শ্যামল রায়: প্রতিদিনই শেয়ারবাজারে নতুন নতুন আতঙ্ক দেখা দিচ্ছে। বিভিন্ন গুজব নির্ভর আতঙ্কে ভয় পেয়ে অনেক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছে। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসেই ঢাকা স্টক একচেঞ্জের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন হারিয়ে গেছে।

অন্যদিকে একই অবস্থা বিরাজ করছে চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জেও এই অল্প কয়েক দিনেই কোন কোন কোম্পানির ব্যাপক দর পতন হয়েছে । এর মধ্যে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বাজার মূলধন কমেছে ৬ হাজার কোটি টাকা।

বিগত চার বছরের মধ্যে এমন ঘটনা আর দেখেনি বিনিয়োগকারীরা। বিনিয়োগপাড়া মতিঝিল সহ  সমস্ত ব্রোকার হাউজ গুলোতে রীতিমত আতঙ্ক বিরাজ করছে। সবাই বলাবলি করছে ১৯৯৬ ও ২০১০ সালেরই নতুন একটি সংস্করন প্রত্যক্ষ করলাম।

বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল নতুন বছরে হয়ত মার্কেট স্টেবল হবে। গতি আসবে শেয়ার বাজারে। এমনিতেই এটা নির্বাচনের বছর সরকারের ও শেষ বছর স্বাভাবিক ভাবেই বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল এবছর মার্কেট অনেক ভালো হবে। নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আসবে কিন্তু সম্প্রতি এর উল্টো চিত্র বিরাজ করছে শেয়ার বাজারে।

মুদ্রানীতিকে কেন্দ্র করে বাজারে ছন্দপতন ঘটতে শুরু করে। বিনিয়োগকারীরা বরাবরের মতই এটাকে সাময়িক সমস্যা হিসেবে ধরে নিলেও পরিস্থিতি এখন অন্য কথা বলছে। যার ধারাবাহিকতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিনিয়োগ সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে দেশে বড়ধরনের রাজনৈতিক অস্থীরতার আশাংকা তৈরী হয়েছে। অনেকে ভয়ে শেয়ার ছেড়ে দিচ্ছে। কেউ শেয়ার বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নেওয়ার কথাও ভাবছেন। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনা নিয়ে অথবা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিধায় প্যানিক হয়ে বাজারে রিতিমত সুনামী শুরু হয়ে গেছে। আমাদের শেয়ার মার্কেট এমনিতেই গুজব নির্ভর ও অত্যন্ত সেনসিটিভ।

কাজেই উপর্যপরি এসব ঘটনার কারনেই বাজারে রীতিমত ধ্বস শুরু হয়ে গেছে। এ অবস্থা বাজারের দ্বিতীয় কার্য দিবসেও দেখা যায়। প্রথম ঘন্টায় সেল পেশারে বাজারের ভীত নড়বড়ে হয়ে যায়।  পরে সরকারী হস্তক্ষেপে কিছু মার্চেন্ট ব্যাংকের তৎপরতায় ঘুরে দাড়াতে চেষ্টা করে কিন্তু শেষ পর্যন্ত নেগেটিভ ইনডেক্সে গিয়ে বাজার শেষ হয়।

জানাগেছে ২৯ জানুয়ারী পর্যন্ত ডিএসই এর বাজার মূলধন ছিল প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। ৫ কার্য দিবসে তা নেমে গিয়ে দাড়ায় ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এ কয়দিনে বাজারের মূল্যসূচক কমে ৩০৭ পয়েন্ট এবং টাকার অংকে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার মত। মূদ্রানীতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে নেতিবাচক আতঙ্ক ছিল তা অমূলক। কারন মুদ্রানীতিতে বেসরকারী খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানো হয়েছে। যা শেয়ার বাজারের জন্য ইতিবাচক। তাহলে কেন শেয়ার বাজারে পতন দেখা যাবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিনিয়োগকারী সংগঠনের এক শীর্ষ কর্তাব্যক্তি জানান সম্প্রতি বাজারে যে পতন দেখা দিচ্ছে তা শ্রেপ গুজব।  এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি করে বাজারে থেকে ফায়দা নিচ্ছে একদল সুবিধা ভোগী লোক। যারা বাজারে অস্থিরতা তৈরী করে প্যানিক সৃষ্টি করে বিনিয়োগকারীরা পূর্বের ৯৬ কিংবা ২০১০ এর কথা স্মরণ করে শেয়ার বিক্রি করে পোর্টফোলিও খালি করে ফেলছে। ঢাকার সবগুলো ব্রোকার হাউজ ঘুরে একই চিত্র দেখা গেছে। সব বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে তার বলাবলি করছে এটা তো আর একটি ৯৬ কিম্বা ২০১০। সময় বদলেছে তাই এখন ধ্বসের ধরনটাও পালটেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিনিয়োগকারী জানান এই সরকার আসলে শেয়ার বাজারে সব সময়ই একটা আতঙ্ক থেকেই যায় কখন থেকে কি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। তার প্রমান ও দিয়েছে তারা অতীতে ৯৬/২০১০ সালেও একই ঘটনা ঘটেছে। সরকারতো কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। আর কতবার বিনিয়োগকারীরা এইভাবে নিস্ব হবে। তিল তিল করে জমানো মূলধন অন্যের হাতে তুলে দিয়ে আসবে। এ যেন নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আপন সন্তানের জলে আত্মহুতি দেওয়ার দৃশ্য প্রত্যক্ষ করছে বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে অতীতের মত যেন ৯৬/২০১০ সালের মত নতুন সংস্করণ যেন ২০১৮ না হয় সেদিকেই লক্ষ্য রাখতে হবে সরকার, মার্চেন্ট ব্যাংক সহ প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এমনটি প্রত্যাশা সাধারন বিনিয়োগকারীদের। এছাড়াও ৯৬/২০১০ সালের মত বড় ধরনের ধস ঠেকাতে প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সেল পেশার কমাতে বিএসইসি, ডিএসসি ও সিএসইর প্রতি সাধারন বিনিয়োগকারীদের পক্ষ্য হতে জোরাল দাবী জানানো হয়।

বাজার সম্পর্কে আরও নিউজ দেখুনঃ

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here