১ জানুয়ারি থেকে ব্যাংকের ৫ হাজার কোটি টাকার বাড়তি বিনিয়োগ

0
3036

সিনিয়র রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে ব্যাংকগুলোকে আরো সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। প্রজ্ঞাপনে সাবসিডিয়ারি কোম্পানির মূলধনকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগ হিসাবের (Exposure) বাইরে রাখেতে হবে। প্রজ্ঞাপন অনুসারে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নির্দেশনা কার্যকর হবে।

পুঁজিবাজারে বিভিন্ন ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আলাদা ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকে শেয়ারের বিপরীতে মূলধন জোগান দিয়েছে ব্যাংকগুলো। এতদিন এ মূলধন বিনিয়োগকে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগসীমার হিসাবে ধরা হতো। কিন্তু আগামী জানুয়ারি থেকে আর সেটি হিসাবে ধরা হবে না।

ধরা যাক, ‘ক’ একটি তফসিলি ব্যাংক। ‘খ’ ও ‘গ’ নামে শেয়ারবাজারে তার সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে আলাদা দুটি ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক রয়েছে। এখন ধরা যাক, ‘খ’ ব্রোকারেজ হাউসে ‘ক’ ব্যাংকটির মূলধন বিনিয়োগ রয়েছে ২০০ কোটি টাকা। আর ‘গ’ মার্চেন্ট ব্যাংকে ‘ক’ ব্যাংকটির মূলধন বিনিয়োগ রয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংক মিলিয়ে ‘ক’ ব্যাংকটির মোট মূলধন বিনিয়োগ রয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা।

এত দিন শেয়ারবাজারে ‘ক’ ব্যাংকটির বিনিয়োগসীমা হিসাবের ক্ষেত্রে এ ৩৫০ কোটি টাকাকে হিসাবে ধরা হতো। কিন্তু আগামী জানুয়ারি থেকে সেটিকে আর হিসাবে ধরা হবে না। এর ফলে ‘ক’ ব্যাংকটির জন্য পুঁজিবাজারে ৩৫০ কোটি টাকার বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হলো। যদি ব্যাংকটি নির্ধারিত বিনিয়োগসীমা অতিক্রম না করে থাকে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক ব্যাংকের শেয়ারবাজার-সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ব্যাংকগুলোর মূলধন বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। এ বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগকে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার বাইরে রাখা হচ্ছে।

ব্যাংকের বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালা সংশোধনের ফলে ৩ ডজন ব্যাংকের বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ছে। সবগুলো ব্যাংক মিলিয়ে বিনিয়োগ পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমানে ৩৬টি ব্যাংকের এমন সহযোগী প্রতিষ্ঠান বা সাবসিডিয়ারি কোম্পানি রয়েছে,  যারা পুঁজিবাজারে ব্যবসা করছে। এদের মধ্যে ২৯টি ব্যাংকের রয়েছে ব্রোকারহাউজ। আর সাতটি ব্যাংকের রয়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক। আর ১০টি ব্যাংকের রয়েছে দুটি করে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি, যার একটি ব্রোকারেজ ব্যবসা ও অন্যটি মার্চেন্ট ব্যাংকিং করে থা্কে।
বর্তমানে ১০০ কোটি টাকার কম মূলধনসম্পন্ন সাবসিডিয়ারি কোম্পানি নেই বললেই চলে। বেশ কয়েকটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি টাকার বেশি। এদের মধ্যে এবি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের পরিশোধিত মূলধন ২৯৭ কোটি টাকা। আর ইসলামী ব্যাংক সিকিউরিটিজের মূলধন ৩শ কোটি টাকার বেশি।
সাবসিডিয়ারি কোম্পানিগুলোর গড় পরিশোধিত মূলধন ১৫০ কোটি টাকা হলে, সবগুলো প্রতিষ্ঠানের মোট মূলধনের পরিমাণ দাঁড়ায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। এ টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করা হলেও কোনো ব্যাংকের এক্সপোজার তার সীমার বাইরে যাবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here