‘অসৎ কর্মকাণ্ডেই বীমা খাতের বেহাল দশা’

0
796

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : সরকারিভাবে প্রচার-প্রচারণার অভাব ও কিছু কোম্পানির অসৎ কর্মকাণ্ডের কারণেই বীমা খাতের আজ বেহাল দশা। তবে এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত। সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বীমা খাতের জনপ্রিয়তা বাড়বে।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের নিজ অফিস কক্ষে কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অজিত চন্দ্র আইচ একান্ত সাক্ষাৎকারে স্টক বাংলাদেশকে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, পাশের দেশ ভারতে বীমা খাতের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। এর মূল কারণ হচ্ছে সেখানে সরকারি-বেসরকারিভাবে বীমার প্রচার প্রচারণা ব্যাপক। বীমা খাত থেকে সেদেশের সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছে। আমাদের দেশেও সরকার বীমা খাত থেকে অর্থ উপার্জন করছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতা করছে না। অথচ এই খাত নিয়ে সরকারের তরফ থেকে যদি মিশিল, মিটিং, শ্লোগান, ব্যানার, ফ্যাস্টুন টাঙ্গানো হতো তবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা বাড়তো বীমা খাতের।

তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীনের পর থকে জীবন বীমা কর্পোরেশনের কিছু অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অসৎ কর্মকাণ্ডের কারণে বীমার গ্রাহকরা ঠিকভাবে সেবা পায়নি। যেকারণে এই খাত সর্ম্পকে মানুষের অনিহা শুরু থেকেই। এছাড়াও ২০০১ সালে যে ১১টি বীমা কোম্পানি কার্যক্রম শুরু করে তার মধ্যে ২/৩টি ছাড়া বাকি সবগুলো কোম্পানি গ্রাহক সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

মূলত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব ও কিছু বীমা কোম্পানির অসৎ কর্মকাণ্ডের কারণে বীমা খাত নিয়ে সাধারণ মানুষ চরম হতাশ। তবে উচ্চ বিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর কাছে জনপ্রিয় না হলেও স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে এখনও বীমার প্রয়োজনীয়তা এখনও রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১ আগষ্ট থেকে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কার্যক্রম শুরু করে। শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি সফলতার সাথে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দেশের মোট ১৬টি জেলায় এর কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৫টি বীমা নিয়ে কাজ করছে। যেসব বীমা নিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে-পেনশন বীমা, মাসিক সঞ্চয়ী বীমা, তাকাফুল বীমা, ব্যাংক এসুওরেন্স, শিশু নিরাপত্তা, শিশু শিক্ষা ও মেয়াদী বীমা।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বীমা কোম্পানির মতো মানুষ বা কাগজের মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে আমরা লেনদেন করি না। শুরু থেকেই আমরা ১০০ শতাংশ ইনটিগ্রিটেড সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকদের সার্ভিস দিয়ে আসছে। সর্ম্পূণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে গ্রাহকরা লেনদেন করে থাকে আমাদের সাথে। গ্রাহকরা তাদের বীমার টাকা বিকাশ বা ব্যাংকের মাধ্যমে আমাদের প্রতিষ্ঠানে জমা দেয়ার সাথে সাথেই তাদের মোবাইলে ম্যাসেজ চলে যায়। ম্যাসেজের মাধ্যমে গ্রাহকদের টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। পৃথিবীর যেকোন প্রান্ত থেকে সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহকরা নিজ নিজ বীমার অবস্থা সর্ম্পকে জানতে পারবে।

DSC03456অজিত চন্দ্রা আইচ আরও বলেন, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। ২০১৫ সালের একক বীমা থেকে ৬ কোটি টাকা, গ্রুপ বীমা থেকে ১৫ কোটি টাকা ও নবায়ন প্রিমিয়াম থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি আইপিওতে আসবে বলে জানান তিনি।

পরিশেষে তিনি বীমা খাতের উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, বীমার উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারিভাবে শ্লোগান, মিছিল, মিটিং করতে হবে। প্রশিক্ষণ দিয়ে নতুন নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে হবে বীমা কোম্পানিগুলোকে। বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় বীমা কোম্পানীরগুলোর শাখা খুলতে হবে। সকল প্রকার জালিয়াতি, প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বাদ দিয়ে গ্রাহকদের সঠিকভাবে সেবা দিতে হবে। তবেই এখাতের উন্নয়ন সম্ভব বলে জানান তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here