২৪ বছর ধরে ৩৬টি কোম্পানির ১৩১ কোটি টাকা অফেরত !

0
865

বিশেষ প্রতিনিধি : ১৯৯৪ সাল থেকে চলতি ২০১৮ সাল পর্যন্ত পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত হয়েছে ৩৬টি কোম্পানি। আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যাহত লোকসান এবং উৎপাদন বন্ধের কারণে কোম্পানিগুলো তালিকাচ্যুত করা হয়। আর কোম্পানির ২ কোটি ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ২২৫টি শেয়ারের ফেসভ্যালু অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের ১৩১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা আটকা।

বিনিয়োগকারীর টাকা ফেরত দিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নেই কোন ক্ষমতা। যে কারণে ২৪ বছর দ্বারে-দ্বারে ঘুরেও টাকা আজো ফেরত পাননি বিনিয়োগকারীরা।

তালিকাচ্যুত কোম্পানিগুলো হলো- চাঁদ টেক্সটাইল, চাঁদ স্পিনিং, ডেল্টা জুট, গসিয়া জুট, প্যানথার স্টিল, আনোয়ারা জুট, স্পেশালাইজড জুট, শমসের জুট, পেপার কনভারটিং, হাওলাদার পিভিসি, অ্যারোমা টি, ফ্রগলেস, সোয়ান টেক্সটাইল, পি.পি.আই, মিলিয়ন টেনারি, নিউ ঢাকা মিলস, আহাদ জুট মিল, ইসলামি জুট মিলস।

তালিকায় আরো রয়েছে- হাইস্পিড সিপ, মিউচ্যুয়াল জুট, বেঙ্গল স্টিল, করিম পাইপ, এবি বিস্কুট, ঢাকা ভ্যাজিটেবল, প্যারাগন লেদার, রূপন অয়েল, ন্যাশনাল অক্সিজেন, এসটিএম, জেম নিটওয়ার, জেএইচ কেমিক্যাল, মার্ক বাংলাদেশ, টেক্সপি ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা ভেজিটেবল, ঈগল বক্স, রাবেয়া ফ্লাওয়ার এবং ই এল কেমিক্যাল।

ডিএসই সূত্রে জানা যায়, তালিকাচ্যুত ৩৬ কোম্পানির দুই কোটি ১৩ লাখ ৮৯ হাজার ২২৫টি শেয়ার বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে। ফেসভ্যালুতে যার মূল্য ১৩১ কোটি ৩৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫শ` টাকা। তবে তালিকাচ্যুতির সময় ওই সব কোম্পানির শেয়ারের দর আরো বেশি ছিল।

কোম্পানিরগুলোর মধ্যে কিছু কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছিল শুধু টাকা উত্তোলনের জন্য। তালিকাভুক্তির আগের কয়েক বছর অধিক ব্যবসায়িক সাফল্য দেখানো হয়। যাতে সহজে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া যায়। প্রথম দুই-তিন বছর কোনো রকম ডিভিডেন্ড দিয়ে সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত নিয়ম-কানুন মেনে চলে। তারপর শুরু হয় অনিয়ম।

লিস্টিং ফি না দেয়া, শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত করা, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা না করাসহ নানা ইস্যুতে স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে এসব কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করা হয়।

তালিকাচ্যুত কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগকৃত অর্থ উদ্ধারে বিএসইসির নেই কোনো আইন বা নীতিমালা। আইনি দুর্বলতায় পার পাচ্ছে কোম্পানিগুলো, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

বিএসইসির সংশ্লিষ্টরা কর্মকর্তারা বলছেন, কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী কোনো কোম্পানি অবলুপ্ত হলে শেয়ারহোল্ডারদের দায়-দেনা মিটিয়ে দিতে পরিচালনা পর্ষদ বাধ্য থাকবে। না দিলে আদালতে যাবে বিনিয়োগকারীরা।

এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, তালিকাচ্যুত কোম্পানির অর্থ ফেরতের বিষয় সম্পূর্ণ আদালতের বিষয়। এক্ষেত্রে বিএসইসির কোনো ক্ষমতা নেই।

তিনি আরো বলেন, কোনো কোম্পানি তালিকাচ্যুত হলে অর্থ উত্তোলনে বিনিয়োগকারীদের প্রথমে আদালতে যেতে হবে। আইন অনুয়ায়ী কোম্পানি দেনা-পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে অবশিষ্ট অর্থ শেয়ার হোল্ডারদের মাঝে বন্টন করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here