‘দালালদের কারণে বিনিয়োগকারীরা কথা বলতে পারে না’

0
683

মোহাম্মদ তারেকুজ্জামান : দালালরাই শুধু কথা বলে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা কথা বলতে পারে না। দালালদের ভাড়া করে নিয়ে এসে কোম্পানি তাদের কথা বলার সুযোগ করে দেয়। পুরোটা সময় জুড়েই তারা কোম্পানির সুনাম করতে করতে দিশেহারা হয়ে যায়। তাদের কথার সাথে বাস্তবতার কোন মিল থাকে না।

সোমবার ইশকাটন গার্ডেন ঢাকা লেডিস ক্লাবে আয়োজিত ব্যাংক এশিয়ার ১৭তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা ব্যাংকটির বিরুদ্ধে এসব কথা বলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিনিয়োগকারী জানান, ব্যাংক এশিয়ার যারা সাধারণ বিনিয়োগকারী তাদেরকে অ্যানুয়াল রিপোর্ট বইটি দেয়া হয়নি। কেবলমাত্র দালালদের জন্য কিছু বই ছাপানো হয়েছে। তাদের কাছে নিজ উদ্যোগে বই পৌঁছে দিয়েছে ব্যাংক এশিয়া কর্তৃপক্ষ।

তারা আরও বলেন, এসব ভাড়া করা দালাল প্রায় সকল কোম্পানির এজিএমে উপস্থিত থাকে। কথা বলে মনগড়া, যার সাথে বাস্তবতার কোন তুলনা নেই। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের দুর্দশার কথা শোনার সময় নেই ব্যাংকের। অথচ আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই শেয়ার কিনে ব্যাংকটিকে বাঁচিয়ে রেখেছি।

ব্যাংক এশিয়ার চেয়ারম্যান এ রৌফ চৌধুরী শেয়ারহোল্ডারদের উদ্দেশ্যে বলেন, ২০১৫ সাল জুড়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু ব্যাংকিং খাতকে শ্লথ বিনিয়োগ ও অতিরিক্ত তারল্যের কারণে কঠিন সমস্যার ভেতর দিয়ে যেতে হয়েছে। ঋণ ও অগ্রিম এর ওপর সুদের হার বহুলাংশে কমে যাবার কারণে ঋণ আমানত এর সুদের স্প্রেড কমে যায়। ফলে মুনাফা হ্রাস পায়। তারপরেও ব্যাংক এশিয়া ব্যবসার সকল ক্ষেত্রে উন্নতি করেছে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালে ব্যাংক এশিয়ার ইপিএস হয়েছিল ২.৬৪। ২০১৫ সালে ইপিএস হয়েছে ৩.০৭। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০১৪ সালে ব্যাংক এশিয়া ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল। আর ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে ২০ শতাংশ। যার মধ্যে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ এবং ৫ শতাংশ বোনাস।

বার্ষিক সাধারণ সভায় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান এ রউফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাফওয়ান চৌধুরী, ডিরেক্টর রুমি এ হোসেইন, মোহাম্মদ লিয়াকতউল্লাহসহ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারী বৃন্দ। উপস্থিত ছিলেন, ব্যাংকটির সাধারণ শেয়ারহোল্ডারবৃন্দও।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here