১৮ মাসে এপেক্স ফুটওয়্যারের লোকসান

0
516

স্টাফ রিপোর্টার : সর্বশেষ ১২ মাসে মুনাফায় থাকলেও ১৮ মাসে হিসাব বছর গণনা করতে গিয়ে নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে লোকসান দেখিয়েছে এপেক্স ফুটওয়্যার। অবশ্য ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ সুপারিশ করেছে চামড়া খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিটির পর্ষদ।

রোববার বিকালে পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে এপেক্স ফুটওয়্যার জানায়, জুন ক্লোজিংয়ের বাধ্যবাধকতায় এবার ১৮ মাসে হিসাব বছর গণনা করেছে তারা। ৩০ জুন পর্যন্ত ১২ মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৭ টাকা ২৯ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৬ টাকা ৮৯ পয়সা।

তবে ২০১৬ সালের প্রথম ছয় মাসে শেয়ারপ্রতি ৮ টাকা ৩৬ পয়সা লোকসানের জেরে ১৮ মাসের প্রতিবেদনে শেয়ারপ্রতি ১ টাকা ৭ পয়সা লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের। ৩০ জুন এপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২২৭ টাকা ৫২ পয়সা।

এপেক্স ফুটওয়্যারের কোম্পানি সচিব এসএম শাজাহান বলেন, রফতানি ব্যবসায় মৌসুমি প্রভাবের কারণে প্রতি বছরই জানুয়ারি থেকে জুন সময়ে আমাদের বিক্রি তুলনামূলক কম থাকে। তবে সে সময় আমরা উত্পাদন তথা রফতানির প্রস্তুতি অব্যাহত রাখি। সব মিলিয়ে বছরের প্রথমার্ধে লোকসানও গুনতে হয়। বছরের অবশিষ্ট সময়ে রফতানি আয় বাড়ে, যার সুফল দেখা যায় সে সময়ের আর্থিক প্রতিবেদনে। যোগ-বিয়োগ করে বছর শেষে এপেক্স ফুটওয়্যার মুনাফায় থাকে।

এবার ১৮ মাসে হিসাব বছর গণনা করতে গিয়ে আমাদের নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে দুটি লোকসানি অর্ধবার্ষিক ও একটি মুনাফার অর্ধবার্ষিক অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে। এ কারণেই নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে লোকসানে পড়েছি আমরা। তবে ১২ মাসে হিসাব বছর গণনার কারণে আগামীতে এ পরিস্থিতি থাকবে না বলে মনে করছেন তিনি।

এদিকে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বশেষ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে লভ্যাংশ, বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও রেকর্ড ডেটের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এপেক্স ফুটওয়্যারের পর্ষদ। ১৮ মাসের জন্য ৫০ শতাংশ নগদ পাবেন কোম্পানির শেয়ারহোল্ডাররা।

নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন, লভ্যাংশ ও অন্যান্য এজেন্ডা অনুমোদনে আগামী ১২ নভেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় গুলশানের বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনে এজিএম করবে এপেক্স ফুটওয়্যার। এ জন্য রেকর্ড ডেট নিধারণ করা হয়েছে ১৬ অক্টোবর।

কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এর আগে পাঁচ বছর ধরে এপেক্স ফুটওয়্যারের করপরবর্তী মুনাফা নিম্নমুখী ছিল। ২০১১ সালে কোম্পানিটির করপরবর্তী মুনাফা ছিল ২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে তা কমে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকায় নেমে এসেছিল।

ব্যবসা বাড়াতে কয়েক বছর ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রয় নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি বাড়ানো হচ্ছে রফতানি ইউনিটের সক্ষমতাও।

চলতি বছর স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে, রফতানি ইউনিটের উত্পাদন সক্ষমতা বাড়াতে বিদ্যমান রফতানি কারখানা (ইউনিট-১) সংস্কার, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে (বিএমআরই) মোট ৮১ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে এপেক্স ফুটওয়্যার। এর মধ্যে ভবন নির্মাণে ৬০ কোটি টাকা, যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ১৫ কোটি ও বিদ্যমান ইউনিটে নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজনে ৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর নাগাদ প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিএমআরআইর কাজ শেষ হলে কোম্পানি প্রতিদিন পাঁচ হাজার জোড়া জুতা বেশি সেলাই করতে পারবে। উত্পাদনের সর্বশেষ ধাপ বা লাস্টিং ইউনিটেও প্রতিদিন তিন হাজার জোড়া জুতা বেশি উত্পাদন করা যাবে বলে জানিয়েছেন এর কর্মকর্তারা।

১৯৭৫ সাল থেকে এপেক্স নামে ব্যবসা পরিচালনা করা প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে পাদুকা শিল্পে সবচেয়ে বড় কোম্পানি। ২০১৫ সালে দেশের বাইরে ৪৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৮ জোড়া জুতা রফতানি করে এ কোম্পানি। মাঝে ইতালীয় ব্র্যান্ড অ্যাডেলকি তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল দীর্ঘদিন।

১৯৯৩ সালে শেয়ারবাজারে আসা কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ১১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। রিজার্ভ ২৪৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মোট শেয়ারের ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, ৩৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৪৩ দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।

ডিএসইতে গতকাল দশমিক ২৬ শতাংশ কমে সর্বশেষ ৩৪৯ টাকা ৯০ পয়সা এপেক্স ফুটওয়্যারের শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন দর ছিল ৩২১ টাকা ১০ পয়সা ও সর্বোচ্চ ৪০৮ টাকা ৪০ পয়সা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here