৩টি বিদ্যুৎকেন্দ্র কিনছে ইউনাইটেড পাওয়ার

0
879

স্টাফ রিপোর্টার : বিলিয়ন গ্রুপের কোম্পানি ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ইউপিজিডি) একই গ্রুপের নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কোম্পানিটির অধীনে আনার পরিকল্পনা করছে। শেয়ারবাজার সংশ্নিষ্ট একাধিক সূত্র ও কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাদের নীতিগত এ সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করেছেন।

এর আগে ২০১৫ সালের জুনে ইউনাইটেড গ্রুপ তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রকে একটি কোম্পানির অধীনে আনার উদ্যোগ নিয়েছিল। এরই অংশ হিসেবে সিলেটের কুমারগাঁওয়ে ২৮ মেগাওয়াটের শাহজাহানউল্লাহ পাওয়ার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ৫৩ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন আশুগঞ্জ পাওয়ার প্লান্টের মোট ৬৫২ কোটি টাকা মূল্য ধরে ইউপিজিডির সঙ্গে একীভূত করার উদ্যোগ নেয়। এ উদ্যোগে শেয়ারহোল্ডার ও উচ্চ আদালতেরও অনুমতি ছিল।

তবে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ বিবেচনায় অতালিকাভুক্ত কোম্পানি দুটির মূল্য নির্ধারণ নিয়ে আপত্তি তুলে হাইকোর্টের এ সংক্রান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তাতে আগের আদেশ স্থগিত হয়। এরপর ইউপিজিডিও একীভূতকরণ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসে।

ইউপিজিডির এক কর্মকর্তা জানান, এই দুই কোম্পানিকে আর একীভূত বা অধীগ্রহণের সুযোগ নেই। এরই মধ্যে এ দুটিতে ইউপিজিডির শেয়ার থাকায় কোম্পানি আইন অনুযায়ী এ সুযোগ বন্ধ হয়েছে। তবে বর্তমানে যেসব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন বা ভবিষ্যতে আসবে, সেগুলো অধিগ্রহণ বা একীভূতকরণে বাধা নেই। কোম্পানি সূত্র জানায়, ইউপিজিডির নীতিনির্ধারকরা এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিলেও শেয়ারহোল্ডাদের সম্মতি ছাড়া তা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই।

কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, এবার একীভূতকরণ নয়, বরং অধিগ্রহণ করার পরিকল্পনা নিয়ে তারা এগোচ্ছেন। এর কারণ ব্যাখ্যায় তারা বলছেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থা যাতে এক্ষেত্রে কোনো আপত্তি না করে, সে জন্য অতালিকাভুক্ত কোম্পানির বিদ্যুৎকেন্দ্র একীভূত করবে প্রকৃত খরচে। অর্থাৎ নির্মাণে যত খরচ হয়েছে, ঠিক সে দরেই তালিকাভুক্ত কোম্পানি ইউপিজিডির কাছে বিক্রি হবে।

সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ময়মনসিংহে বাস্তবায়নাধীন ১১৫ মেগাওয়াট ও ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র কিনে নেওয়ার সুযোগ আছে। এরমধ্যে ১১৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলতি মে মাসের শেষে বা আগামী জুনের শুরুতে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার সম্ভাবনা আছে। এছাড়া ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে যাবে আগামী সেপ্টেম্বরে। একইভাবে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বাস্তবায়নাধীন ৩০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্রটিও অধিগ্রহণ করতে পারে ইউপিজিডি।

কোম্পানি সূত্র জানায়, দরপত্র অনুযায়ী ময়মনসিংহের ১১৫ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে প্রাক্কলিত ব্যয় সাড়ে ৯ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৬০ কোটি টাকা। একই জেলার ২০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে খরচ হবে ১৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বা ১ হাজার ৪৪৮ কোটি টাকা। আর আনোয়ারার ৩০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি স্থাপনে খরচ ধরা হয়েছে ২৪ কোটি ডলার বা ১ হাজার ৯২০ কোটি টাকা।

অর্থাৎ এই তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র কিনতে চাইলে ইউনাইটেড পাওয়ারকে দিতে হবে ৪ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির হিসাবে পুঞ্জীভূত মুনাফা আছে ৯০০ কোটি টাকা। অতিরিক্ত অর্থ কোথা থেকে আসবে- এমন প্রশ্নে কোম্পানিটির দায়িত্বশীল ঊর্ধ্বতন এক কর্মকতা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র তিনটি ৪০ শতাংশ মুনাফা ও ৬০ শতাংশ বিদেশি ঋণে বাস্তবায়ন চলছে। ফলে পুরো অর্থ নগদে পরিশোধের দায় নেই।

প্রকৃত ব্যয়ে কেন্দ্রগুলো এর উদ্যোক্তারা বিক্রি করে দিতে রাজি হচ্ছেন কেন- এমন প্রশ্নে কোম্পানির ওই কর্মকর্তা বলেন, সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্যোক্তা ইউনাইটেড গ্রুপ। এর কর্ণধারদের হাতে আছে তালিকাভুক্ত ইউপিজিডির ৯০ শতাংশ শেয়ার। বাকি ১০ শতাংশ অন্য বিনিয়োগকারীদের। এ ১০ শতাংশ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এটুকু আর্থিক ছাড় দিতে তাদের আপত্তি নেই।

ইউপিজিডি সূত্র জানায়, নতুন পরিকল্পনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির আপত্তি তোলারও জায়গা নেই। কারণ, এখানে উদ্যোক্তারা সুস্পষ্টভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ ছাড়ছেন। বিপরীতে পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত এগিয়ে নিলে লাভবান হবেন সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা। বর্তমানে ইউপিজিডির হাতে পুঞ্জীভূত মুনাফা (প্রিমিয়াম আয় ছাড়া) ৯০০ কোটি টাকার বেশি। শেয়ারহোল্ডাররা চান, এ অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার হোক।

কোম্পানির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো কিনে নেওয়ার থেকে আর ভালো কোনো বিনিয়োগ হয় না। কোম্পানির আরও সূত্র জানায়, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ইপিজিডের বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির উৎপাদন ক্ষমতা আরও ৪০ মেগাওয়াট বৃদ্ধির পরিকল্পনাও আছে। দেশের প্রাকৃতিক গ্যাসের সংকট থাকলেও এলপিজি আমদানি শুরু হওয়ার প্রেক্ষাপটে এমন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here