্যবসার সম্ভাব্যতা যাচাই করছে তারা।

ড্রাইসেল ব্যাটারির ইলেকট্রোড হিসেবে ব্যবহৃত কার্বন রড প্রস্তুত করত কে অ্যান্ড কিউ। কারখানার অন্য ইউনিটে আলকাতরাও উৎপাদন করত তারা। দেশে ড্রাইসেল ব্যাটারির সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল রেডিও, ওয়াকম্যান এবং টর্চ লাইটের জন্য। তবে মোবাইল হ্যান্ডসেটেই সব সুবিধা পাওয়ায় সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এসব যন্ত্রের ব্যবহার অনেক কমেছে।

সেই সঙ্গে কমছে ড্রাইসেল ব্যাটারি ও কে অ্যান্ড কিউ উৎপাদিত কার্বন রডের চাহিদা। অন্যদিকে সংকোচনশীল আলকাতরার বাজারে নতুন নতুন প্রতিযোগী চলে আসায়  সেখানেও সুবিধা করতে পারছিল না কে অ্যান্ড কিউ। বিক্রি ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকায় কয়েক বছর ধরেই লোকসান দিয়ে চলছিল কোম্পানিটি।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ সালে লোকসানের শুরু। পরবর্তী বছরগুলোয় লোকসান কমতে থাকলেও ৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানিটির পুঞ্জীভূত লোকসান ৪ কোটি ২৪ লাখ টাকায় ঠেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here