এক্সপোজার লিমিটের বিকল্প ‘সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানে ঋণ’

0
1668

শাহীনুর ইসলাম : ব্যাংকগুলোর এক্সপোজার লিমিট না বাড়িয়ে ‘বিকল্প কিছুর সমন্বয় করেছে’ বাংলাদেশ ব্যাংক। অতিরিক্ত বিনিয়োগ নির্দেশিত সীমার মধ্যে রাখতে থাকছে বিক্ল্প সমন্বয় ব্যবস্থা। এজন্য ব্যাংক ভেদে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানো হবে।

বিকল্প সহায়তা হিসেবে থাকছে, কোন ব্যাংক যদি তার সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দিয়ে থাকে, সে ঋণকে মূলধন সরবরাহ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এর মধ্যে আরো কিছু রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ একটি সূত্র বৃহস্পতিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুঁজিবাজারের জন্য সহায়ক কিছু আনছে’ দাবি করে সূত্র জানায়, দেশের ৫৬টি ব্যাংকের মধ্যে ৪৮টির শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে। এখন পর্যন্ত ১২টি ব্যাংকের বিনিয়োগ সীমা অতিরিক্ত রয়েছে। সেগুলোকে শিগগিরই নির্ধারিত সীমার মধ্যে আনা হবে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গড় এক্সপোজার ২৩.২৭ শতাংশ এবং আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে বিনিয়োগসীমা ২৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বুধবার রাতে ‘এক্সপোজারের সময়সীমা বৃদ্ধি নয়’ বরং ‘বিকল্প কিছুর সমন্ব ‘ আসছে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানানো হয়েছে, এক্সপোজার সমস্যার বিক্ল্প সমাধান ইতোমধ্যে বের করা হয়েছে। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ‘নমনীয়’ হলেও সময়সীমা বাড়ছে না। যে কারণে যে সব ব্যাংকের সীমার ওপরে রয়েছে তাদের দ্রুত নামিয়ে আনতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বিনিয়োগ না থাকা ব্যাংকগুলো হলো— বাংলাদেশ কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন এবং ছয়টি বিদেশী ব্যাংক। একক ভিত্তিতে বিনিয়োগ ব্যাংকের ইকুইটির ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশ থাকলেও গত নভেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ ছিল ৩৪ শতাংশ, যার পরিমাণ প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলো তাদের সহযোগী ৩৩ প্রতিষ্ঠানকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা মূলধন জোগান দিয়েছে। গত ডিসেম্বরের নির্দেশনা জারির ফলে এ মূলধন আর ব্যাংকের একক হিসেবে গণ্য হচ্ছে না। ফলে নভেম্বরের হিসাবে বিনিয়োগ কমে আসে ২৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ। তখন ৪৮ ব্যাংকের মধ্যে মাত্র ছয়টির সীমা ২৫ শতাংশের বেশি ছিল।

অবশ্য সাম্প্রতিক দরপতনে ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগের পরিমাণ আরো কমেছে। এ অবস্থায় সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ উপাদান হিসাবায়নে পুনর্বিন্যাস করা হলে শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ব্যাংকগুলো তাদের অতিরিক্ত শেয়ার বিক্রি করে দিলে নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি হতে পারে বলেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিনিয়র এক ব্যাংক কর্মকর্তা।

পেছনের খবর : এক্সপোজার লিমিট নিয়ে ‘নমনীয়’ বাংলাদেশ ব্যাংক

আরো খবর : এক্সপোজার লিমিট ‘বৃদ্ধি নয়’ আসছে বিকল্প সমন্বয়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here