সিনিয়র রিপোর্টার : ফের বিমান উড্ডয়ন করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের নীতি নির্ধারণী বিভাগের সঙ্গে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ সচিবালয়ে বৈঠক করেছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। বিমানের ব্যবস্থাপনা ব্যয়সহ ৪৮৪ কোটি টাকার কথা বৈঠকে জানানো হয়।

এরমধ্যে শর্ত সাপেক্ষে ২২৪কোটি টাকা ইউনাইটেড এয়ার ঋণ সহযোগীতা দাবি করলে এ বিষয়ে অপারেশনাল থিওরি লেটার আগামী সপ্তাহেই জমা দিতে বলেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে বিমান কর্তৃপক্ষ ২০১৬ সালে বিদেশ থেকে নেয়া তিন ধরণের ৫টি বিমান উড্ডয়ন করতে চায়। এসব বিমান পরিচালনায় ব্যয় হবে প্রায় ৪৮৪কোটি টাকা। এরমধ্যে ২৬০কোটি টাকা এয়ার কর্তৃপক্ষ বহন করবে।

পুরনো ১০টি বিমান ‘সিচেক’ শেষে পরে উড্ডয়ন উপযোগী করে ফ্লাইং অপারেশন করবে বিমান কর্তৃপক্ষ।

যা ২০১৬ সালের ১৩নভেম্বর বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বিদেশে রাখা বিমানগুলো পরিদর্শন শেষে নিরাপদে উড্ডয়ন অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের উইং কমান্ডার ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাব উদ্দিন আহমেদ।

২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে আবেদন করা চিঠি

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা সংকটে কোম্পানির নিজস্ব ১০টি বিমান ২০১৬ সালের ৫ মার্চ উড্ডয়ন বন্ধ হয়। দীর্ঘ সময় পরে পুরনো সেসব বিমান বাদে নতুন ৫টি বিমান পরিচালনা করতে প্রয়োজন হবে ৪৮৪কোটি টাকা। এরমধ্যে শর্ত সাপেক্ষে ২২৪কোটি টাকা সরকারের কাছে ঋণ চেয়েছে ইউনাইটেড এয়ার (বিডি) লিমিটেড।

এই ঋণের টাকা কিভাবে ব্যয় হবে এবং অর্থের ব্যবস্থা কিভাবে হবে -তাও জানতে চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

দুটি পক্ষের বৈঠক গত বৃহস্পতিবার হয়েছে বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মি. নাহিদ। বুধবার দুপুরে তিনি বলেন, দুটি পক্ষের বৈঠক গত সপ্তাহে করা হয়েছে। কি ধরণের সহযোগিতা প্রয়োজন তা আগামী সপ্তাহের মধ্যে বিমান কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে।

ইউনাইটেড এয়ারের বিশেষ একটি সূত্র বুধবার সন্ধ্যায় জানায়, বিদেশ থেকে আনা ওই ৫টি বিমানের ব্যবস্থাপনা ব্যয় বাবদ মাত্র ২২৪ কোটি টাকা ঋণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মোট টাকার মধ্যে ২৬০কোটি টাকা কোম্পানি বহন করবে। বাকি টাকা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেয়া হলে ফ্লাইং অপারেশন সম্ভব।

তবে এ বিষয়ে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ক্যাপ্টেন তাসবিরুল আহমেদ চৌধুরী কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

২০১৬ সালে বিদেশ থেকে নেয়া তিন ধরণের ৫টি বাস হলো- 1. A340-300: Qtz: 02, 2. ATR 72-500 Qtr:02. 3. MD-83 : Qtr:01. A340-300 বিমান দুটি, ATR 72-500 Qtr:02 বিমান দুটি এবং MD-83 : Qtr:01 বিমান।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (বিডি) লিমিটেডের নিজস্ব ১০টি বিমান ফের উড্ডয়ন করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এয়ার কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দুটি পক্ষ গত বৃহস্পতিবার বৈঠকে বসেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here