১১ ধরণের কারসাজিতে পুঁজিবাজার!

0
3534

সিনিয়র রিপোর্টার : পুঁজিবাজারে ১১ ধরনের কারসাজির কথা বলা হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বা বাজার-সংশ্লিষ্ট অনেক ব্যক্তি অভিনব এই প্রক্রিয়ার কথা জানিয়েছে।

বাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এসব কারসাজি সাধারণ চোখে ধরা পড়ে না। তবে বিএসইসির নিজস্ব সার্ভিলেন্স ব্যবস্থায় এসব কারসাজি সম্পর্কে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্ক সংকেত পাওয়া যায়। পুঁজিবাজারে প্রায় সময় এমন ধরণের কারসাজির ঘটনা ঘটছে। যে কারণে সতর্কভাবে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

কারসাজিগুলো হলো- স্বয়ংক্রিয় গ্রাহক (অটো ক্লায়েন্ট), শেয়ার না থাকার পরও বিক্রি (শর্টসেল), সামনে চলমান গ্রাহক (ফ্রন্ট রানিং ক্লায়েন্ট), চক্রাকার লেনদেন (সার্কুলার মুভমেন্ট), প্রতারণা (স্পুফিং), লেনদেন একাগ্রতা (ট্রেড কনসেনট্রেশন), বিজ্ঞপ্তি সতর্কতা (প্রেস রিলিজ ওয়ার্নিং), সুবিধাভোগী প্রকৃত গ্রাহক (ইনসাইডার টার্নওভার নেট ক্লায়েন্ট), সর্বশেষ অবস্থান সূচক (মার্কিং দ্য ক্লোজ), সর্বশেষ মূল্য (ক্লোজিং প্রাইজ) কারসাজি ও আদেশের বিস্তার (অর্ডার স্প্রেড)।

সেসব প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজার- চক্রাকার লেনদেন কারসাজির আওতায় দাম বাড়াতে পরিকল্পিতভাবে একাধিক ব্যক্তির মধ্যে কৃত্রিম লেনদেনের মাধ্যমে দাম প্রভাবিত করা হয়। লেনদেন একাগ্রতার আওতায় পরপর তিন কার্যদিবস নির্দিষ্ট শেয়ারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শেয়ার কেনাবেচা করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি সতর্কতার আওতায় কোনো কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশের আগে বা কাছাকাছি সময়ে ওই কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন ও মূল্যকে প্রভাবিত করা হয়। সুবিধাভোগী গ্রাহক কারসাজির আওতায় কোনো কোম্পানির মূল্য সংবেদনশীল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে গ্রাহক ও ব্রোকারের লেনদেনের অবস্থান পরিবর্তন করে।

সর্বশেষ অবস্থান সূচক কারসাজির আওতায় কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম দিনের সর্বশেষ লেনদেনের ১০ মিনিট আগে নির্দিষ্ট হারে হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটানো হয়। সর্বশেষ মূল্য কারসাজির আওতায় কারসাজিকারক কোনো কোম্পানির শেয়ারের দাম আগের দিনের সর্বশেষ দামের চেয়ে নির্দিষ্ট হারে হ্রাস বা বৃদ্ধি ঘটান।

আর আদেশের বিস্তার কারসাজির আওতায় কোনো শেয়ারের ক্রয়/বিক্রয় আদেশের মূল্য ওই শেয়ারের পূর্ববর্তী ক্রয়/বিক্রয় আদেশের চেয়ে নির্দিষ্ট হারে কম-বেশি করা হয়।

এমন অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের করণীয় জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা এ বি মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের বাজারে বিনিয়োগকারীদের প্রথম করণীয় হচ্ছে হুজুগে বা গুজব শুনে পচা বা বাজে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ না করা। বাজারের সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতিতে আমরা দেখছি দুর্বল মৌলভিত্তির ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কিছু কোম্পানির শেয়ারের দামও অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের এসব অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রলোভন থেকে দূরে থাকতে হবে। কারণ এ ধরনের বাজে কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়লেও একপর্যায়ে দরপতন হতে বাধ্য। তখন কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার জন্য কাউকে দোষারোপ করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত, বেশি লাভের আশায় ঋণ করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ না করাই শ্রেয়। কারণ, ঋণ করলে তার জন্য সুদ দিতে হবে। কিন্তু শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে লাভের সম্ভাবনা যেমন আছে, তেমনি লোকসানের আশঙ্কাও রয়েছে।

তৃতীয়ত, জমি, স্বর্ণালংকারের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ থেকে টাকা তুলে তা শেয়ারবাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে না আনাই ভালো। যাঁদের হাতে উদ্বৃত্ত অর্থ আছে শেয়ারবাজার তাঁদের বিনিয়োগের জায়গা। সে ক্ষেত্রে উদ্বৃত্ত অর্থের পুরোটা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা উচিত নয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here