বীমা কোম্পানির সম্পদ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, ৭৭ শতাংশ জীবন বীমার

0
808

সিনিয়র রিপোর্টার : বীমা খাতে নেই সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা। এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ নীতিমালাও চূড়ান্ত করতে পারেনি বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। তবে নীতিমালা না থাকায় বীমা কোম্পানির বিনিয়োগ জমি ও বহুতল ভবনেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

২০১৫ সাল শেষে দেশের বীমা কোম্পানিগুলোর সম্পদ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যার ৭৭ শতাংশ জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর। কোম্পানিগুলোর ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত জীবন বীমা খাতের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা, যা ২০১৪ সালে ছিল ৩১ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা।

অন্যদিকে ২০১৫ সালে সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা, যা এর আগের বছর ছিল ৮ হাজার ৫০১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। এতে দেশের বীমা কোম্পানির মোট সম্পদ ৪৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে জানায় আইডিআরএ সূত্র।

জানা গেছে, জীবন বীমা খাতে বরাবরের মতো সম্পদের শীর্ষে রয়েছে বহুজাতিক কোম্পানি মেটলাইফ। ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ১১২ কোটি টাকা। তবে এ খাতের দেশীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যরেন্স। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত এ কোম্পানির সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১২৭ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা ন্যাশনাল লাইফের সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৯১১ কোটি টাকা। এর পরই রয়েছে ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের অবস্থান। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত এ কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা।

তালিকার চতুর্থ স্থানে থাকা পপুলার লাইফের সম্পদের পরিমাণ ২ হাজার ৮৮৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা করপোরেশনের সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা, মেঘনা লাইফের সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা।

এদিকে সাধারণ বীমা খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান সাধারণ বীমা করপোরেশনের সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। ২০১৫ সালে এ কোম্পানির সম্পদ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। তবে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে সম্পদের শীর্ষে রয়েছে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স। এ কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৬৬ কোটি টাকা।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের সম্পদের পরিমাণ ৬৩০ কোটি টাকা। তালিকার তৃতীয় স্থানে থাকা প্রগতি ইন্স্যুরেন্সের সম্পদের পরিমাণ ৪০২ কোটি টাকা। এছাড়া পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের সম্পদের পরিমাণ ২৩২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, রূপালী ইন্স্যুরেন্সের সম্পদের পরিমাণ ২১৮ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা নাসির এ চৌধুরি বলেন, আমরা বরাবরই পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে আসছি। গ্রাহককে দেয়া প্রতিশ্রুতি ঠিক রাখার বিষয়ে আমরা সচেতন। ফলে ক্রমেই একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে গ্রীন ডেল্টা।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে বীমার চাহিদা আছে বলেই এ খাতে সম্পদ ও বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ছে। তাই এ-সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা এখন সময়ের দাবি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনীতিতে বীমা খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য নয়। কোম্পানিগুলো বরাবরই বলে আসছে দেশে বীমার ভালো বাজার নেই। কিন্তু এর মধ্য দিয়েই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছে একেকটি বীমা কোম্পানি। তাই নিয়ন্ত্রণ সংস্থার উচিত, দ্রুত সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা চূড়ান্ত করা।

আইডিআরএ সূত্রে জানা যায়, বীমা খাতে সম্পদ ব্যবস্থাপনা খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। বীমা খাতে সম্পদের ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগ বন্ধে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএর সদস্য কুদ্দুস খান বলেন, আইন অনুযায়ী বীমা খাতের জন্য সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা তৈরি হয়েছে, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। আশা করছি শিগগিরই এর অনুমোদন হবে।

বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ) সূত্রে জানা যায়, বীমা খাতের অর্থ অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের জন্য ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক-বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছিল সংগঠনটি। এর পর তার পরামর্শে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হলেও বিষয়টি আর আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়ে বিআইএর চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন বলেন, দেশের বীমা খাত বড় হচ্ছে, বাড়ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদের পরিমাণ। তবে এ সম্পদের মালিক কোম্পানির পরিচালকরা নন, সাধারণ বীমা গ্রহীতারা। তাই গ্রাহকের স্বার্থে আইডিআরএর উচিত, দ্রুত সম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা চূড়ান্ত করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here