৩টি কোম্পানির ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শিগগিরই

0
1361

সিনিয়র রিপোর্টার : বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) কাছ থেকে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওআই) পাওয়ার ৯ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বারাকা পাওয়ার লিমিটেড, কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেড এবং ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার কথা ছিল।

কিন্তু জেনারেটর আনতে দেরি হওয়ার পাশাপাশি সঞ্চালন লাইন স্থাপনে বেশি সময় লাগাসহ বেশকিছু কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। অবশ্য চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই সব বিদ্যুৎকেন্দ্র বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসবে বলে কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রামের শিকলবাহায় কর্ণফুলী পাওয়ারের সঙ্গে ১১০ মেগাওয়াটের এইচএফওভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে বারাকা পাওয়ার লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার লিমিটেড। বিপিডিবির কাছ থেকে ২০১৭ সালের ৮ আগস্ট এলওআই ইস্যু করা হয়। এলওআই পাওয়ার ১৫ মাসের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার কথা ছিল। বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে বারাকা পাওয়ারের ৫১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। ১৫ বছরের জন্য কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি রয়েছে।

চট্টগ্রামের শিকলবাহায় ১০৫ মেগাওয়াটের এইচএফওভিত্তিক আইপিপি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১৮ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ার ও এর কনসোর্টিয়ামকে এলওআই ইস্যু করে বিপিডিবি। এলওআই ইস্যুর পর থেকে নয় মাসের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার কথা ছিল। এলওআই ইস্যুর তারিখ থেকে ১৫ বছরের জন্য কেন্দ্রটি থেকে সরকারের বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি রয়েছে। এ কেন্দ্রটিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি বারাকা পাওয়ারের ৪৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে বারাকা পাওয়ারের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ করতে সময় লাগার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ করতে দেরি হয়েছে। আমাদের দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশাপাশি কনফিডেন্স ও আনলিমার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আলাদা চারটি লাইনের মাধ্যমে মূল সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে বলেছে বিপিডিবি। আর এ লাইনের কাজ করার জন্য আমাদের সময় লেগেছে।

অবশ্য ২৩ মে বারাকা শিকলবাহা পাওয়ারের ১০৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে।

তবে বিপিডিবির কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক চিঠি না পাওয়ায় বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে না। আশা করছি, সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে চিঠি পেয়ে যাব। আর কর্ণফুলী পাওয়ারের বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কাজও প্রায় শেষ। এখন আমরা নিজেরা টেস্টিংয়ের কাজ করছি।

চলতি মাসের শেষের দিকে আমরা বিপিডিবিকে কেন্দ্রটি পরিদর্শনের চিঠি দেব। তারা পরিদর্শন করে বাণিজ্যিক উৎপাদনের তারিখ ঘোষণা করবে। এ বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসতে পারবে বলে জানান তিনি।

সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানি কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের পর্ষদ গত বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সভায় বগুড়ায় ১১৩ মেগাওয়াটের দুটি, রংপুরে ১১৩ মেগাওয়াটের একটি এবং চট্টগ্রামে ৫৪ দশমিক ৩৬৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার একটিসহ মোট চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। কনফিডেন্স সিমেন্টের সহযোগী কোম্পানি কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংসের মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র চারটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ৩৯৩ দশমিক ৩৬৩ মেগাওয়াট।

কনফিডেন্স সিমেন্টের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংসে মূল প্রতিষ্ঠানের ৪১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। এইচএফওভিত্তিক চার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৫ বছরের জন্য বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করেছে বিপিডিবি। সম্প্রতি কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংসের ১১৩ মেগাওয়াট সক্ষমতার বগুড়া ইউনিট-২ বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। তবে বাকি তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কনফিডেন্স পাওয়ারের একজন কর্মকর্তা বলেন, রংপুর ও চট্টগ্রামের বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ শেষ হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই কেন্দ্র দুটিতে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে বগুড়ার ১১৩ মেগাওয়াট সক্ষমতা কেন্দ্রটিতে এ বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

বিপিডিবির সঙ্গে করা চুক্তি অনুসারে চলতি বছরের ১৬ জুলাই ডরিন পাওয়ার জেনারেশনস অ্যান্ড সিস্টেমস লিমিটেডের চাঁদপুরের ১১৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। কিন্তু জার্মানির প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে জেনারেটর পেতে দেরি হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনে আসতে পারেনি।

ডরিন চাঁদপুর পাওয়ার ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি (পিপিএ) সই করে। এর আগে ২০১৭ সালের ১৫ মে বিপিডিবি কোম্পানিটিকে এলওআই প্রদান করে। এ বছরের এপ্রিলে চাঁদপুরে নির্মাণাধীন ১১৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার এইচএফওভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে নিজেদের বিনিয়োগ ৬০ শতাংশ থেকে ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয় ডরিন পাওয়ারের পরিচালনা পর্ষদ।

গ্রুপের অন্য কোম্পানি ডরিন পাওয়ার হাউজ অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের কাছ থেকে ডরিন চাঁদপুর পাওয়ারের ১০০ টাকা অভিহিত মূল্যের ৩ লাখ ৯৯ হাজার শেয়ার ৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকায় কিনে শেয়ারহোল্ডিং ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত করবে তারা।

ডরিন পাওয়ারের চাঁদপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্ধারিত সময়ে বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসতে না পারার কারণ হিসেবে কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলেন, জার্মানির ম্যান ডিজেল অ্যান্ড টার্বোর কাছ থেকে উন্নতমানের জ্বালানি সাশ্রয়ী জেনারেটর আনতে গিয়ে সময় বেশি লেগেছে। এ ধরনের জেনারেটর এর আগে কখনো ব্যবহায় হয়নি।

প্রচলিত জেনারেটরের তুলনায় এটিতে ৭ শতাংশ জ্বালানি সাশ্রয় হবে। আর এতে কোম্পানির ব্যয় সাশ্রয় হওয়ার কারণে মুনাফাও বাড়বে। আগামী সপ্তাহ থেকে চাঁদপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল কাজ শুরু হচ্ছে বলেও জানান তারা।

এদিকে চাঁদপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে কবে নাগাদ উৎপাদন শুরু হবে জানতে চাইলে ডরিন পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তফা মইন জানান, বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ চলছে। আশা করছি, চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যেই কেন্দ্রটিতে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here