২১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রস্তাব জমা

0
1563

সিনিয়র রিপোর্টার : সাম্প্রতিক রেকর্ড ঘাটতির পর নতুন করে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার পর দেশী-বিদেশী বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ২১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব জমা দিয়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ তালিকায় সামিট, ডরিন, শাহজিবাজার, কনফিডেন্স, খান ব্রাদার্স গ্রুপও রয়েছে। তবে প্রতিটি কনসোর্টিয়ামের মালিকানা কাঠামো সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সূত্র জানায়, সক্ষমতার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার সম্ভব না হওয়ায় মে মাসে দেশে বিদ্যুতের ঘাটতি তিন হাজার মেগাওয়াটে উঠেছিল। এর পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে স্বল্প সময়ের মধ্যে নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালুর নির্দেশনা আসে। পরিকল্পনা অনুসারে ফার্নেস অয়েল ও ডিজেলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো আগামী গ্রীষ্মের আগেই উৎপাদনে আসবে বলে আশাবাদী কর্মকর্তারা।

ঈদের আগে বিদ্যুৎ সচিব ড. কায়কাউস আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বেসরকারি খাতের আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্যোক্তারা নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হন। ২০১৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) দরপত্রের ভিত্তিতেই বিদ্যুতের দর উল্লেখ করে প্রস্তাব জমার মৌখিক নির্দেশনা পেয়ে ২৫ জুন তারা লিখিত প্রস্তাব জমা দেন। এক মাসের মধ্যেই আবেদন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করতে চায় বিপিডিবি।

জানা গেছে, সামিট গ্রুপ গাজীপুরের কড্ডায় ৩০০ মেগাওয়াটের ফার্নেস অয়েলভিত্তিক একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার আবেদন জমা দিয়েছে। কনসোর্টিয়ামের সিংহভাগ শেয়ার সামিট করপোরেশনের হাতে থাকলেও বাকি অংশের মালিকানায় থাকবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত সামিট পাওয়ার লিমিটেড।

কনফিডেন্স গ্রুপের প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর ও বগুড়ায় দুটি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ডরিন পাওয়ার লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি ঢাকা নর্দান পাওয়ার  জেনারেশন্স লিমিটেড মানিকগঞ্জে ২১৫ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে চায়। এদিকে বিদ্যুৎ খাতের আরেক তালিকাভুক্ত কোম্পানি শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড মিডল্যান্ড পাওয়ারের সঙ্গে যৌথভাবে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রস্তাব দিয়েছে।

ইউনাইটেড গ্রুপ ময়মনসিংহে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায়। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রত্যক্ষ কোনো সম্পর্ক থাকবে না বলে জানা গেছে। এর শেয়ারগুলো থাকবে ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজেসের হাতে।

তালিকা অনুসারে, এগ্রিকো ২০০ ও ১৫০ মেগাওয়াট, অ্যাক্রন ৫০০ মেগাওয়াট, মার্কিন এপিআর ২০০, দেশ এনার্জি ৫০, ওরিয়ন ১০০ মেগাওয়াটের দুটি, সামুদা পাওয়ার ১০০, আনলিমা গ্রুপের প্রতিষ্ঠান প্রিসিশন এনার্জি ১৫০, পাওয়ার সোর্স ১২০ ও ১০৫ মেগাওয়াটের একটি করে, আরআই পাওয়ার ১৫০ মেগাওয়াট, এনার্জিপ্যাক ১০০, বাংলা ট্র্যাক ১০০ এবং মিডল্যান্ড পাওয়ার এককভাবে ৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ও পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে।

এর বাইরে বিদ্যুৎ ব্যবসায় পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও মেঘনা ঘাটে ২০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চায় খান ব্রাদার্স গ্রুপ। কোনো অভিজ্ঞতা নেই সামুদাসহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের।

বিপিডিবি কর্মকর্তারা জানান, ছয় মাসের মধ্যে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাজ শেষ করতে হবে, ফার্নেসসহ অন্যান্য এইচএফও (হেভি ফুয়েল অয়েল) প্লান্টগুলোকে সময় দেয়া হবে ৯ মাস। পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা কোম্পানিগুলোর পক্ষে কতটা সম্ভব হবে, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবগুলো দ্রুত যাচাই-বাছাই করে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা আবার উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here