দরবৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় ১৭টিই স্বল্প মূলধনি কোম্পানি

0
1266

সিনিয়র রিপোর্টার : ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে দেশের শেয়ারবাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। এ সময়ের ব্যবধানে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশেরই দর কমেছে। এদিকে দরবৃদ্ধির শীর্ষ ২০ তালিকায় জায়গা পেয়েছে মাত্র তিনটি বড় মূলধনি কোম্পানি।

স্টক এক্সচেঞ্জের উপাত্ত অনুসারে, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১১২টি সিকিউরিটিজের দর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২২৩টির এবং লেনদেন হওয়া আটটি সিকিউরিটিজের বাজারদর অপরিবর্তিত ছিল। দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষ ২০-এ জায়গা করে নেয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে আইপিডিসি, ব্র্যাক ব্যাংক ও বিএসআরএম লিমিটেড ছাড়া সবই স্বল্প মূলধনি কোম্পানি।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এক বছরের ব্যবধানে তিনটি কোম্পানির শেয়ারদর ২০০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। কোম্পানিগুলো হলো— মডার্ন ডায়িং ২৩২ শতাংশ, জেমিনি সি ফুড ২৩১ শতাংশ ও ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টস ২২৪ শতাংশ।

এর মধ্যে মডার্ন ডায়িং প্রায় ছয় বছর ধরে তাদের কারখানা ভবনের ভাড়া দিয়েই চলছে। চলতি তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত লোকসানে চলে এসেছে কোম্পানিটি। জেমিনি সি ফুড এ ক্যাটাগরির ছোট মূলধনি কোম্পানি। বিলম্বিত কর সমন্বয়ের কারণে গেল হিসাব বছরে তাদের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এদিকে মূল ব্যবসা লুব্রিক্যান্ট ব্লেন্ডিংয়ে লোকসান দেখালেও ট্রেডিং ও অন্যান্য কার্যক্রমের সুবাদে মুনাফা অস্বাভাবিক বেড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন লুব্রিক্যান্টসের।

গত এক বছরে শেয়ারদর কমপক্ষে দ্বিগুণ হয়েছে আট কোম্পানির। উপরের তিনটি কোম্পানির বাইরে এ তালিকায় রয়েছে— দেশ গার্মেন্টস, আজিজ পাইপস, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, কে অ্যান্ড কিউ, জিল বাংলা সুগার মিলস লিমিটেড। এর মধ্যে দেশ গার্মেন্টস ও রেনউইক যজ্ঞেশ্বর মুনাফায় থাকলেও লোকসানে রয়েছে বাকি দুটি কোম্পানি। লোকসান টানতে টানতে কে অ্যান্ড কিউ এরই মধ্যে তাদের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। আগামীতে কী ব্যবসা করা যায়— এখন পর্যন্ত তা নিয়েই ভাবছে কোম্পানিটি।

শেয়ারদর ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে আইপিডিসি, অ্যাম্বি ফার্মা, শ্যামপুর সুগার, মুন্নু স্টাফলার্স, ইবনে সিনা, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, লিবরা ইনফিউশন্স, বিএসআরএম লিমিটেড, বিএসআরএম লিমিটেড, ব্র্যাক ব্যাংক ও প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের।

এর মধ্যে আইপিডিসি, ব্র্যাক ব্যাংক ও বিএসআরএম লিমিটেড তাদের মূল ব্যবসায় আশানুরূপ প্রবৃদ্ধি দেখাচ্ছে। প্রাইম লাইফের নিট বীমা তহবিল কমেছে। ব্যাংকের সঙ্গে আইনি লড়াই চলমান থাকায় সুদ ব্যয় হিসাবে না নিয়ে বড় ইপিএস দেখাতে সক্ষম হয় লিবরা ইনফিউশন্স।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ২০ তালিকায় উঠে এসেছে কিন্তু শেয়ারদর ৫০ শতাংশের কম বেড়েছে এমন দুটি সিকিউরিটিজ হলো ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ও আরামিট লিমিটেড।

এদিকে গত এক বছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সিকিউরিটিজের দর কমেছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে ছয় কোম্পানি; অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ, সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইল, পিপলস লিজিং, বিডি ওয়েল্ডিং, সুহূদ ইন্ডাস্ট্রিজ ও খুলনা প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিং।

এর মধ্যে অলিম্পিক অ্যাকসেসরিজ ও সিঅ্যান্ড টেক্সটাইল গেল বছর শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। লোকসানের কারণে এ বছর লভ্যাংশ দেয়নি পিপলস লিজিং। বিডি ওয়েল্ডিংয়ের ব্যবসা অনেক দিন ধরেই কমছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে বিবাদে মাঝে কারখানা বন্ধ ছিল খুলনা প্যাকেজিংয়ের। সুহূদ ইন্ডাস্ট্রিজও পরিচালকদের দ্বন্দ্বে বেশ কঠিন সময় পার করেছে।

এর বাইরে ৪০ শতাংশের বেশি দর হারানো কোম্পানিগুলো হলো ফার কেমিক্যাল, মোজাফফর হোসেন স্পিনিং, সাফকো স্পিনিং, বিচ হ্যাচারি, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, ইউনাইটেড এয়ার, ফার্স্ট ফিন্যান্স, রূপালী ব্যাংক, সেন্ট্রাল ফার্মা, বঙ্গজ, সিভিও পেট্রো ঢাকা ডায়িং, জাহিন স্পিনিং ও জেনারেশন নেক্সট। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এ কোম্পানিগুলোও ব্যবসা নিয়ে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো সুসংবাদ দিতে পারছে না বলে জানা গেছে।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, হ্রাস-বৃদ্ধির তালিকায় স্বল্প মূলধনি কোম্পানির এ প্রাধান্যের কারণেই ছোট সীমার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে শেয়ারবাজারের সূচকগুলো। তাদের অনেকেই মনে করেন, বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হওয়ার সময়টায় স্বল্প মূলধনি শেয়ারে দরবৃদ্ধির একটি প্রবণতা দেখা যায়।

এছাড়া শেয়ারদর টানা তিন বছর মোটামুটি ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর বিনিয়োগকারীরা এখন সম্ভবত বর্ধনশীল ও বড় মূলধনি কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়ে আরো বড় সুসংবাদের অপেক্ষায় রয়েছেন। তবে ছোট মূলধনি কিংবা দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারদর সহজেই প্রভাবিত হয় বলে এসব শেয়ারে বিনিয়োগের ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদে খুব সতর্ক থাকতে হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here