৩৩০ টন স্বর্ণ ফিরিয়ে নিল জার্মানি!

0
1184

সিএনএন : নিউইয়র্ক ভল্টে রাখা ১ হাজার ৩০০ কোটি মূল্যমানের স্বর্ণ ফিরিয়ে নিল জার্মানি। দেশের বাইরে রাখা রিজার্ভের অর্ধাংশ ফিরিয়ে নেয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এগুলো ফিরিয়ে নেয়া হলো। প্যারিস থেকে আর একশ টন ফেরত নিলেই জার্মানির এ পরিকল্পনা পূর্ণ হবে।নিউইয়র্ক ভল্টের ৩৩০ টন স্বর্ণ ফিরিয়ে নিল জার্মানি

২০১৩ সাল থেকেই প্যারিস এবং নিউইয়র্কের ভল্টে রক্ষিত স্বর্ণ ফিরিয়ে নিচ্ছে জার্মানি। এখন পর্যন্ত ৬৪২ টন ফিরিয়ে নিয়েছে দেশটি।

সর্বশেষ স্থানান্তরে জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ থেকে ৩৩০ টন স্বর্ণ ফ্রাঙ্কফুর্টে ফিরিয়ে নিয়েছে। তবে স্বর্ণগুলো কীভাবে এতো দূরত্বে স্থানান্তর করা হলো সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, জনগণের আস্থা ফেরাতেই তারা এসব স্বর্ণ নিজ ঘরে ফিরিয়ে আনছেন।

তবে আসল কথা হচ্ছে, স্বর্ণের মজুদ সোভিয়েতের (বর্তমানে রাশিয়া) নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার ভয় আর করে না জার্মানরা। শীতল যুদ্ধের সময় মানুষের মধ্যে যতোটা ভীতি কাজ করছিল সেটি এখন একেবারেই নেই। নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি মুহূর্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রায় রূপান্তরিত করার ব্যবস্থা রেখে প্যারিসে স্বর্ণ মজুদ রাখার যৌক্তিকতাও নেই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোল থেকেই জার্মানি বিভিন্ন স্থানে স্বর্ণ মজুদ করতে শুরু করে। দেশটির অর্থনীতি দিনে দিনে শক্তিশালী হওয়ার সাথে সাথে রফতানি আয় থেকে প্রাপ্ত মার্কিন ডলার তারা স্বর্ণে রূপান্তরিত করতে থাকে। দেশের বাইরে বিভিন্ন ভল্টে এগুলো জমা রাখা শুরু করে।

সোভিয়েত আক্রমণের ভয়েই মূলত তারা বিদেশে স্বর্ণ মজুদ করতে থাকে। এমনকি স্বর্ণের দামের বিপরীতে ডলারের বাজার নির্ধারণের রীতি বাতিল হয়ে গেলেও এ প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদেশে জার্মানির মজুদ নিয়ে কিছু গুজব ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, এসব স্বর্ণ হাতছাড়া বা বেচে দেয়া যে হয়নি তার কি নিশ্চয়তা?

এমনকি মূলধারার রাজনীতিতে এই ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রভাব বিস্তার করতে থাকে। অবশেষে ২০১২ সালে জার্মান কেন্দ্রীয় নিরীক্ষা আদালত এ ব্যাপারে তদন্তের নির্দেশ দেয়।

যদিও জার্মান কেন্দ্রীয় ব্যাংক জোর দিয়ে বলেছে, তারা এ বিষয়ে নিয়মিত হালনাগাদ খবরাখবর রাখে। অবশ্য এর পরের বছরেই তারা ঘোষণা দেয়, বিদেশের মজুদ থেকে অর্ধেক স্বর্ণ ফিরিয়ে আনা হবে।

বাকি মজুদ তারা লন্ডন এবং নিউইয়র্কে রাখবেন। যাতে জরুরি অর্থনৈতিক প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পাউন্ড বা ডলারে রূপান্তরিত করা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here