ইটিএফ বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত

0
435

ডেস্ক রিপোর্ট : দেশীয় শেয়ারবাজারে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) চালুর সিদ্ধান্ত নেয়ার পর প্রায় দেড় বছর পর সংশ্লিষ্ট বিধিমালার খসড়া চূড়ান্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কমিশনের নিয়মিত সভায় আজ এর খসড়া অনুমোদন হতে পারে। এর পর জনমত যাচাইয়ের পর জুনের মধ্যে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২২ জুনের মধ্যে ইটিএফ চালুর পরিকল্পনা ছিল বিএসইসির। তবে এ বিষয়ে তেমন অগ্রগতি না থাকায় গত মার্চে অর্থ মন্ত্রণালয় অসন্তোষ প্রকাশ করে। এর পরই ইটিএফ বিধিমালাটি তৈরির উদ্যোগ নেয় কমিশন।

জানা গেছে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো স্টক এক্সচেঞ্জের নির্দিষ্ট সূচক, সূচকভুক্ত কোম্পানি কিংবা নির্দিষ্ট খাতের শেয়ারে বিনিয়োগের লক্ষ্যে দেড় বছর ধরে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড চালু করতে যৌথভাবে কাজ করছে দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও স্টক এক্সচেঞ্জগুলো।

বিদ্যমান মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালার আওতায় বিশেষ ধরনের এ সামষ্টিক তহবিল চালু বা পরিচালনা সম্ভব না হওয়ার কারণেই আলাদা বিধিমালা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কারণ বিশ্বের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রকদের সংঘ ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনসের (আইওএসসিও) সিদ্ধান্ত অনুসারে, ইটিএফ ও মিউচুয়াল ফান্ডের মতো অন্যান্য সমষ্টিগত বিনিয়োগ তহবিলের (সিআইএস) জন্য আলাদা বিধিমালা থাকতে হবে সদস্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর।

উল্লেখ্য, উন্নততর ট্রেডিং প্লাটফরম চালুর পর ২০১৪ সালের ২১ অক্টোবর নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে ইটিএফ চালুর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয় ডিএসই। এ লক্ষ্যে কমিশন গঠিত কমিটি এরই মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদনও প্রস্তুত করে। তবে ওই প্রতিবেদনে ইটিএফ ফান্ডের আকার কত হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের ইটিএফ তহবিল বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা নেয়ার পরই এ তহবিলের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন আকার নির্ধারণ করা হয়েছে। জানা গেছে, ইটিএফের আকার সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ও সর্বনিম্ন ১০ কোটি টাকা রাখা হতে পারে। বর্তমানে মিউচুয়াল ফান্ডের আকার ন্যূনতম ৩০ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, ইটিএফ এক প্রকার বে-মেয়াদি (ওপেন-এন্ড) সমষ্টিগত বিনিয়োগ তহবিল। তবে বে-মেয়াদি হলেও এসব ফান্ডের ইউনিট সেকেন্ডারি বাজারে কেনাবেচা সম্ভব। প্রথাগত বে-মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড সাধারণত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয় না। এছাড়া প্রথাগত মিউচুয়াল ফান্ড থেকে তালিকাভুক্ত-তালিকাবহির্ভূত যেকোনো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা যায়। অন্যদিকে ইটিএফ কেবল শেয়ারবাজারের সূচক, সূচকভুক্ত কোম্পানির শেয়ার বা পূর্বনির্দিষ্ট খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারে।

দেশীয় শেয়ারবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং মৌলভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্যই এ ফান্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ের উদ্যোক্তা বা সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি নির্দিষ্ট পরিমাণ ফান্ড নিয়ে এ ধরনের ফান্ড চালু করতে পারবেন। নির্দিষ্ট সূচকে থাকা কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ নির্ভর ফান্ড হওয়ায় এতে সূচকের গতি-প্রকৃতি প্রতিফলিত হয়। সাধারণত যেসব বিনিয়োগকারী নির্ধারিত সূচকে অন্তর্ভুক্ত সব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে চান, কিন্তু সক্ষমতা নেই এবং যেসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী পোর্টফোলিও খরচ কমাতে চান, তারাই ইটিএফ ফান্ডের শেয়ারের ক্রেতা।

প্রচলিত মিউচুয়াল ফান্ডের সঙ্গে ইটিএফের বৈশিষ্ট্যগত আরেকটি বড় পার্থক্য হচ্ছে, প্রচলিত মিউচুয়াল ফান্ডের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে সংগ্রহ করা গেলেও ইটিএফ তা করতে পারে না। ইটিএফ বাজারে শুধু বড় ব্লক (৫০ হাজার শেয়ারে ব্লক হতে পারে) ইস্যু করতে পারে, যা ‘ক্রিয়েশন ইউনিট’ নামে পরিচিত। সাধারণত ব্যাংক, ব্রোকার-ডিলার, পেশাদার ট্রেডিং হাউজ, ইনস্টিটিউশনাল ফার্ম বা বিশেষজ্ঞ দ্বারা অনুমোদিত অংশগ্রহণকারীরা ম্যাচিং পোর্টফোলিও (ইটিএফে যে পোর্টফোলিও প্রতিফলিত হয়) বিনিময়ের মাধ্যমে ইটিএফের ক্রিয়েশন ইউনিট নিতে পারবেন।

ক্রিয়েশন ইউনিট কেনার পর প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা এর পৃথকীকরণ করতে পারবেন এবং সেগুলো সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে ক্রিয়েশন ইউনিটের আকার-সংখ্যার হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়গুলো প্রসপেক্টাসে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে।

এছাড়া ইটিএফ শুধু প্রসপেক্টাসে উল্লিখিত নির্ধারিত সূচকে অন্তর্ভুক্ত সিকিউরিটিজেই বিনিয়োগ করতে পারবে। প্রথা অনুযায়ী, স্টক এক্সচেঞ্জ তার সূচকে অন্তর্ভুক্ত কোম্পানির তালিকায় কোনো পরিবর্তনের বিষয়টি আগেই ফান্ডকে জানিয়ে দেবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here