আইপিওভুক্ত ইয়াকিন পলিমারের উদ্দেশ্য ‘ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়ার বাজার দখল’

0
1953

ইয়াকিন পলিমারের উদ্দেশ্য ‘ইউরোপ-অস্ট্রেলিয়ার বাজার দখল’ করা। নিজেদের পণ্যের বিস্তৃতি ইউরোপ ও অস্ট্রেয়িায় ছড়িয়ে দেয়া। বাংলাদেশের অনেক কোম্পানি বিদেশে তাদের পণ্য রপ্তানী করে। তবে এসব কোম্পানি বিদেশের বিশাল বাজারের সামান্য অংশ দখলে নিতে পেরেছে। আরো বিশাল মার্কেট পড়ে রয়েছে। ওই বাজারে কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলেও আমরা সফল।

ইয়াকিন পলিমারের বিদেশের বাজার নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে বা আমাদের সঙ্গে যারা আসছেন তারাও সফল হবেন, আশা করছি। সম্প্রতি এসব কথা বলেন ইয়াকিন পলিমার লিমিটেডের শীর্ষ স্থানীয় এক কর্মকর্তা। স্টক বাংলাদেশ পত্রিকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি আলোচনা করতে সম্মতি প্রকাশ করেন। আলোচনার সেই চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো। লিখেছেন -শাহীনুর ইসলাম

ইয়াকিন পলিমার নিয়ে সম্প্রতি রাজধানীর মালিবাগ অফিসে কোম্পানির উৎপাদন ব্যবস্থা, রপ্তানীকরণ প্রক্রিয়া এবং সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়। সেখানে অন্তরঙ্গ আলোচনায় তিনি বলেন, আমাদের ইয়াকিন পলিমারের নিজস্ব কারখানা রয়েছে সাতক্ষীরার লুবসায়। প্রায় ৭০০ লোক এখানে কাজ করেন। একই সঙ্গে সাতক্ষীরা ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলে এ কোম্পানি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এ প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের পর ইয়াকিন পলিমার নতুন সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। তৈরি করতে থাকে সামাজিক বিভিন্ন পণ্য।

Screenshot_4
ইয়াকির পলিমারের তৈরি পণ্য

কোম্পানিটি নিজস্ব কারখানায় বিভিন্ন ধরণের ব্যাগ তৈরি এবং বিদেশে রপ্তানী করে। চলতি বছরে ইয়াকিন প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে প্রথম চমক রাখে। যে কারণে কোম্পানির বার্ষিক টার্নওভার দেশীয় বাজারে হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।

ইতোমধ্যে একই সারির পুঁজিবাজারে বেশ কিছু কোম্পানি তালিকাভুক্ত রয়েছে। যেমন- খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন, মিরাকল, সিনোবাংলা, দেশবন্ধু পলিমারসহ অনেক। এসব কোম্পানি দেশ ও আন্তর্জাতিকভাবে তাদের বাজার সৃষ্টি করেছে।

তবে দেশিয় ও আন্তর্জাতিক বাজার দখলে ইয়াকিন পলিমারের সক্ষমতা কতটুকু -এমন প্রশ্নের জবাবে নাম না প্রকাশ করার শর্তে তিনি বলেন, আমাদের সক্ষমতাও রয়েছে। তবে সিনোবাংলা এবং মিরাকল কোম্পানি অনেক ভালো করেছে। আমরাও তাদের দিকে দৃষ্টি রেখেছি এবং আমরাও তুলনামূলক অনেক ভালো করছি।

শুধু দেশিয় বাজারে নয়, এক্সপোর্ট সেক্টরের এগুলো কোম্পানি ভালো করছে। তাদের মধ্যে সিনোবাংলা বেশি ভালো করেছে। ইউরোপ এবং অস্টেলিয়ার এসব কোম্পানির পণ্যের বা তৈরি ব্যাগের বিশাল মার্কেট রয়েছে। ইতোমধ্যে শুধুমাত্র ওভেন ব্যাগ রপ্তানী সামান্য অংশ দখল নিতে পেরেছে বাংলাদেশের সব কোম্পানি। এরসঙ্গে রপ্তানী তালিকায় জাম্বো ব্যাগসহ রয়েছে আরো অনেক প্রকার ব্যাগ। প্রায় ২০ প্রকারের সামাজিক পণ্য আমাদের কোম্পানি তৈরি ও রপ্তানী করছে। তবে আমাদের দৃষ্টি আরো দূরে।

বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে আরো বাড়ানোর জন্য বেশ উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপ এবং অস্ট্রেলিয়ায় যে বাজার রয়েছে, সেখানে জাম্বো ব্যাগের বেশ চাহিদা। ঢাউস আকৃতির এই ব্যাগে তারা পণ্য আনা-নেয়ার কাজে ব্যবহার করে।

বাংলাদেশের অনেক কোম্পানি বিদেশে ব্যাগ রপ্তানী করে। তবে এমন আরো শত কোম্পানি হলেও আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিশাল বাজারের সামান্য অংশ দখল করতে পারব। এরপরে ইউরোপের আরো বিশাল বাজার পড়ে রয়েছে। যে কারণে ব্যবসা সম্প্রসারণে আমাদের আরো কিছু টাকা দরকার। সে টাকা সংগ্রহে এবং ব্যবসার পরিধী বাড়াতে আইপিওতে আসা। আমাদের আরো নিউ প্রডাক্ট নিয়ে সে বিদেশের বাজার দখলের চেষ্টা করতে হবে। তবে আমাদের সে চেষ্টা চলছে।

দেশিয় বাজার দখল সম্পর্কে তিনি বলেন, বাজারে প্রায় ৬০ টির অধিক কোম্পানি রয়েছে। কোন কোম্পানি কি পরিমাণে বাজার দখল করেছে, সেই মার্কেট সার্ভে করে দেখা হয়নি। সেজন্য বলা সম্ভব নয়। তবে আমাদের বাজার রোজ বাড়ছে।

বিনিয়োগকারীর টাকার নিশ্চয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, তাদের পাওনা ফেরত প্রদানের নিশ্চয়তা দিতে পারি। শেয়ারহোল্ডাররা যাতে আমাদের শেয়ার ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে বিষয়ে আমরা সচেতন।

লকিন শেয়ারের লভ্যাংশ প্রদান সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা পর্যায়ক্রয়ে ১০ শতাংশ, সাড়ে ৭ শতাংশ এবং ৫ শতাংশ হারে লভ্যাশ প্রদান করেছি। লভ্যাংশ প্রদানের পরিমাণ ভালো না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা নতুন ফান্ড নিয়ে কাজ করছি। যে কারণে আমাদের শেয়ার হোল্ডারদের মতের ভিত্তিতে আমরা এ লভ্যাংশ দিয়েছি।

উদ্যোক্তরা কোম্পানি এগিয়ে নিতে চান এবং সাধারণ শেয়ার হোল্ডাররা চান বিনিয়োগের লভ্যাংশ। সে দিকে আমাদের দৃষ্টি থাকবে। কোম্পানির জমির পরিমাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, লুবসায় কোম্পানির কারখানা ২.৭৬ একর জমির ওপর নিরর্মাণ করা হয়েছে।

ইয়াকিন পলিমার সম্পর্কে ইস্যু ব্যবস্থাপক কোম্পানি ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেডের সিইও সালাহউদ্দিন শিকদার স্টক বাংলাদেশকে বলেন, কোম্পানির গ্রোথ বেশ ভালো। আশা করা যায়, এটি অনেক ভালো করবে। কারণ, ইয়াকিনের পরিচালনা পর্ষদ বেশ অভিজ্ঞ এবং সুশৃঙ্খল।

তাই ইয়াকিনের সম্ভাবনা রয়েছে এবং ভালো কিছু আশা করা যায়। অন্যদিকে কোম্পানির গ্রোথ অনুযায়ী বিনিয়োগকারীর অর্থের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কিছু নেই বলা যায়। ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাশা (shasha) ডেনিমসেরও ইস্যু ব্যবস্থাপক ছিল, তাদের গ্রোথ এবং বর্তমানে শেয়ার দর দেখুন। শাশা কতোটা ভালো করেছে, তাই ইয়াকিন পলিমারও করবে বলে আমার বিশ্বাস।

Screenshot_1 Screenshot_2 Screenshot_3পেছনের খবর : আইপিওভুক্ত ইয়াকিন পলিমারের ‘আমলনামা’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here