আইপিওতে আসবে স্বল্প মূলধনি কোম্পানি, থাকবে ভিন্ন লেনদেন ব্যবস্থা

0
1625

স্টাফ রিপোর্টার : পুঁজিবাজার থেকে স্বল্প মূলধনি কোম্পানির অর্থ সংগ্রহে পৃথক লেনদেন ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর অফার বাই স্মল ক্যাপিটাল কোম্পানিজ) রুলস, ২০১৬-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জনমত যাচাই শেষে শিগগিরই তা চূড়ান্ত করা হবে।

বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, স্বল্প মূলধনি কোম্পানির অর্থ সংগ্রহের জন্য আলাদা লেনদেন ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও বর্তমানে মূল বাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানিকেই এ বাজারে স্থানান্তর করা হবে না।

খসড়া অনুযায়ী, স্বল্প মূলধনি কোম্পানিগুলো শুধু ‘কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরস অফারের’ (কিউআইও) মাধ্যমে আলাদা বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারবে। বাজারে লেনদেনের তারল্য বজায় রাখার জন্য ইস্যুয়ার কোম্পানি ন্যূনতম তিন বছরের জন্য মার্কেট মেকার নিয়োগ করবে।

ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন রয়েছে, এমন কোম্পানিগুলোকে স্বল্প মূলধনি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কোম্পানির তালিকাভুক্তি ও লেনদেনের জন্য গঠিত আলাদা প্লাটফর্মের নামকরণ করা হয়েছে ‘স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্ম’। এ প্লাটফর্মে তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন সর্বনিম্ন ১০ কোটি টাকা হতে হবে।

এ ব্যবস্থায় তালিকাভুক্তির পর কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন অবশ্যই ৩০ কোটি টাকার নিচে থাকতে হবে। স্মল ক্যাপিটাল প্লাটফর্মে তালিকাভুক্তির পর কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকা অতিক্রম করলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি স্টক এক্সচেঞ্জের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্তির আবেদন জানাতে পারবে।

বড় ধরনের ঝুঁকি থাকায় শুধু নির্দিষ্ট শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বল্প মূলধনি এসব কোম্পানির শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ রাখা হয়েছে। শুধু যোগ্য বিনিয়োগকারীরা এসব কোম্পানির লেনদেন করতে পারবেন।

‘যোগ্য বিনিয়োগকারী’ বলতে ব্যাংক, ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক, সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, স্টক ডিলার, ব্রোকার, মিউচুয়াল ফান্ড, অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বোঝানো হয়েছে।

এছাড়া উচ্চ নিট সম্পদধারী দেশী ও অনিবাসী বাংলাদেশী ব্যক্তি, যাদের বাজার সম্পর্কে সম্যক ধারণা রয়েছে, তারাও যোগ্য বিনিয়োগকারী হিসেবে এসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এ ধরনের বিনিয়োগকারী চিহ্নিতকরণের জন্য সিডিবিএল ভিন্ন ধরনের বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব চালুর করবে।

যোগ্য বিনিয়োগকারী ও অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড কর্তৃক ধারণকৃত শেয়ার এক বছরের জন্য লক ইন (বিক্রয় বা হস্তান্তর নিষিদ্ধ) থাকবে। এর বাইরে কিউআইওর মাধ্যমে বিতরণকৃত অন্যান্য শেয়ার দুই বছর ও উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার তিন বছরের জন্য লক ইন থাকবে।

প্রাথমিক কিউআইওর ৫০ শতাংশের জন্য অবলেখক থাকতে হবে এবং প্রস্তাবিত শেয়ারের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আনসাবস্ক্রাইবড হলে, অবলেখককে তা ক্রয়ের অঙ্গীকার করতে হবে। আর যদি ৫০ শতাংশের বেশি শেয়ার আনসাবস্ক্রাইবড হয়, তাহলে ইস্যুটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here