৭ ব্যাংকের জরিমানা, কঠোর তদারকির আওতায় ২২টি

5
5743

রাহেল আহমেদ শানু : নির্ধারিত সীমার বেশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও তথ্য গোপন করায় ৭টি ব্যাংককে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি সরকারি ও ছয়টি বেসরকারি ব্যাংক। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে।

ফলে ২২টি ব্যাংককে কঠোর তদারকির আওতায় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পুঁজিবাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগ, তথ্য গোপন এবং শেয়ার লেনদেনে ভারসাম্যহীনতায় শাস্তির আওতায় পড়েছে। তবে কোন-কোন ব্যাংক শাস্তির আওতায় পড়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিশেষ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

৭টি ব্যাংকের বাইরে আরও আটটি ব্যাংকের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নিয়ে বেশ কিছু অনিয়ম পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যে কারণে ব্যাংকগুলোকে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। পুঁজিবাজারে ব্যাংকং খাতের অধিক সময় ধরে আধিপত্য বজায় থাকায় সন্দেহজনক হলে বাংলাদশ ব্যাংক অনুসন্ধান চালায়। ব্যাংকর  তদারকিতে অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে।

বিশেষ সূত্র জানায়, সন্দেহমূলক লেনদেন পরিলক্ষিত হওয়ায় আরও সাতটি ব্যাংকের বিনিয়োগ যাচাই করে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২২টি ব্যাংককে কঠোর তদারকির আওতায় নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অপরাধের ধরণ অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, একসময় যে কোনো ব্যাংক আমানতে তার মোট দায়ের ১০ শতাংশ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত। তবে ২০১৩ সালে সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তার আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম হিসেবে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে সহযোগী কোম্পানিসহ শেয়ারবাজারে ব্যাংকের সমল্প্বিত বিনিয়োগ সীমা নির্ধারণ করে আলাদা একটি পরিপত্র দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সমল্প্বিত পদ্ধতিতে আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ৫০ শতাংশের বেশি বিনিয়োগ করতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়।

২০১৩ সালে ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধনের পর ৩৬টি ব্যাংকের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমার ওপরে চলে যায়। ওই আইনে বাড়তি বিনিয়োগ সমল্প্বয়ের জন্য তিন বছর সময় দেওয়া ছিল। সে অনুযায়ী গত ২১ জুলাইয়ের মধ্যে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয় করার কথা। নির্ধারিত সময়ে বেশির ভাগ ব্যাংকের বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনলেও ১৩টি ব্যাংক নামাতে ব্যর্থ হয়।

তখন আইন সংশোধনের দাবি ওঠে। তবে তা না করে গত বছর এসব ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ঋণ মূলধন হিসেবে দেখানোর সুযোগ দিয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনার সুযোগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে তথ্য গোপন করে পরে আবার অনেক ব্যাংক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করায় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে যায়। এতে জরিমানার মুখোমুখি হয় ব্যাংকগুলোকে।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১০৯(১১) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে সর্বনিল্ফম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। আর লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে প্রথম দিনের পর থেকে প্রতিদিনের জন্য সর্বনিম্ন পাঁচ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার নিয়ম আছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, অপরাধের ধরণ অনুযায়ী সাতটি ব্যাংককে নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনা, ভুল তথ্য দেওয়া থেকে বিরত ও যেসব ব্যাংকের অতিরিক্ত বিনিয়োগ রয়েছে, তাদের নতুন করে বিনিয়োগ না করতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

5 COMMENTS

  1. Excess of anything is bad. The banking sectors stocks were undervalued. There is no doubt about it. But the way share prices of almost all the shares moved upward was a major concern. There is an wise saying that “the devil will not listen to the scripture”. Therefore, for the betterment of the market the regulator should handle these unscrupulous elements with iron hand.

  2. তদারকি দেরীতে হল। যারা লাভ করেছে তারা আনন্দিত হলেও অনেক বিনিয়োগকারীর জন্য এটা দুঃসংবাদ। বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষকরা বলে ব্যাংকের বেলায় দরবাড়াটাই স্বাভাবিক। সিকিউরিটিজ পাড়ায় বিনিয়োগকারীদের একটিই প্রশ্ন, “কুচক্রী সিন্ডিকেট মার্কেটকে হাতের মুঠোয় নিয়ে খেলছেনাতো?”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here