৬ কোম্পানির এজিএম আজ

0
785

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাপ্তাহিক লেনদেনে বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে। গত সপ্তাহে দেশের শীর্ষ এ পুঁজিবাজারটির লেনদেন কমেছে প্রায় ৪৪ শতাংশ। বিজয় দিবসের কারণে কার্যদিবস একটি কমে যাওয়ায় অবনতি ঘটে ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেনে। গত সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেন হয়েছে এক হাজার ২২০ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ৪৩ দশমিক ৭১ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে এ লেনদেন ছিল দুই হাজার ১৬৭ কোটি ৪৭ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

একই সময়ে কমেছে ডিএসইর সাপ্তাহিক গড় লেনদেনও। গত সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন ছিল ৩০৫ কোটি ৯ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, যা আগের সপ্তাহ অপেক্ষা ২৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর গড় লেনদেন ছিল ৪৩৩ কোটি ৫৯ লাখ ৪৯ হাজার টাকা।

সপ্তাহের চার কার্যদিবসের তিনটিতেই নেতিবাচক প্রবণতার শিকার হওয়ায় পুঁজিবাজারটিতে লেনদেনের এ অবনতি ঘটে। সপ্তাহের শেষদিন পতন সামলে উঠলেও মিশ্র প্রবণতায় আটকে থাকে বাজার। এতে সপ্তাহান্তে ডিএসইর প্রধান সূচকটির অবনতি ঘটে ৬২ দশমিক ৫৪ পয়েন্ট। ৪ হাজার ৫৮৩ দশমিক ৪২ পয়েন্ট থেকে রোববার লেনদেন শুরু করা ডিএসইএক্স সূচকটি সপ্তাহ শেষে চার হাজার ৫২০ দশমিক ৮৮ পয়েন্টে স্থির হয়। ডিএসই-৩০ ও শরিয়াহ সূচক হারায় যথাক্রমে ৩১ দশমিক ৩৫ ও ১৪ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট। এর আগের সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসের চারটিতেই সূচক হারায় ডিএসই। এ নিয়ে আবারো দুই সপ্তাহ গড়াল পুঁজিবাজারের দরপতন।

গত নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহে এসে পুঁজিবাজারের দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকা দরপতন সাময়িকভাবে সামলে উঠলেও ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে তা আবার শুরু হয়েছে। এ সময় মোট আট কার্যদিবসের ছয়টিতেই সূচক হারায় ডিএসই। সাধারণত বছরের শেষ দিকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মুনাফা তুলে নিতে গিয়ে বাজারে বিক্রয়চাপ বাড়ালে এ নেতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়। কিন্তু এবার পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ও এ প্রবণতার জন্য দায়ী বলে মনে করছেন পুঁজিাবাজার সংশ্লিষ্টরা।

তাদের মতে, প্রতিষ্ঠানের মুনাফা তুলে নিতে গিয়ে বাজারে যে বিক্রয়চাপ সৃষ্টি হয় তা নভেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু করে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত বলবৎ থাকে। এর পরই আবার ঘুরে দাঁড়াতে দেখা যায় পুঁজিবাজারকে। কিন্তু এবার ডিসেম্বরের অর্ধেকটা চলে গেলেও বাজারে বিক্রয়চাপ থামছে না। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে বাড়তি বিনিয়োগ সমন্বয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

এ দিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ছয়টি কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল ২০ ডিসেম্বর। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে মুন্নু সিরামিক লিমিটেড, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, আনলিমা ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেড, মোজাফফর হোসাইন স্পিনিং মিলস লিমিটেড, বিচ হ্যাচারি লিমিটেড ও সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।

লেনদেন ও সূচকের অবনতিতে গত সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেনকৃত শেয়ারসংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পায়। এ সময় ডিএসইতে হাতবদল হয় মোট ৩০ কোটি ৭৮ লাখ ৩৬ হাজার শেয়ার, যা আগের সপ্তাহের চেয়ে ৪১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইর হাতবদল হওয়া শেয়ার ছিল মোট ৫৩ কোটি ৮৭ হাজার। কমেছে হাওলা সংখ্যাও। আগের সপ্তাহের পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৩৪৬টির স্থলে গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট হাওলা ছিল তিন লাখ ৯৫ হাজার ৮২১টি, যা ৩১ দশমিক ২০ শতাংশ কম।

এ সময় ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে চার হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি। তিন লাখ ১৪ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা বাজার মূলধন নিয়ে সপ্তাহ শুরু করা পুঁজিবাজারটির সপ্তাহ শেষে মূলধন দাঁড়ায় তিন লাখ ১০ হাজার ৪৮৫ কোটি টাকা, যা এক দশমিক ৩৫ শতাংশ কম। একই সময়ে কমেছে ডিএসইর মূল্য-আয় অনুপাতও (পিই)। আগের সপ্তাহের ১৪ দশমিক ৯৯ থেকে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে ডিএসইর গড় পিই দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৭৫।

গত সপ্তাহে ডিএসইতে নতুন তালিকাভুক্ত হয় বস্ত্র খাতের কোম্পানি রিজেন্ট টেক্সটাইল। লেনদেন শুরুর মাত্র তৃতীয় দিনের মাথায় আইপিও মূল্যের নিচে নেমে আসে কোম্পানিটির শেয়ারদর। ২৫ টাকা আইপিও মূল্যে সোমবার পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়া কোম্পানিটির শেয়ারদর বৃহস্পতিবার দিনশেষে নেমে আসে ২১ টাকায়। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির শেয়ারদর এই প্রথম এত দ্রুত আইপিও মূল্যের নিচে নামল।

গত সপ্তাহে ডিএসইর লেনদেনের শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো ফার্মা। মোট চার কার্যদিবসের তিনটিতেই লেনদেনের শীর্ষস্থানটি দখলে রাখে এটি। এ সময় ৮৫ কোটি ৫৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকায় এক কোটি দুই লাখ ১০ হাজার শেয়ার হাতবদল হয় কোম্পানিটির। ৬১ কোটি ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা লেনদেন করে একই খাতের স্কয়ার ফার্মা ছিল দ্বিতীয় শীর্ষে। ডিএসইর সাপ্তাহিক লেনদেনের শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরো ছিল যথাক্রমে কাসেম ড্রাইসেল, রিজেন্ট টেক্সটাইল, ডেল্টা লাইফ, বিএসআরএম স্টিলস, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, সাইফ পাওয়ারট্রেক ও আফতাব অটোমোবাইলস।

Source : নয়া দিগন্ত

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here