৮২২ কোটি টাকা প্রিমিয়ার ব্যাংকের রাজস্ব বকেয়া

0
351

ডেস্ক রিপোর্ট : বকেয়া মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট বাবদ বেসরকারি প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছে ৮২২ কোটি টাকা দাবি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। গত ছয় বছরে ব্যাংকটির কাছে এ অর্থ বকেয়া পড়েছে। অপরিশোধিত এ অর্থ পরিশোধে ১৫ দিনের সময় দিয়ে দাবিনামা জারি করেছে এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)।

এলটিইউ বলছে, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী ব্যাংকিং সেবার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রযোজ্য। ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের হিসাব ও এলসি খোলা, নিবন্ধন, কমিশনসহ বিভিন্ন সেবার বিপরীতে ১৫ শতাংশ ও সাপ্লাইয়ের ওপর স্ল্যাবভিত্তিক ৫ থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আদায় করে এনবিআর। রফতানিকারকদের ঋণপত্রসহ কিছু খাতে এ সেবায় ভ্যাট অব্যাহতি ও কিছু সেবায় শূন্য শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হয়।

গত ছয় বছরে ব্যাংকটি কিছু ক্ষেত্রে ভ্যাট পরিশোধ করলেও ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার টার্নওভারের ওপর কোনো ভ্যাট পরিশোধ করেনি। তাদের রিটার্নে এসব পণ্য ও সেবাকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও শূন্য শুল্ক ঘোষণা দেয়া হলেও তার বিপরীতে কোনো দলিলাদি উপস্থাপন করতে পারেনি ব্যাংকটি। পরবর্তীতে ব্যাংকটির কাছে কয়েক দফা প্রমাণাদি চাওয়ার পরও তা দিতে ব্যর্থ হয় তারা।

এনবিআরকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা না দিয়ে ব্যাংকটি উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করে। উচ্চ আদালত এ বিষয়ে ছয় মাসের স্থগিতাদেশ দিলে তা প্রত্যাহার চেয়ে আপিল করে এনবিআর। এনবিআরের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ার পর ৮২২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ভ্যাট পরিশোধের দাবিনামা জারি করেছে এনবিআর।

এলটিইউর কমিশনার মতিউর রহমান বলেন, প্রিমিয়ার ব্যাংকের কাছে কয়েক দফা দলিলাদি চাওয়ার পরও তা না দেয়ায় গতকাল দাবিনামার চিঠি দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে অর্থ পরিশোধ বা ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য ১৫ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছে। তারা চাইলে এর মধ্যে শুনানিতে অংশ নিতে পারবে। কোম্পানির জবাব ও অর্থ পরিশোধের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে এনবিআর।

এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯৯৮ কোটি ১৭ লাখ ৭০ হাজার ১০২ টাকার অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবা বিক্রয় দেখিয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবা হিসেবে ৬৯৩ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ও শূন্য হারে ভ্যাট হিসেবে ৩২১ কোটি ৪০ লাখ টাকার সেবা বিক্রয় দেখিয়েছে।

এছাড়া ২০১৫ সালে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবা বিক্রয়ে ৯৬৭ কোটি ও শূন্য হারে ৪০ কোটি ৬২ লাখ ৩৩ হাজার ৬২৯ টাকার বিক্রয় দেখানো হয়েছে। একইভাবে ২০১৬ সালে অব্যাহতিপ্রাপ্ত সেবায় ১ হাজার ২২০ কোটি ৬৫ লাখ ও ২০১৭ সালে অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য সেবা খাতে ১ হাজার ২৪১ কোটি ৮১ লাখ টাকাসহ মোট ৫ হাজার ৪৮৩ কোটি টাকার বিক্রয় দেখিয়েছে প্রিমিয়ার ব্যাংক।

এসব বিক্রয়কে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ও শূন্য হারে শুল্ক বলা হলেও তার বিপরীতে কোনো কাগজপত্র প্রদান করতে না পারায় ১৫ শতাংশ হারে ৮২২ কোটি ৫৩ লাখ ভ্যাট ধার্য হয়েছে। ফলে মূল্য সংযোজন কর আইন, ১৯৯১-এর ৫৫ ধারার উপধারা ১ মোতাবেক কারণ দর্শানোর নোটিস দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রিমিয়ার ব্যাংকের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই বলেন, এ-সংক্রান্ত এনবিআরের চিঠি আমাদের হাতে এখনো আসেনি। এনবিআরের দাবিনামা ও কারণ দর্শানোর নোটিস পাওয়ার পর আমাদের অবস্থান জানাতে পারব। তবে এর আগে আমাদের কাছে এনবিআর যে তথ্য চেয়েছিল, তা দেয়া হয়েছে। এলটিইউ চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের আর্থিক প্রতিবেদন ও কাগজপত্র দিয়েছি আমরা। এখন চিঠি পেলে শুনানিসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় যাব আমরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here