৩ বছর পরে শিগগিরই আসছে খুলনা প্রিন্টিংয়ের উৎপাদনে ফেরার ঘোষণা

1
2723

বিশেষ প্রতিনিধি : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেডের (কেপিপিএল) দ্বন্দ্বের অবসান হয়েছে। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপে গত আগস্ট মাসের শেষে অবসান হলে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরুর জন্য সামগ্রীকভাবে প্রস্তুতি নিয়েছে।

২০১৫ সালের ২৫ আগস্ট খুলনায় প্রতিষ্ঠানটির ৬টি গুদাম সিলগালা করে দেয় এনবিআর। বাণিজ্য করতে ইতোমধ্যে গুদামগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। কাঁচামাল আমদানি ও ব্যবসা পরিচালনার জন্য এনবিআরের কাছে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে বিআইএন এবং বন্ড লাইসেন্স নবায়নের আবেদনও করা হয়। নতুন লাইসেন্স হাতে পেলেই নতুন রুপে উৎপাদনে ফিরবে কেপিপিএল।

সমঝোতার আওতায় এনবিআরের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা এরই মধ্যে আদালত থেকে চলমান মামলা তুলে নিয়েছে কেপিপিএল কর্তৃপক্ষ। লেটার অব ক্রেডিটের (এলসি) মাধ্যমে আনা ৫৩ কোটি টাকার কাঁচামাল চট্টগ্রাম বন্দরে আটকা আছে। ইতোমধ্যে সেসব পণ্য খালাসের অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে বিশেষ সূত্র জানায়।

তিন বছর পরে খুব দ্রুত কোম্পানি উৎপাদনে ফিরবে বলে আভাস মিলেছে। তবে দিনক্ষণ উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষের বলতে পারছেন না।

কেপিপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, কেপিপিএলের গুদাম ও বিআইএন খুলে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়। পরবর্তীতে কেপিপিএলের উদ্যোগে এনবিআরের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক শেষে উভয়পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়। এরপরে তারা খুলনার গুদাম খুলে দিয়েছে।

কোম্পানির এমডি এ প্রসঙ্গে বলেন, নবায়নকৃত বন্ড ও বিআইএন লাইসেন্স হাতে পেলেই কারখানায় উৎপাদন শুরু করা যাবে। গুদামে এখনো বেশকিছু কাঁচামাল মজুদ রয়েছে। নতুন কাঁচামাল আমদানি করতেও প্রস্তুত রয়েছে কোম্পানি। দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকলেও পণ্য বিক্রয়ে কোনো সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

উৎপাদনে ফেরা সম্পর্কে এনবিআরের শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঈনুল খান বলেন, এনবিআরের তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অনিয়মের কারণে তাদের বিআইএন ও বন্ড লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনবিআর সবসময়ই ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির পক্ষে। কোম্পানির বিদ্যমান সমস্যা শিগগিরই সমাধান হবে বলে বিশ্বাস এ কর্মকর্তার।

উল্লেখ্য, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে অনুমোদন ছাড়া বন্ডেড ওয়্যার হাউজ সম্প্রসারণ ও বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতার অতিরিক্ত কাঁচামাল সংরক্ষণ করায় কেপিপিএলের বিরুদ্ধে ২৭১ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ তোলে এনবিআর। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৩০ এপ্রিল কোম্পানিকে জরিমানাও করে রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি। জরিমানা পরিশোধ না করলে ওই বছরের ২৫ আগস্ট থেকে খুলনায় প্রতিষ্ঠানটির ছয়টি গুদাম সিলগালা করে দেয় এনবিআর।

তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে এনবিআরের জরিমানার আদেশ ও সিলগালার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করলে ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি এনবিআরের পদক্ষেপকে অবৈধ ঘোষণা করেন আদালত। একই সঙ্গে এলসির মাধ্যমে আনা পণ্য ১৫ দিনের মধ্যে খালাসেরও নির্দেশনা দিয়েছিলেন আদালত। ওই সময় কোম্পানির গুদাম ও কারখানা খুলে দিলেও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়ায় কোম্পানিটিকে নতুন করে কাঁচামাল আমদানির অনুমতি দেয়নি এনবিআর। ছাড় করা হয়নি আগে আমদানি করা কাঁচামালও।

ফলে স্থানীয় কাঁচামাল দিয়েই উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল কোম্পানিটি। তবে পরিচালন ব্যয় বেশি হওয়ায় চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি কারখানা বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয় কেপিপিএল কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-মার্চ) কেপিপিএলের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৭ পয়সা, যেখানে আগের বছর একই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৩০ পয়সা। ৩১ মার্চ পুনর্মূল্যায়নজনিত উদ্বৃত্তসহ কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়ায় ১৬ টাকা ৮৫ পয়সা।

২০১৬ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কেপিপিএল। সর্বশেষ হিসাব বছরে প্রতিষ্ঠানটির ইপিএস হয়েছে ৩৩ পয়সা। এর আগে ২০১৫ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। তখন বার্ষিক ইপিএস ছিল ১ টাকা ৫১ পয়সা।

পেছনের খবর : খুলনা প্রিন্টিংয়ের উৎপাদন বন্ধ!

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here