৩ ঋণখেলাপির কারণে সংকটে পড়বে ২১ ব্যাংক : বিশ্বব্যাংক

1
929

সিনিয়র রিপোর্টার : দেশের বড় তিন জন ঋণখেলাপি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বা তাদের প্রতিষ্ঠান আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়লে ২১টি ব্যাংক মূলধন সংকটে পড়বে। এমন ঋণখেলাপির সংখ্যা সাত জন হলে ৩১টি এবং ঋণখেলাপির সংখ্যা ১০ জন হলে ৩৫টি ব্যাংক মূলধন সংকটে পড়বে। তাদের মূলধন মাপকাঠির নিচে নেমে যাবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আউটলুক-২০১৯’ প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্য আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে বাংলাদেশে প্রচুর বিনিয়োগ হতে হবে, প্রয়োজনীয় জনবল থাকতে হবে এবং আর্থিক খাত, ব্যবসায়িক নিয়ন্ত্রণ ও অবকাঠামো শূন্যতা পূরণের মতো খাতগুলোতে উদ্ভাবনী সংস্কার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং খাতকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতের সবচেয়ে বড় দুর্বলতার জায়গা বলে অভিহিত করেন জাহিদ হোসেন। আর খেলাপি ঋণকে এই খাতের প্রধান সমস্যা বলে চিহ্নিত করেন তিনি। জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের ব্যাংকিং খাতে বড় বড় ঋণখেলাপি রয়েছে। তাদের ঋণ বারবার পুনঃতফসিল করতে দেয়া হচ্ছে। একেকজনকে তিন-চার বার করে ঋণ পুনঃতফসিল করতে দেয়ার মাধ্যমে আর্থিক খাত, বিশেষ করে ব্যাংক দুর্বল হচ্ছে। এভাবে পুনঃতফসিলের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

তিনি বলেন, বড় ঋণখেলাপিদের তিন জন, সাত জন বা ১০ জন যদি ঋণ পরিশোধ না করতে পারেন কিংবা তাদের প্রতিষ্ঠান বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে, তাহলে যথাক্রমে ২১টি, ৩১টি বা ৩৫টি ব্যাংকের মূলধন মাপকাঠির নিচে নেমে যাবে।

সম্প্রতি ঋণখেলাপিদের ৯ শতাংশ সরল সুদে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দিতে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার সমালোচনা করে জাহিদ হোসেন বলেন, এভাবে ঋণ পরিশোধের সুযোগ করে দেয়া হলে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে। বারবার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করার পরিবর্তে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলেন তিনি।

৯৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, এত ঋণের সবই কি অনিচ্ছাকৃত খেলাপি? সব খেলাপি ঋণকে অনিচ্ছাকৃত বলা যাবে না বলে মত দেন জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, গত ১০-১৫ বছরে দেশে এমন কিছু (বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বড় ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা) ঘটেনি যে বারবার ঋণ পুনঃতফসিল করতে হবে। এভাবে পুনঃতফসিল করা হলে ব্যাংকগুলো লোকসানে পড়ে যাবে।

আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে দেয়া উচিত মত দিয়ে বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের প্রধান অর্থনীতিবিদ বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংক যেন ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। তাদের কাজে যেন হস্তক্ষেপ না করা হয়।

খেলাপি ঋণের সঙ্গে রাজস্ব আহরণের চিত্রও হাতাশাজনক উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশের রাজস্ব খাতে এখনো পরিবর্তন আসছে না। রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। ফলে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি আরো বাড়বে। ঘাটতির পরিমাণ জিডিপির ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, তবে তা ৫ শতাংশের নিচে থাকবে। গত অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

দেশের আমদানি-রপ্তানির তুলনামূলক চিত্র উল্লেখ করে জাহিদ হোসেন বলেন, ২০১৮ সালে দেশে ২৫ শতাংশের বেশি আমদানি হয়েছে, সে তুলনায় রপ্তানি কম হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে আমদানি কমেছে, রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ফলে বিভিন্নভাবে বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আসছে। কিন্তু সে তুলনায় পেমেন্টও (আমদানি বা এলসি খোলার মাধ্যমে ডলার দেশের বাইরে চলে যাওয়া) বাড়ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব মুদ্রা বাজারে পড়ছে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here