৫টি প্রতিষ্ঠান একীভূত করবে ইন্ট্রাকো

0
625

স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ৯৫ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণ করছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড। আয়কর, লভ্যাংশ কর ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কোম্পানিগুলো একীভূত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ। অবশিষ্ট মাইনরিটি শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ ও পরিশোধের মাধ্যমে সাবসিডিয়ারিগুলোর সমুদয় সম্পদ ও দায় একীভূত করবে কোম্পানিটি। এজন্য শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পাশাপাশি সব রেগুলেটরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে তাদের।

স্টক এক্সচেঞ্জ মারফত বিনিয়োগকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং কর্তৃপক্ষ জানায়, আবসার অ্যান্ড ইলিয়াস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, ইস্ট অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড, এম হাই অ্যান্ড কোম্পানি সিঅ্যান্ডজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড, গুড সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড ও নেসা অ্যান্ড সন্স লিমিটেড নামের পাঁচটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির ৯৫ শতাংশের বেশি শেয়ারের মালিক তারা।

মূল কোম্পানি ও সাবসিডিয়ারিগুলোর পর্ষদ সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সব সম্পদ ও দায় অধিগ্রহণের মাধ্যমে সাবসিডিয়ারিগুলোকে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের সঙ্গে একীভূত করা হবে। এতে সাবসিডিয়ারিগুলোর আয়কর ৩৫ থেকে ২৫ শতাংশে নেমে আসবে, কমবে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও। পাশাপাশি সাবসিডিয়ারিগুলো থেকে আসা লভ্যাংশের ওপর দ্বৈতকরও পরিহার করা সম্ভব হবে।

একীভূতকরণের কাট অফ ডেট ধরা হয়েছে ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) পাশাপাশি বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নিয়ে উচ্চ আদালতের অনুমোদনক্রমে একীভূতকরণ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে তাদের।

এদিকে, সাবসিডিয়ারিগুলোর মাইনরিটি শেয়ার অর্থাৎ যেসব শেয়ার ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং ছাড়া অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে রয়েছে সেগুলোর বিষয়ে কী করা হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা কাজী মাহমুদুল হক বলেন, সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের একটি যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে আমরা বিএসইসি ও শেয়ারহোল্ডারদের সামনে উপস্থাপন করব। তারা অনুমোদন দিলে মাইনরিটি শেয়ারহোল্ডারদের শেয়ারগুলোর দাম পরিশোধ করে দেবে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। এরপর কোম্পানিগুলোর সমুদয় সম্পদ ও দায় ইন্ট্রাকোর সঙ্গে একীভূত হয়ে যাবে। এতে উচ্চ আদালতেরও অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রতিটি সাবসিডিয়ারির ওপর এখন ৩৫ শতাংশ হারে আয়কর প্রযোজ্য। ব্যবসাগুলো তালিকাভুক্ত কোম্পানির অধীনে চলে এলে এ হার ২৫ শতাংশে নেমে আসবে। তাছাড়া বর্তমান কাঠামোয় সাবসিডিয়ারি থেকে মূল কোম্পানি কোনো লভ্যাংশ পেলে একবার সেখানে লভ্যাংশ কর পরিশোধ করতে হয়। তারপর তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা যে লভ্যাংশ পান, সেখানেও এ কর প্রযোজ্য হয়। দুই স্তরে লভ্যাংশ কর এড়ানো গেলে ইন্ট্রাকোর শেয়ারহোল্ডাররা লাভবান হবেন। কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয়েও (ইপিএস) এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান অর্থ কর্মকর্তা।

প্রথম ধাপে গৃহীত স্কিমে রেগুলেটরদের অনুমোদন পাওয়ার পর ইজিএম আহ্বান করবে কোম্পানি।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের মার্চে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) চাঁদা নেয় ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন। অভিহিত মূল্যে আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৩০ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করে কোম্পানিটি। পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ কোম্পানিটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বোতলজাতকরণ প্লান্ট ও বিতরণের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ করার ঘোষণা দেয়।

আইপিও প্রক্রিয়ার ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি শেড, জেনারেটর, ট্রাকসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য খাতেও আইপিওর কিছু অর্থ বিনিয়োগ করতে হচ্ছে তাদের। ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিল এএফসি ক্যাপিটাল লিমিটেড ও এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনার্স ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড। নিরীক্ষক মাফেল হক অ্যান্ড কোম্পানি।

গত অক্টোবরে কোম্পানিটি জানায়, সব দিক বিবেচনা করে এলপিজি বোতলজাতকরণের প্লান্টটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার বদলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় স্থাপন করবে তারা। এ বিষয়ে বার্ষিক সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনও পায় কোম্পানিটি।

৩০ জুন সমাপ্ত ২০১৮  হিসাব বছরের জন্য ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং। সমাপ্ত হিসাব বছরে তাদের সম্মিলিত ইপিএস হয় ১ টাকা ১৫ পয়সা ও শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ১২ টাকা ৮৪ পয়সা। চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানির ইপিএস হয়েছে ৫১ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৩৯ পয়সা।

এখন পর্যন্ত ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিংয়ের মূল ব্যবসা সিএনজি রিফুয়েলিং। ২০০৭ সালে যাত্রা করা কোম্পানিটির মালিকানায় বর্তমানে তিনটি স্টেশন রয়েছে। এর বাইরে ২০১২ ও ২০১৩ সালে তারা দেশের বিভিন্ন অংশে মোট পাঁচটি স্টেশন কিনতে সংশ্লিষ্ট পাঁচ কোম্পানি অধিগ্রহণ করে।

১০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে মূল কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৭৮ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। রিজার্ভ ১৭ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ২২ দশমিক ৪৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ও ৪৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৩৬ দশমিক ৯৩, অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ২৭ দশমিক ১৬।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here