২১ হাজার কোটি টাকা পেল যোগাযোগ ও পরিবহন খাত

0
156

রাহেল আহমেদ শানু : বাজেটে যোগাযোগ ও পরিবহন খাতকে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ খাতে ২০ হাজার ৮১৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১২ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বৃহস্পতিবার ২০১৮-১৯ সালের বাজেট অধিবেশনকালে এই বরাদ্দের কথা জানান। এ সময় তিনি চলতি বছরেই পদ্মা সেতু চালু হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাজেট বক্তৃতাকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ১ হাজার ১৪০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ককে মানসম্পন্ন ও প্রশস্ত করার জন্য ১০টি সড়ক জোনভিত্তিক ১০টি গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ৩ হাজার ৮১৩ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত করা হবে। ইতোমধ্যেই ৪৬৫ কিলোমিটার সড়ক চার বা তদূর্ধ্ব লেনে উন্নীত হয়েছে। ৪৩৬ কিলোমিটার উন্নীতকরণের কাজ চলছে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার জন্য ৬১টি সেতু নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

পদ্ম সেতু প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজ অর্ধেকের বেশি শেষ হয়েছে। বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে সেতুর চারটি স্প্যান বসানো হয়েছে। আমাদের আশা, এ বছরেই পদ্মা সেতু চালু হবে। পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হওয়ায় বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া অংশে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজও শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই রুট দিয়ে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মিত হবে। তবে বাজেটে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখা হয়নি। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুতে অর্থায়ন করছে এডিবি। এই সেতু নির্মাণে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া দ্বিতীয় কাঁচপুর, দ্বিতীয় মেঘনা ও দ্বিতীয় গোমতী সেতুর নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে।

সেতু ও টানেল নির্মাণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, নবম (বগা সেতু), দশম (মোংলা সেতু) ও একাদশ (ঝপঝপিয়া) সেতু নির্মাণে চীন অর্থায়ন করবে। চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। এ ছাড়া কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ২০২২ সাল নাগাদ দেশের প্রথম টানেল নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

নগর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ও পার্শ^বর্তী এলাকার জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ২০০৫ সালের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা ২০১৬ সালে হালনাগাদ করে ৫টি ম্যাস র‌্যাপিড ট্রান্সজিট (এমআরটি), ২টি বাস র‌্যাপিড ট্রান্সজিট (বিআরটি), ৩ স্তরবিশিষ্ট রিংরোড, ৮টি রেডিয়াল সড়ক, ৬টি এক্সপ্রেসওয়ে, ২১টি ট্রান্সপোটেশন হাব নির্মাণ এবং ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট-ট্রাফিক সেফটি ব্যবস্থার উন্নয়ন করার ব্যবস্থা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারব। এ ছাড়া আগামী অর্থবছরে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারব।

রেল খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরে ১২০ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ, ২২ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসন, ২ হাজার ৫৫০ কিলোমিটার রেলপথ রক্ষণাবেক্ষণ, ৫৫টি নতুন রেলসেতু নির্মাণ, ১৬টি স্টেশনের সিগন্যালিং ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ৫০টি বিজি ও এমজি যাত্রীবাহী কোচ সংগ্রহ ও ৪০টি ক্যারেজ পুনর্বাসন করা হবে। কয়েক বছরের মধ্যে আরো ৩৯৫ কিলোমিটার নতুন রেললাইন, ৭৬ কিলোমিটার রেললাইন পুনর্বাসন ও ১৭৩টি নতুন রেলসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নৌপথের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আনুষঙ্গিক উন্নয়নের ওপরও বাজেটে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, নৌরুটের নাব্য পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণে ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি সংগ্রহ ও ডেজিং করা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে মোংলা সমুদ্রবন্দরটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই বন্দরটিকে আধুনিক বন্দরে রূপান্তরের জন্য ক্যাপিটাল ড্রেজিং, কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নৌ খাতে দক্ষ জনবল বৃদ্ধির জন্য ৪টি মেরিন একাডেমি স্থাপন করা হয়েছে।

নিরাপদ বেসামরিক বিমান চলাচলে সক্ষমতা ও সেবা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয় বাজেটে। এর মধ্যে পিপিপির আওতায় খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজ প্রায় ৯০ ভাগ শেষ। ২০১৯ সালের মধ্যে ৪টি ড্যাস বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ সংগ্রহ ও ২টি ড্যাশ-৮ উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here