৩৫ টাকার শেয়ার ১৭ টাকা, আইপিও’র টাকা অব্যবহৃত

0
3659

শাহীনুর ইসলাম : হামিদ ফেব্রিক্স লিমিটেড কোম্পানি ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকভিুক্ত হয়। আইপিওতে প্রিমিয়াম ২৫ টাকা এবং ফেসভ্যালু ১০ টাকাসহ শেয়ারপ্রতি ৩৫ টাকা উত্তোলন করে কোম্পানিটি। ৩৫ টাকা মূল্যের শেয়ার সোমবার দুপুরে ১৭ টাকায় অবস্থান নিতে দেখা যায়।

পুঁজিবাজারে হামিদ ফ্রেব্রিক্স ৩ কোটি শেয়ার ইস্যু করে মোট ১০৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। এর মধ্যে ৩০ কোটি ৪২ লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ করলেও ‘ব্যবসা সম্প্রসারণে ৭২ কোটি টাকা এখনো ব্যয় করা হয়নি’। যে কারণে ইতোমধ্যে কমেছে কোম্পানির ইপিএস।

কারণ অনুসন্ধানে কথা হলে কোম্পানির সেক্রেটারি মো. মিজান বলেন, এখনো আইপিও থেকে উত্তোলিত টাকা ব্যবহার করা হয়নি। এজিএমে টাকা ব্যবহারের সময়সীমাও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

টাকা ব্যবহারের নির্ধারিত সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী ৬ মাসের মধ্যে টাকা ব্যহার হেবে। ইতোমধ্যে সে প্রক্রিয়া চলছে। ইপিএস কমার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কিছুদিন আমাদের একটি প্লান্ট বন্ধ ছিল। ব্যবসা ভালো হলেও উৎপাদন কম ছিল। কিছু দিনের মধ্যে সে প্লাট চালু করা হবে।

Screenshot_1প্রসপেক্টাসে আইপিওর অর্থ পাওয়ার এক বছরের মধ্যে ব্যবসা সম্প্রসারণের কথা উল্লেখ করা হয়। ২০১৪ সালের অক্টোবরে কোম্পানিটি আইপিওর অর্থ সংগ্রহ করে। এর পর প্রায় দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কোম্পানির ব্যবসা সম্প্রসারণের কাজ সম্পন্ন হয়নি।

কারণ জানতে চাইলে কোম্পানির উপদেষ্টা দীন ইসলাম বলেন, এটা কোম্পানি সেক্রেটারি বলতে পারেন। অন্যকোন বিষয়ে থাকলে আপনি কথা বলেন।

‘কোম্পানির আয় কম হওয়া’ নিয়ে হামিদ ফ্যাব্রিকসের চেয়ারম্যান এএইচএম মোজাম্মেল হক জানান, কারখানা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে পুরনো যন্ত্রপাতি বদলে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করা হয়েছে। এ কারণে সে সময় কোম্পানির উইভিং ইউনিটের উৎপাদন কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে রেভিনিউ কমে যায়, যা মুনাফায় প্রভাব ফেলে।

এদিকে বড় অঙ্কের ঋণ পরিশোধ করলেও এর কোনো সুফল হামিদ ফ্যাব্রিকসের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে না। বরং আইপিও-পূর্ববর্তী সময়ের চেয়ে বর্তমানে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফা আরো কমেছে। গেল বছর ২০১৪ সালের তুলনায় কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ সময়ে কোম্পানির পণ্য বিক্রির পরিমাণও ১৮ শতাংশের বেশি কমেছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৪ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরে হামিদ ফ্যাব্রিকসের রেভিনিউ ছিল ২১৯ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, যা পরের বছর ১৭৮ কোটি ২৫ লাখ টাকায় নেমে আসে। এক বছরের ব্যবধানে পণ্য বিক্রি কমলেও বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ।

২০১৪ সালে কোম্পানির রেভিনিউর বিপরীতে উৎপাদন খরচ ছিল ৬৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর ২০১৫ সালে রেভিনিউর বিপরীতে উত্পাদন খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৭৩ দশমিক ৫৯ শতাংশে। এ সময় প্রশাসনিক ব্যয়ও বেড়েছে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে কোম্পানির কর-পরবর্তী মুনাফায়।

২০১৫ সালে হামিদ ফ্যাব্রিকসের কর-পরবর্তী মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা আগের বছর ছিল ২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে হামিদ ফ্যাব্রিকসের কর-পরবর্তী মুনাফা কমেছে ৫১ শতাংশ।

২০১৪ সালে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৪ টাকা ৮১ পয়সা, যা ২০১৫ সালে ১ টাকা ৮০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। চলতি অর্ধবার্ষিকীতে কোম্পানিটি কর-পরবর্তী মুনাফা দেখিয়েছে ৫ কোটি ৫ লাখ টাকা।

হামিদ ওয়েভিং আইপিও প্রক্রিয়ায়

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here