দ্বিগুণ হলো কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন ফি

0
1186
ডেস্ক রিপোর্ট : কোম্পানি আইনের অধীন কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিভিন্ন ফি দ্বিগুণ করেছে সরকার। যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধক (আরজেএসসি) কোম্পানি আইন অনুযায়ী এ সব ফি আদায় করে থাকে।

সোমবার (২ মে) ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’ এর তফসিল-২ এ উল্লেখিত ফিস (কর বহির্ভুত রাজস্ব) পুনঃনির্ধারণ প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ২০০৭ সালে তফসিলটি যখন পুনর্বিন্যাস করা হয়, তখন কিছু ফি বৃদ্ধি করা হয়। এরপর ৮ বছর পর এটা আবার পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। সার্বিকভাবে বলা যায় ফি দ্বিগুণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমাদের রাজস্ব সংগ্রহ জনিত বাধ্যবাধকতা আছে। এ খাতে আমরা ৭০ কোটি টাকার মতো পাই। যেহেতু আমাদের অর্থনীতির আকার অনেক বড়, এজন্য এটাকে বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এটা অনুমোদিত হওয়ার প্রেক্ষিতে এ খাত থেকে রাজস্ব দ্বিগুণ হবে। আমরা আশা করছি এখন ৭০ কোটির স্থলে দেড়শ কোটি টাকা থেকে পাওয়া যাবে।

ফি বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে শফিউল আলম বলেন, শেয়ার মূলধন সম্পন্ন কোম্পানির নিবন্ধন ফি (কোম্পানির শেয়ার মূলধন সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা) ৩৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে। শেয়ার ২০ মূলধন ২০ হাজার টাকার বেশি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতি ১০ হাজার টাকা বা এর অংশ বিশেষের জন্য ফি ১৮০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতি ১০ হাজার বা এর অংশ বিশেষের জন্য নিবন্ধন ফি ৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। প্রথম ১০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রতি দশ হাজার টাকা বা এর অংশ বিশেষের ফিস ২৪ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫০ টাকা করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, কোম্পানি আইনের অধীন প্রয়োজনীয় বা অনুমোদিত কোন কিছু রেজিষ্ট্রারের মাধ্যমে লিপিবদ্ধ করানোর ফিস ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা করা হয়েছে।’

রিসিভার নিয়োগ নিবন্ধন ফি ২০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪০০ টাকা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

শেয়ার-মূলধনবিহীন কোন কোম্পানি এবং ধারা ২৮ এর অধীন দেওয়া লাইসেন্সের ভিত্তিতে নিবন্ধিত কোম্পানির ফি বৃদ্ধির তথ্য জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, এক্ষেত্রে সংঘবিধি অনুসারে কোন কোম্পানির সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ ২০ জন হলে এ কোম্পানি নিবন্ধন ফিস ৬০০ টাকার স্থলে এক হাজার ২০০ টাকা হয়েছে।

সদস্য সংখ্যা ২০ এর বেশি কিন্তু ১০০ জনের বেশি না হলে এক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংঘস্মারকের ফি ৩০০ টাকার স্থলে ৬০০ টাকা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, অন্যান্য দলিলের ফি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২০০ টাকা। সাধারণ ক্ষেত্রে নথিপত্র পরিদর্শন ও সত্যায়িত অনুলিপির জন্য ফি ১০০ টাকার স্থলে ২০০ টাকা হয়েছে।

রেলওয়ে সম্পত্তি আইন অনুমোদন : রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল উদ্ধার) আইন, ২০১৬’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, রেলওয়ে সম্পত্তি (অবৈধ দখল উদ্ধার) আইনটি মূলত ১৯৭৯ সালের। সামরিক শাসনামলের আইনগুলোকে বাংলায় ভাষান্তরের বাধ্যবাধকতা থাকায় এ আইনটি নতুন করে আনা হয়েছে।

নতুন আইনে তেমন কোন পরিবর্তন আনা হয়নি জানিয়ে শফিউল আলম বলেন, রেলওয়ের জায়গা দখলের শাস্তিসহ অন্যান্য বিষয় আগের মতোই আছে। এখন এটিকে শুধু বাংলায় অনুবাদ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here