৮ মাসের ঘটন-অঘটনের পুঁজিবাজার

0
2661

অনেকদিন ধরেই শেয়ারবাজার গুমোট। বছরের শুরুতে চাঙ্গা প্রভাব থাকলেও পরে নিস্তেজ হয়ে পড়েছে। দু-একদিন ইনডেক্স বাড়লে ভেতরে সান্ত্বনা জাগে- বাজার ভালো হচ্ছে। দেখা গেলো- পরদিন ইনডেক্স পড়ছে। এমন অবস্থা শেয়ার মার্কেটে অনেকদিন ধরেই চলছে। বলা যায়, অনেকটা চোর-পুলিশ খেলা চলছে ইনডেক্সে।

যদিও বর্তমানে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে বর্তমানে সূচক অনেক বেড়েছে। তবে চলতি বছরে শুরুতে কোম্পানির শেয়ারের যে লেনদেনের (টাকা) প্রভাব ছিল, এখন তা নেই। যদিও ৮ মাসে প্রভাব না থাকার পেছনে রয়েছে ঘটন-অঘটনের নানান বাঁক।

নতুন বছরে অর্থাৎ গত ৮ মাসে মার্কেটে অনেক ঘটনা ঘটেছে। যার প্রত্যাক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে শেয়ারমার্কেটে। যেমন বছর শুরু হতে না হতেই ডিভিডেন্টের বিরাট একটা প্রভাব পড়ে মার্কেটে। স্বাভাবিকভাবেই ডিভিডেন্টের পর কারেকশন ছিল অনিবার্য। এটা বিনিয়োগকারীরা মেনেও নিয়েছে। এরপর আসে বাজেট, যার প্রভাব ছিলো প্রবল।

বাজটে কি আসছে বা কী থাকছে না? পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ কোন ঘোষণা আসে কিনা তার ওপর নির্ভর করে পুঁজিবাজারের উত্থান-পতন। বাজেটে সংবেদনশীল কোন তথ্য আছে কি-না, তা জেনে অনেকে বিনিয়োগ পরিকল্পনা করেন। এরপর এলো ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাহে রমজান, প্রভাব কাটতে না কাটতেই এলো রোজার ঈদ।

রোজার ঈদের প্রভাব শেষ হতে না হতেই মুদ্রানীতির পরোক্ষ প্রভাব। যার প্রভাবে বাজার টালমাটাল। প্রভাব না কাটতেই কোরবানীর ঈদের প্রভাব বাজারে। ভালো বাজারের প্রত্যাশা দেখিয়ে যে শেয়ারবাজার বছর শুরু করেছিল। ৬ মাস না যেতেই বিনিয়োগকারীদের মনে তা ফিকে হতে থাকে।

কারণ, বেশ কয়েক বছর ধরে শেয়ারবাজারে অস্থীর অবস্থা ছিল। বছরের শুরুতে সে শঙ্কাগুলো কাটিয়ে ওঠে। নতুন উদ্যোমে সুন্দরের জয়ধ্বনী পান বিনিয়োগকারীরা। শেয়ারবাজার থেকে পালিয়ে যারা বাঁচার চেষ্টা করছিলেন তারা আবার বাজারমূখী হতে শুরু করেন।

ফলে প্রতিদিনই একের পর এক রেকর্ড ভাঙ্গতে শুরু করে বাজার। কিন্তু গত ৩-৪ মাসের হিসাব নিকাশ অন্যকথা বলছে। কয়েকদিনে বেড়েছে সূচক, কমেছে লেনদেন। যদিও মঙ্গলবার লেনদেন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

দুমাস আগে বাজার আবারও অতীতের ঘূর্ণীতে কিছুটা পাক খেতে থাকে। আমরা সবাই জানি, কোন দেশের বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির ভিত শক্ত করে শেয়ারবাজার। এটা আমরা অনেকে জানলে বা বুঝলেও সরকার তা উন্নয়নের চেষ্টা করছে না।

ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের মনে ভিন্ন ধারণা জন্ম নিয়েছে। তা হলো- আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসলে শেয়ারবাজার নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে না। তাদের সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে অনেক দূর্ঘটনা ঘটে। পতনের মুখ পড়ে বাজার।

নতুন সরকারের আমলে সেই আঁচ অনেকটা মিলেছে। অর্থমন্ত্রীর বিভিন্ন বক্তব্য ঘিরে জমেছিল অনেক হাস্য রসাত্বক গল্প। এখনো তা অনেকের মুখে মুখে রয়েছে। সেসব ঘটনায় বিনিয়োগকারীরা এখন অনেক সচেতন।

বাজার উন্নয়নে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ভালো বাজারের স্বার্থে লো-পেইড-আপ কোম্পানি এবং বিগ-পেইড-আপ কোম্পানিগুলোকে আলাদা করা হবে। একই সঙ্গে যে সব কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল ভালো এবং যেসব কোম্পানির সম্পর্কে মন্দ ধারণা রয়েছে- সেগুলোকে আলাদা করা হবে।

অর্থমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি এখনো কাজে আসেনি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিভাজন করা হলে তা হবে আওয়ামীলীগ সরকারের যুগান্তকারী ভূমিকা। এতে করে বাড়বে পুাঁজবাজারের সক্ষমতা। এতে করে উৎপাদন বন্ধ কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরে আর আস্ফালন থাকবে না।

বাংলাদেশের শেয়ারবাজার অনেক সেনসেটিভ বা সংবেদনশীল। সামান্য ঘটনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে বাজারে। পূর্বের সেই ধারণা মুছে নতুন করে স্থিতিশীল বাজার গঠন করা হোক- সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এমন প্রত্যাশা করেন আওয়ামীলীগ সরকারের কাছ থেকে।

তা না হলে অতীতের মতো আশঙ্কাজনক হিসেবে আবারও শেয়ারবাজার সরকারের মাথার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়াবে। সুস্থ্য বাজার উন্নয়নে আওয়ামীলীগ সরকার দ্রুত ব্যবস্থা করবে গ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশা লাখো বিনিয়োগকারীর।

  • শ্যামল রায়, সাংবাদিক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here