স্টাফ রিপোর্টারঃ  ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ বেশি কর্মী চাকরি লাভ করেছে। ২০১৬ সালে বিদেশে ৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৩১ জন কর্মীর কর্মসংস্থান হয়েছে। চলতি বছর বিভিন্ন দেশে ৮ লক্ষাধিক কর্মীর কর্মসংস্থান হবে। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, গত বছর ওমানে সর্বোচ্চ সংখ্যক ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৭ জন কর্মী গেছে। একই বছর সউদী আরবে গেছে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯১৩ জন কর্মী। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সিন্ডিকেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিন্ডিকেট বলতে কিছু নেই; যারাই মালয়েশিয়া থেকে কর্মী নিয়োগের চাহিদা আনতে পারবে তাদের কর্মী প্রেরণের সুযোগ দিতে আমরা প্রস্তুত রয়েছি। এছাড়া রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী প্রেরণে নিরলসভাবে চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রবাসী মন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে যে কোনো বছরের মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক নারী কর্মীর বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে। যার পরিমাণ মোট এক লাখ ১৮ হাজার ৮৮ জন। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা ছিল এক লাখ ৩ হাজার ৭১৮ জন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় নারী কর্মসংস্থানের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩.৮৫ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে সউদী আরব থেকে ২ হাজার ৯৮৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তারপরই এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২ হাজার ৫৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। জেলাভিত্তিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে, কুমিল্লা জেলা থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক (৮৬ হাজার ৩৫২ জন) কর্মী বিদেশে গমন করেছে, দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা (৪৫ হাজার ৭৮০ জন কর্মী)।

মন্ত্রী আরো বলেন, আমরা সবসময় দক্ষ কর্মী তৈরি ও প্রেরণের দিকে সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে আসছি। ২০১৬ সালে ৬টি আইএমটি ও ৬৪টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ মোট ৭০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যম ৩ লাখ ৭ হাজার ৮৪৯ জন কর্মীকে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান লাভের উদ্দেশ্যে ৪৮টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীদের শতভাগ বীমার আওতায় আনাসহ প্রবাসী কর্মীদের সন্তানদের জন্য আবাসিক স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবার-পরিজনের সুচিকিৎসার জন্য হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের জীবনমানের উন্নয়ন ও বহুমুখী কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘প্রবাসী কল্যাণ বোর্ড আইন ২০১৭’ প্রণয়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here