শ্যামল রায়ঃ এই মুহুর্ত্যে শেয়ার বাজারে যেভাবে  দরপতন শুরু হয়েছে সেটাকে কোনভাবেই স্বাভাবিকতো নয়ই কারেকশন ও বলা যাবে না। টানা কয়েক কার্যদিবস ধরে অব্যাহতভাবে দরপতন চলছে রাগে দুঃখে ক্ষোভে কথাগুলো বলছিলনে মতিঝিল বিনিয়োগ পাড়ার একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এরফানুল হক।

ভাই শেয়ার বাজারে আমি ১৯৯৬ সালেরও আগে থেকে। ৯৬ সালের বাজার ধ্বস আমি স্বচক্ষে দেখেছি। ২০১০ সালের সুনামীর আমি একজন ক্ষতিগ্রস্থ বিনিয়োগকারী ২০১০ সালে যে ভয়াবহ ক্ষতির সম্মুখিন আমি হয়েছিলাম।  আস্তে আস্তে তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা আমি করছি।

২০১০ এর পর থেকে লাভে আসতে না পারলেও অনেকটা ক্ষতি আমি পুষিয়ে নেবার চেষ্টা করছি। তবে আশংকা আমার একটা ছিলই। কারন আবার না কোন ধ্বসের মুখোমুখি হতে হয় আমাকে। ঘরপোড়া গরুতো ধোয়া দেখলেই আগুন লাগার ভয় শুরু হয়।  সত্যি সত্যি আমার এ আশংকায় গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে আমার মাথার উপর পড়ল।

হায়! চারিদিকে সরষের ফুল দেখছি আমি। আস্তে আস্তে যে খড়কুটো আমি জড়ো করেছিলাম, এই গত কয়েক মাসের দরপতনে আমাকে একদম নিঃস্ব করে দিয়েছে। বাজার একটু ভালো হলেই যে হই হুল্লোর দাম বাড়লো দাম বাড়লো বলে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে যায়। এখন কেউ একটি কথাও বলছে না কেন। সবাই যেন মুখে কুলুপ এটে বসে আছে।

আমরা যারা সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী আর কোন উপায় অন্তর না পেয়ে তিল তিল করে সঞ্চিত অর্থ শেয়ার বাজারে একটু লাভের আশায়, ভালো থাকার আশায় বিনিয়োগ করছি তাদের সান্তনা কোথায়। ৯৬/২০১০ সালে অনেক আত্ম হত্যার খবর দেখেছি পড়েছি। সময় এখন হয়তো বদলে গেছে এখন আর কেউ হয়তো আত্মহত্যা করবেনা। কিন্তু বুকের ভিতর যে রক্তক্ষরণ শুরু হয়ে গেছে তা নিরাময় হবে কি দিয়ে।

শেয়ার বাজারের দেখভাল করার জন্য সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন রয়েছে। এছাড়াও অপরাপর কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে আমার প্রশ্ন এই মুহুর্তে তাদের ভূমিকা টা কি? তার কি চীর কাল ঠুটো জগন্নাথের মত হাত গুটিয়ে বসে থাকবে।

আমাদের শেয়ার বাজারকে এখন আর কোনভাবেই দুর্বল মার্কেট বলা যাবে না। কারণ অনেকগুলো বছর আমরা পেড়িয়ে এসেছি। আগে চাইলেই যে কেউ মেনুপুলেশনের সুযোগ নিতে পারত। কিন্তু ২০১৭ সালে এসে তো এমনটা হওয়ার কথা নয়।

দেখে শুনে বিনিয়োগ করুন, এরকম স্লোগান সর্বস্ব টিভি বিজ্ঞাপন আর বিনিয়োগের অ আ ক খ কার্যক্রমের মধ্যেই কি সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের দায়িত্ব শেষ। তাহলে আমরা যারা লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজারে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছি তাতে কি দেশের অর্থনীতি গতি পাচ্ছে না।

বিভিন্ন মিডিয়াই অনেক অনেক বড় বড় শেয়ার বাজার বিশেষজ্ঞকে অনেক মূল্যবাণ মতামত দিতে শুনেছি বিভিন্ন সময়ে।  আমার প্রশ্ন এখন তারা কোথায়। বাজারে এই মুহুর্তে যে সুনামি শুরু হয়ে গেছে তা ঢেউয়ের ঝাপটা কি তাদের গায়ে লাগছে না। এর আগেও দেখেছি বাজারে যখন পতন শুরু হয়, তখন কেউ এগিয়ে আসে না। না বিসেক, না ডিএসই, সিএসই কিংবা অন্য সংগঠন গুলো। কিন্তু যা ক্ষতি হবার তা যখন শেষ হয়ে যায়, তখন সবাই চারদিকে চিৎকার চেঁচামেচি করে। এমনকি রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে ফায়দা নেবার চেষ্টা করে। আর দুই পক্ষের মাঝখানে পড়ে বাশঁখায় সাধারণ বিনিয়োগকারী।

স্মার্ট বিনিয়োগকারীরা হয়তো এরকম পরিস্থিতিতে মূলধন উঠিয়ে নিয়ে চুপ করে বসে থাকে। পরিস্থিতি অবজার্ভ করে। কিন্তু ক্ষতি যা হবার তা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হয়ে যায়।

আমি একজন সাধারণ বিনিয়োগকারী হিসাবে সর্ব মহলের কাছে সকল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবী রাখতে চাই, আসলে এইভাবে চলতে পারে না। দশ/বার বছর পর পর এইভাবে বাজারে ধ্বস আসবে আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সর্বস্ব লুঠাবে তা হতে পারে না। অন্য আর দশ জনের মত আমার মত একজন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর পক্ষে কোন ভাবেই এই বাজারে তলা খুজে পাওয়া সম্ভব না। কারণ বিপদ এখানে প্রতি পদে পদে। কে কোথায় কখন কিভাবে বিনিয়োগকারীদের জন্য ফাঁদ পেতে বসে আছে আমাদের মত বিনিয়োগকারীদের কি সাধ্য সেই সব রহস্য উন্মোচনের। এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়।

এর জন্য যেটা জরুরী শেয়ার বাজারের সমস্ত নিয়ম কানুন মেনেই সকলকে খেলতে  হবে। ফাউল করলেই যেন লাল কার্ড পায়। সেই ব্যবস্থা এবং শক্তি থাকতে হবে সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের। কারণ খেলার নিয়ম ঠিক না থাকলে তো ভুল খেলার সুযোগ নিবে সবাই।

এই মূহুর্তে বাজারে পতন ঠেকাতে আইসিবি এবং বিএসইসি’র তেমন কোন তৎপড়তা আমরা দেখছি না। বিনিয়োগকারীরা আর কত ক্ষতিগ্রস্থ হলে তারা পদক্ষেপ নেবে। এর উত্তর আমার জানা নেই। আমরা সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এটাও জানিনা যে, এদের ক্ষমতায় বা কতটুকু কারণ শেয়ার বাজারে কোন দুর্যোগের সময়ই তাদের ভূমিকা আমরা খুঁজে পাইনা।

অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকও এই মূহুর্তে জানিনা কি অদৃশ্য কারণে নিশ্চুপ রয়েছে। দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি শেয়ার বাজার ক্ষতিগ্রস্থ হলে অর্থ মন্ত্রণালয় কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের কোন ক্ষতি সাধিত হয় কিনা এ প্রশ্নের উত্তর আমার  জানা নেই। সম্প্রতি বিনিয়োগপাড়ায় একটা চাউর হয়ে গেছে রাজনীতির মত শেয়ার বাজারেও ‘কাউয়া’ ঢুকে গেছে।  আমার প্রশ্ন এই ‘কাউয়া’ তাড়ানোর দায় টা কার।

2 COMMENTS

Osman Goni, Salmiya, Kuwait শীর্ষক প্রকাশনায় মন্তব্য করুন Cancel reply

Please enter your comment!
Please enter your name here