ফেব্রুয়ারিতে ৫ বছরের সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স

0
352

স্টাফ রিপোর্টার : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অব্যাহতভাবে কমছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের  তথ্য অনুযায়ী, গেল ৫ বছরের মধ্যে প্রবাসীরা সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন গেল ফেব্রুয়ারি মাসে। এই মাসে তারা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৯৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন।

প্রবাসী আয় নিয়ে বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই ৫ বছর ৩ মাসের মধ্যে কোনও একক মাসে এটি সর্বনিম্ন রেকর্ড।

জানা গেছে, দেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলের পরিবর্তে অবৈধ চ্যানেল বেছে নিচ্ছেন। এর ফলে একদিকে অব্যাহতভাবে কমছে প্রবাসী আয়। অন্যদিকে বাড়ছে মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা। অবশ্য প্রবাসী আয় বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও অবস্থার কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না। এ অবস্থায় অনেকটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নির্ধারকরা।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর চলমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় প্রবাসী আয়  কিছুটা কমেছে। তিনি বলেন, প্রবাসী আয় কমার কারণ অনুসন্ধানে বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ আগে থেকেই তৎপর রয়েছে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, এরপরও প্রবাসী আয় কমছে।

শুভঙ্কর সাহা উল্লেখ করেন, প্রবাসী আয় বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। সব ধরনের হুন্ডি চক্র নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। হুন্ডি প্রতিরোধে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত ৫ বছরের মধ্যে ২০১৬ সালের নভেম্বরে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন (৯৫ কোটি ডলার), ডিসেম্বরে (৯৫ কোটি ডলার)। সদ্য বিদায়ী ফেব্রুয়ারিতে (৯৩ কোটি ডলার)। এছাড়া ২০১১-১২ অর্থবছরে সেপ্টেম্বর (৯৫ কোটি ডলার) ও  নভেম্বর মাসে পাঠিয়েছিলেন (৯০ কোটি ডলার)।

জানা গেছে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই নেতিবাচক প্রবাহ থেকে উত্তরণে  সম্প্রতি কয়েক দফায় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতি নির্ধারকেরা। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দু’টি প্রতিনিধি দল মধ্যপ্রাচ্য, সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় সরেজমিন তদন্তে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর বাইরে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাসগুলোরও সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

২০১১ সালের নভেম্বর মাসে সর্বনিম্ন ৯০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। এর পর টানা ৪ বছর রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ার পর ২০১৬ সালের শুরুতে প্রবাসীরা অর্থ পাঠানো কমিয়ে দেন। এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা  গেছে, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। ওই অর্থবছরে দেড় হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। দেশের ইতিহাসে একক মাসে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স আসে ওই অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাই মাসে ১৪৯ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

২০১৬ সালের জুলাইতে ১০০ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স আসে। এরপর আগস্ট মাসে আসে ১১৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে আসে ১০৫ কোটি ৬৬ লাখ এবং অক্টোবরে ১০১ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে আসে। নভেম্বরে  আসে মাত্র ৯৫ কোটি ১৪ লাখ ডলার। এরপর ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে মাসে রেমিট্যান্স আসে ৯৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স আসার গতি একটু বেড়ে ১০০ কোটি ডলার আসলেও সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে রেমিট্যান্স আসে ৯৩ কোটি ৬২ লাখ ডলার।

চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৮১১ কোটি ২৪ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। যা আগের অর্থবছরে একই সময়ের তুলনায় ১৬৫ কোটি ৬৮ লাখ ডলার কম।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্থিরতা ও টাকার বিপরীতে ডলারের মূল্য কম থাকায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করতে আগ্রহী হচ্ছে না। তবে  হুন্ডি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং ও  অবৈধ উপায়ে টাকা হয়ত ঠিক টাকা আসছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও সতর্ক হতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here