৯ বছর ধরে বন্ডের লেনদেন নেই

0
329
ডেস্ক রিপোর্ট : পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ট্রেজারি বন্ডগুলোর ইউনিট বিগত নয় বছর ধরে লেনদেন হয় না। ইউনিটের মূল্য বেশী হওয়া এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বন্ডে বিনিয়োগ না করায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুঁজিবাজারে বন্ডের শক্তিশালী অবস্থান স্থিতিশীলতার অন্যতম উপাদান বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের পরামর্শে ২০০৫ সালের ১ জানুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৭টি সরকারি ট্রেজারি বন্ড তালিকাভুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্তির দিন ১ লাখ টাকায় একটি বন্ডের ইউনিটের উদ্বোধনী লেনদেন হয়। এরপর থেকে আর কোনো বন্ডের লেনদেন হয়নি। ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারে চার মেয়াদের, অর্থাৎ ৫ বছর, ১০ বছর, ১৫ বছর এবং ২০ বছরমেয়াদী ২২১টি বন্ড তালিকাভুক্ত হয়েছে। এগুলোর বর্তমান পরিশোধিত মূলধন ৫৫ হাজার ৫৬৩ কোটি টাকা। সর্বশেষ ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর একটি বন্ড তালিকাভুক্ত করা হয়।

এ ছাড়া পুঁজিবাজারে ৩টি করপোরেট বন্ড রয়েছে। এগুলো হল— এসিআই ২০% কনভারটেবল জিরো কুপন বন্ড, আইবিবিএল মুদারাবা পারপেচুয়াল বন্ড ও সাব ২৫% কনভারটেল বন্ডস অব ব্র্যাক ব্যাংক। এ তিনটি করপোরেট বন্ড বাজারে লেনদেন হচ্ছে।

সরকারি বন্ড লেনদেন না হওয়ার বেশকিছু কারণ জানা গেছে। ট্রেজারি বন্ডের অভিহিত মূল্য বেশী হওয়ার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ প্রকাশ করেন না। ট্রেজারি বন্ডগুলোতে ব্যাংক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করার কথা থাকলেও অতিরিক্ত সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তারা বন্ড মার্কেট থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ট্রেজারি বন্ডগুলোর সুদের হার কম হওয়ায় ক্রেতা পাওয়া যায় না।

জানা গেছে, বন্ড মার্কেট চাঙ্গা করার জন্য ২০১১-১২ অর্থবছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে সরকার এ মার্কেটে বিনিয়োগ করে কালোটাকা বা অপ্রদর্শিত আয় সাদা করার সুযোগ দিয়েছিল। তার পরও এ মার্কেটের দিকে ক্রেতাদের দৃষ্টি ফেরানো যায়নি।

এ বিষয়ে এইমস এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াওয়ার সাঈদ বলেন, বন্ড মার্কেটের উন্নয়নে এখনো কেউ জোরাল উদ্যোগ নেয়নি। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বন্ডগুলোর সুদের হার কম হওয়ার কারণে এগুলোর প্রতি তেমন আগ্রহ নেই। আর যতদিন পর্যন্ত ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে সটকে যাওয়ার সুযোগ থাকবে, ততদিন বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন হবে না। তবে বন্ড মার্কেটের উন্নয়ন হলে পুঁজিবাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কমে যাবে। মার্কেটে ব্যালেন্স থাকবে।

বন্ড মার্কেটকে আকর্ষণীয় করতে না পারা লেনদেন না হওয়ার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ। তিনি বলেন, বন্ডে সাধারণত তারাই বিনিয়োগ করবে যাদের অলস অর্থ রয়েছে। সে হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এ মার্কেটে বিনিয়োগের কথা। কিন্তু মুনাফার পরিমাণ কম হওয়া এবং বন্ডের ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে না পারার কারণে এদিকটায় কারো নজর নেই।

উল্লেখ্য, পুঁজিবাজারে বন্ডকে ডেট বা ঋণ সিকিউরিটিজ বলা হয়। অর্থাৎ জনগণের কাছ থেকে নির্দিষ্ট মেয়াদে, নির্দিষ্ট সুদে সরকার যে টাকা ধার নেয় তাকে বন্ড বলে। মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সুদসহ সরকার বন্ডের অর্থ ফেরত দেয়। আর সেকেন্ডারি মার্কেটে তালিকাভুক্ত হওয়ায় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ইউনিটহোল্ডার চাইলে বন্ড বিক্রি করে টাকা নিতে পারে। একইভাবে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও একই উপায়ে টাকার ধার নেয় করপোরেট বন্ডের মাধ্যমে।

জানা গেছে, মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রায় ১৫টি বন্ড ইতোমধ্যে তালিকাচ্যুত করা হয়েছে। আরও বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের বন্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তালিকাচ্যুতির অপেক্ষায় রয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি না পাওয়ায় বন্ডগুলো তালিকাচ্যুত করা হচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here