২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মুদ্রানীতি ঘোষণা

0
2027

 

 ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মেয়াদের জন্য মুদ্রানীতি
২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মেয়াদের জন্য মুদ্রানীতি

স্টাফ রিপোর্টার : আগামী ছয় মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ সরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৩৩.৭ শতাংশ। আর বেসরকারি খাতে সাড়ে ১৫ শতাংশ ঋণ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এটাকে ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ মুদ্রানীতি হিসেবে অভিহিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমিয়ে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের প্রথম মেয়াদের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এটি আগের মুদ্রানীতির মতোই ভারসাম্যমূলক মুদ্রানীতি,বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে। তবে সরকারের বাজেটের সঙ্গে দ্বিমত করে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। তবে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, অবকাঠামো খাতে ও অন্যবিধ বিনিয়োগ কার্যক্রমে বড় ধরনের গতিশীলতা না আনা গেলে প্রবৃদ্ধির বাস্তব অর্জন বিগত দশ বছরের গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে খুব একটা বেশি হবার সম্ভাবনা কম। যদিও সরকারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন ৭ দশমিক ২ শতাংশ।

তবে ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সব মূখ্য নীতি সুদহার অর্থাৎ রেপো ও বিশেষ রেপো সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যা বর্তমানে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বেসিস পয়েন্ট।বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংক কনফারেন্স হলে সংবাদ সম্মেলন করে গভর্নর ড. আতিউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জানুয়ারি-জুন মেয়াদের এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

গভর্নর বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির হার চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ ও জুনে দাঁড়াবে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যা জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সঙ্গিতপূর্ণ। তবে ২০১২-১৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ।তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি অর্জনে উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না। বিশেষ করে কৃষি ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে ঋণের যোগানের ওপর বিশেষ নজর রাখা হবে। এসব উদ্যোগ মুদ্রানীতি কার্যক্রমের আওতায়ই পরিচালিত হবে।

Infuation 2

গভর্নর বলেন, সাম্প্রতিক গতিধারা বিবেচনায় মুদ্রানীতিতে সুদহার ও বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি অনুপাত অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গভর্নর বলেন, ৭ শতাংশে মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা কঠিন। এর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সরকারি ও বেসরকারি খাতে সম্ভাব্য মজুরি ও ভাতা বৃদ্ধি। হরতাল ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন কঠিন বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর।মুদ্রানীতিতে সরকারি ঋণও কিছুটা টেনে ধরার কথা বলা হয়েছে। যদিও এটি করার ক্ষমতা নেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। বলা হয়েছে, সরকারি ঋণ প্রবাহ ১৯ দশমিক ৫ শতাংশে রাখা হবে। কিন্তু সরকার ঋণ চাইলে দিতে বাধ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদায়ী মুদ্রানীতিতে এটি ছিলো ২০ দশমিক ৩ শতাংশ। গভর্নর বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ কোনোভাবেই বেসরকারি খাততে বাধাগ্রস্থ করবে না। আশা করি, সরকারের ঋণ ২৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যেই সীমিত থাকবে।  গভর্নর বলেন, ব্যাপক মুদ্রার যোগান প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর রিজার্ভ মুদ্রার যোগান ১৫ দশমিক ৫ শতাংশে সীমিত রাখা হবে। কিন্তু রাজনৈতিক চাপে সেটি সম্ভব কিনা প্রশ্নে বলেন, সব কিছু বিবেচনা করেই মুদ্রানীতি প্রণয়ন করা হয়েছে।

GDP

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমিয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব কিনা প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংকের চেইঞ্জ ম্যানেজমেন্ট উপদেষ্টা আল্লা মালিক কাজমী বলেন, বেসরকারি খাতে যে ঋণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে তা দিয়ে যে কোনো ধরনের প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হবে। এটি কমানো হয়নি। প্রবৃদ্ধি সীমিত করা হয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধি সহায়ক খাতে অর্থ সংকট হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর ভাবে দেখবে, কি কাজে ঋণ নিয়ে কি করা হচ্ছে। তবে এখন এ কাজে ঋণ নিয়ে অন্য কাজে ব্যবহার কমেছে। তবে জিডিপি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।মুদ্রানীতি ভারসাম্যমূলক উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, মুদ্রানীতিতে প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতিকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আমরা দুই পায়ে হাঁটছি। মুদ্রানীতির লক্ষ্য হবে, জিডিপি ৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে মূল্যস্ফীতি সাত শতাংশে নামিয়ে আনা।

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার জন্য প্রয়োজনীয় সমর্থনও আগের মতো অব্যাহত থাকবে বলে মুদ্রানীতিতে জানান ড. আতিউর রহমান। তবে সেটি কিভাবে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সূর চৌধুরি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারের জন্য ব্যাপক নীতি সহায়তা আগের বছরগুলোতে দিয়েছে। সেগুলো অব্যাহত থাকবে। তার জন্য ২০১২ সালের থেকে ২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তারল্য প্রবাহ বেড়েছে। নতুন করে ৯০০ কোটি টাকা এ খাতে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে নীতিমালা করা হয়েছে। শিগগিরই এটি সরকার অনুমোদন দিলে তা সরবরাহ করা হবে।

 

Borring
এবারের মুদ্রানীতির ভঙ্গি আমাদের অর্থনীতির বাইরের খাতের স্থিতিশীলতা জোরদার রেখে বৈদেশিক মুর্দ্রার রিজার্ভের প্রবৃদ্ধি গতিশীল রাখা। টাকার বিনিময় হারে অস্বাভাবিক কোনো অস্থিতিশীলতা পরিহারে বাংলাদেশ ব্যাংক আগের মতোই সজাগ থাকবে।কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মো. রাজী হাসান, নাজনীন সুলতানা, প্রধান অর্থনীতিবিদ হাসান জামানসহ ব্যাংকের উর্ধ্বতনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Monetary policy

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here