কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘নীতি সহায়তা’ ‘ইতিবাচক’

0
1221

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বেশ কিছুদিন ঝুলে থাকা বিষয়টির ‘ইতিবাচক’ সমাধান হওয়ায় পুঁজিবাজার মঙ্গলবার ‘ঘুরে’ দাঁড়িয়েছে। এমনটাই মনে করছেন আইডিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান।

যে কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স মঙ্গলবার বেড়েছে ১০০ পয়েন্টের বেশি। চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩০৭ পয়েন্ট। লেনদেনও বেড়েছে দুই বাজারে; সঙ্গে বেড়েছে বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর।

একই সঙ্গে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আস্থা ফেরাতে ‘চার ইস্যুর’ সোমবারের বৈঠক অনেক বিনিয়োগকারীর আস্থার যোগান দিতে শুরু করেছে।

কারণ, বিক্রির চাপে দরপতন ঠেকাতে ‘কোম্পানির স্পন্সরদের শেয়ার বিক্রি বন্ধ রাখা‘ উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বলেন দেশের শীর্ষ মাচেন্ট ব্যাংকের এক কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার যে নীতি সহায়তা ঘোষণা করেছে তাতে এখন থেকে ব্যাংকের হাতে থাকা শেয়ার ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগের জন্য দেওয়া ঋণ ওই সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এর ফলে শেয়ার বিক্রি না করে তা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মূলধনে রূপান্তরের মাধ্যমে ব্যাংক নিজের বিনিয়োগ আইনি সীমার মধ্যে নামিয়ে আনতে পারবে।

বেশ কিছুদিন ঝুলে থাকা বিষয়টির ‘ইতিবাচক’ সমাধান হওয়ায় বাজার ‘ঘুরে’ দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন আইডিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে নীতি সহায়তা দিয়েছে, তাতে ব্যাংকগুলোর বড় একটা ভার কমেছে। এখন শেয়ার বিক্রির চাপ কমে যাবে। বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে বলে মনে করছি আমরা।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক যথাযথ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সমন্বয় নিয়ে যে দুশ্চিন্তা ছিল তা দূর হয়েছে।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মূলধনের (পরিশোধিত মূলধন, স্ট্যাটিউটরি রিজার্ভ, রিটেইনড আর্নিং ও শেয়ার প্রিমিয়ামের যোগফল) সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পারে।

২০১০ সালে বেশ কিছু ব্যাংক পুঁজিবাজারে ব্যাপক পরিমাণে বিনিয়োগের প্রেক্ষিতে ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ওই সীমা বেঁধে দেয়।

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক এই বিনিয়োগ সীমা বেঁধে দিয়েছিল।

একইসঙ্গে যেসব ব্যাংকের বিনিয়োগ তাদের মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি আছে তাদের তা কমিয়ে সীমার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য ২০১৬ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।

বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে এই সময়সীমা আরও দুই বছর বাড়ানোর দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু তা না করে সোমবার ‘নীতি সহায়তা’ দেওয়ার সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ডিএসইর ওয়েবসাইটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মঙ্গলবারের আগে ১৫ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক প্রায় ৩০০ পয়েন্ট কমে যায়। টানা ৭ কার্যদিবসে কমে ২০০ পয়েন্টের বেশি।

মঙ্গলবার দুই বাজারেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়। ডিএসইএক্স ১০০ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ৪১ শতাংশ বেড়ে ৪২৭২ দশমিক ১৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

পেছনের খবর : ব্যাংক এক্সপোজার লিমিটের ফাঁদে পুঁজিবাজার, তীব্র ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া

আরো খবর : এক্সপোজার লিমিটের বিকল্প ‘সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে ঋণ’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here