বাজারের অসুখ ‘শেয়ার নিয়ে জুয়া খেলা’

0
1784

রাহেল আহমেদ শানু : ‘শেয়ারবাজারের অসুখ হলো- এক-দুটো শেয়ার নিয়ে জুয়া খেলা। এটাকেও স্বাভাবিক হিসেবে নেয়া যেতে পারে। কারণ বাজারে ভালো শেয়ারের অনেক অভাব। বাজার বড় হলে এবং বাজারে ভালো শেয়ারের সরবরাহ বাড়লে এ অসুখটা চলে যাবে’

অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন এসব কথা। আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সম্প্রতি আসা নতুন কোম্পানির শেয়ার সম্পর্কে তিনি বলেন, সত্য কথা হলো- গত তিন বছরে আইপিওর মাধ্যমে যত শেয়ার বাজারে প্রবেশ করেছে, সেগুলোর অধিকাংশই জং ধরা শেয়ার।

‘পুঁজিবাজারে কেন এই অসুস্থতা’ সে সম্পর্কে তিনি নিঃশঙ্কোচে প্রকাশ করেন, আমি বিএসইসি এবং আরো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করি, শেয়ারবাজারের অসুস্থতার পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে ঢোল পেটানোর চেয়ে ভালো হবে কোন কোন পথে বড় রকমের অর্থ বাজারের বাইরে চলে যাচ্ছে, সে পথগুলো বন্ধ কর‍ার।

গত তিন বছরে বাজারে তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানির শেয়ার ইস্যু মূল্যে নিচে নেমেছে। কোনটির দর নেমে এসেছে ইস্যু মূল্যের কাছে খুব কাছে। এসব কোম্পানির অনেক শেয়ারধারী ‍আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত হাতবদল করছেন। এমন চিত্র চোখে পড়ে বিশেষত আইপিও মাধ্যমে বাজারে আসা নতুন কোম্পানির প্রথম ও দ্তিীয় কার্যদিবসের লেনদেনে।

প্রিমিয়াম নিয়ে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া এসব অনেক কোম্পানির অবস্থা করুণ। তাদের মধ্যে কয়েকটির চিত্র নিচে তুলে ধরা হল-

হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেড (HFL) আইপিও’র মাধ্যমে বাজারে ৩ কোটি শেয়ার ইস্যু করে ১০৫ কোটি টাকা উত্তোলন করে। অভিহিত মূল্য ১০ টাকার সাথে ২৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ার কিনতে বিনিয়োগকারীদের মোট ৩৫ টাকা গুনতে হয়।

গত বছরের ৫ ডিসেম্বব ৬০ টাকায় হামিদ ফেব্রিক্সের লেনদেন শুরু করেলেও তা এখন ইস্যু মূল্যের কাছে। বুধবার ১৩.৭০ টাকায় দিনের শেষ লেনদেন হয়েছে।

দ্য পেনিনসুলা চিটাগং লিমিটেড ১০ টাকা ফেসভ্যালুর সাথে ২০ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে প্রতিটি শেয়ারের ইস্যুমূল্য দাঁড়ায় ৩০ টাকা। কোম্পানিটি ২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩০ টাকা মূল্যে ৫ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করেছিল। ডিএসইতে বুধবার সে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর হয়েছে ১৪.৪০ টাকা।

২০১৫ সালে পুঁজিবাজার থেকে আইপিও’র মাধ্যমে ১২টি কোম্পানি ৮৩০ কোটি টাকা তুলেছে। এরমধ্যে পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেনকারী ৭টি কোম্পানিই নিয়েছে প্রিমিয়াম।

আইপিও’র মাধ্যমে সাধারণ শেয়ারহোল্ডার কাছ থেকে নেয়া ৮৩০ কোটি টাকার মধ্যে প্রিমিয়াম বাবদ নেয়া হয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা। তবে প্রিমিয়ামসহ টাকা তুলে নেয়া এসব কোম্পানির বেশিরভাগই তার অবষ্থান ধরে রাখতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক বিনিয়োগকারী।

২০১৫ সালে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টাকা তুলে নেয় রিজেন্ট টেক্সটাইল। প্রতিষ্ঠানটি পুঁজিবাজার থেকে অর্থ তুলেছে ১২৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে প্রিমিয়াম হিসেবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে ৭৫ কোটি টাকা। বুধবার সেই কোম্পানির শেয়ারপ্রতি দর হয়েছে ১১.৭০ টাকা। যা বিস্ময়কর।

দেখ‍ুন খবর : তিন আইপিও ‘শুষে নিচ্ছে তরল মানি’

তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৬ টাকা প্রিমিয়ামসহ ২৬ টাকায় শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন পায়। কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৪৫ লাখ ৬৬ হাজার শেয়ার ছেড়ে ৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা সংগ্রহ করে। বুধবার ডিএসইতে তসরিফার শেয়ারপ্রতি দর হয়েছে ১৫ টাকা।

অন্যদিকে সাফল্য ধরে রেখেছে খুব অল্প সংখ্যক কোম্পানি। ‘অধিকাংশই জং ধরা শেয়ার’ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আবু আহমেদ মনে করেন, একটা ভালো ব্যাখ্যা আসতে পারে কেবল আমরা যদি অর্থনীতি শাস্ত্রের জ্ঞানগুলোকে সামগ্রিকভাবে প্রয়োগ করি।

পেছনের খবর : ৭টি কোম্পানি প্রিমিয়ামে নিয়েছে ৪৫৬ কোটি টাকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here