ওষুধে ভেজাল দেয়ায় বন্ধ হচ্ছে ২০টি কোম্পানি

0
1935

সিনিয়র রিপোর্টার : জীবন রক্ষাকারী ওষুধে ভেজাল। আর ভেজাল মেশানোর অমার্জনীয় অপরাধ করেছে বেশ কয়েকটি কোম্পানি। যে কারণে ২০টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

অধ্যাপক আবম ফারুকের নেতৃত্বাধীন বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি দেশের ৮৪টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন শেষে একটি প্রতিবেদন তৈরি করে।

প্রতিবেদনের আলোকে ২০টি ওষুধ উত্পাদনকারী প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল ছাড়াও ১৪টি কোম্পানির সব ধরনের এন্টিবায়োটিক (নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপ) ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল এবং ২২টি কোম্পানির পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের এন্টিবায়েটিক উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে মানসম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হওয়ায় ২০টি কোম্পানি হল- এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যালস, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যালস, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যালস, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলপা ল্যাবরেটরিজ, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যালস, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ড্রাগ ফার্মা, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যালস।

তালিকায় রয়েছে- রিমো কেমিক্যালস, রিদ ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যালস, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যালস, স্টার ফার্মাসিউটিক্যালস, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যালস, টুডে ফার্মাসিউটিক্যালস, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

এছাড়াও নন-পেনিসিলিন, পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধ উত্পাদনের অনুমতি বাতিল করা ১৪টি কোম্পানি হচ্ছে- আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যালস, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যালস, বেঙ্গল ড্রাগস অ্যান্ড কেমিক্যালস।

তালিকায় আরো রয়েছে- ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রিস্টাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালস, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যালস, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলথকেয়ার, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, ফিনিক্স কেমিক্যাল ল্যাবরেটরি, রাসা ফার্মাসিউটিক্যালস এবং সেভ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

পেনিসিলিন ও সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করা ২২টি কোম্পানি হচ্ছে- আমিকো ফার্মাসিউটিক্যালস, অ্যাজটেক ফার্মাসিউটিক্যালস, বেঙ্গল টেকনো ফার্মা, বেনহাম ফার্মাসিউটিক্যালস, সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, ডিসেন্ট ফার্মা, ড. টিআইএম’স ল্যাবরেটরি, গ্লোবেক্স ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্রিনল্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস।

তালিকায় আরো রয়েছে- ইনোভা ফার্মাসিউটিক্যালস, ম্যাকস ড্রাগস, মেডিমেট ল্যাবরেটরিজ, মডার্ন ফার্মাসিউটিক্যালস, মিস্টিক ফার্মাসিউটিক্যালস, ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ, অর্গানিক হেলথ কেয়ার, ওয়েস্টার ফার্মা, প্রিমিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, প্রাইম ফার্মাসিউটিক্যালস, সীমা ফার্মাসিউটিক্যালস, ইউনাইটেড কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস এবং হোয়াইট হর্স ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

এছাড়া টেকনো ড্রাগের তিনটি কারখানার ক্যান্সার ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর দশম জাতীয় সংসদ গঠিত হলে সে বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ভেজাল এবং নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটি গঠন করে।

বিশেষজ্ঞ দল গত দেড় বছরে ৮৪টি ওষুধ কারখানা পরিদর্শন করে। এর মধ্যে নতুন ১৫টি এবং পুরনো ৬৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ১ ফেব্রুয়ারি তারা তাদের প্রতিবেদন সংসদীয় কমিটির কাছে জমা দেয়। বুধবার অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। পরে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here