ধস ঠেকাতে চাই ‘আইপিওর বাইব্যাক পলিসি’

1
2311

রাহেল আহমেদ শানু : নন পারফর্মিং আইপিওর ক্ষেত্রে বাইব্যাক পলিসি প্রণয়ন করা দরকার। একই সঙ্গে বেলআউট ফান্ড গঠন, বহুজাতিক এবং ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে আনা খুবই জরুরি।

পুঁজিবাজার ধসে এমন প্রস্তাবনা করছেন ‘অনেক বিনিয়োগকারী’। তারা বলেন, মঙ্গলবার ডিএসইতে ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সব আলোচনার মধ্য থেকে ‘নন পারফর্মিং আইপিওর ক্ষেত্রে বাইব্যাক পলিসি প্রণয়ন করা এখন বেশি জরুরি’।

বৈঠকে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক ড. স্বপন কুমার বালা, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান পরিচালক রকিবুর রহমান, সাবেক প্রেসিডেন্ট আহসানুল ইসলাম টিটু ছাড়াও ডিএসইর বর্তমান পরিচালক ও শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

২০১০ সালে পুঁজিবাজার ধসের পর ২০১১ সালের ৭ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রথমবারের মতো বাইব্যাক পদ্ধতি চালু করার কথা বলেন। কোম্পানি নিবন্ধন আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাইব্যাক করার নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

তার ঘোষণার পর সে সময় বাইব্যাক আইনের খসড়াও তৈরি হয়। তবে পরবর্তীতে তা আর এগোয়নি। বর্তমানে সেই পলিসির প্রণয়ন করা দরকার বলে তারা মনে করেন।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা শেয়ার কোম্পানি কর্তৃক পুনঃক্রয়ই বাইব্যাক। বাইব্যাক আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য, প্রয়োজনের তুলনায় কোনো কোম্পানির মূলধন বেশি হলে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার কিনে নিয়ে কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেয়া। এতে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার ফলে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধি পায় এবং বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পান।

একই সঙ্গে শেয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেকেন্ডারি মার্কেটে শেয়ারের দরও বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে বাইব্যাক পদ্ধতির প্রয়োগ হয়েছে। যে কারণে সেসব দেশে কোম্পানির শেয়ারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়।

এছাড়া কোনো কোম্পানি যে দরে বাজারে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়বে, বাজারে কখনো এ শেয়ারের দাম বরাদ্দকৃত দামের চেয়ে কমলে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তা ইস্যুমূল্যে কিনে নেয়।

জানা গেছে, ২০১১ সালে বাইব্যাকের খসড়া আইন চূড়ান্ত করতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের একজন প্রতিনিধির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

সে কমিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (আইসিএমএবি) একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়।

সে সময় বিএসইসি বাইব্যাক আইনের খসড়ায় কয়েকটি প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন (ফ্রি রিজার্ভ) অথবা সিকিউরিটির প্রিমিয়াম হিসাবের অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে শেয়ার বাইব্যাক করা অন্যতম।

খসড়ায় বাইব্যাক সম্পন্ন করার পরের সাতদিনের মধ্যে কোম্পানির কিনে নেয়া সব সিকিউরিটিজ অবলুপ্তির বিধান রাখা হয়। এছাড়া বাইব্যাক সম্পন্ন করার পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করারও প্রস্তাব ছিল।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here