১০ বছর পর আসছে বহুজাতিক কোম্পানি ঠাকরাল ইনফরমেশন

1
2096
দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক

সিনিয়র রিপোর্টার : দীর্ঘ ১০ বছর পর পুঁজিবাজারে আসছে আরেক বহুজাতিক কোম্পানি। কোম্পানিটি হলো আইটি কোম্পানি ঠাকরাল ইনফরমেশন সিস্টেমস লিমিটেড। বাংলাদেশে জয়েন্টভেঞ্চার এবং আইটি খাতের বহুজাতিক কোম্পানিটি বাংলাদেশ ছাড়াও বিশ্বের ২৪টি দেশের কাজ করছে। দেশের ব্যাংকগুলোর সফটওয়্যার সলিউশনের কাজ সম্পৃক্ত রয়েছে কোম্পানিটি।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে আনতে কাজ করছে এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট। গত সপ্তাহে কোম্পানিটি এতদসংক্রান্ত এক চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১০ বছরে বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া কোম্পানির সংখ্যা বাড়লেও পুঁজিবাজারে আসেনি কোনো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান। সর্বশেষ ২০০৯ সালে তালিকাভুক্ত হয় গ্রামীণফোন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নানা ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বছরের পর বছর ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছে। কিন্তু পুঁজিবাজারে না আসায় এসব কোম্পানির মুনাফার কোনো সুফল পাচ্ছেন না দেশবাসী।

গত তিন বছর আগে এসব কোম্পানি বাজারে আনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে কিছু প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে আগ্রহী করে তুলতে বাধ্যবাধ্যকতা আরোপের পাশাপাশি কর হ্রাসসহ একাধিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান।

এক্ষেত্রে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানির করহার অতালিকাভুক্ত বিদেশি কোম্পানির চেয়ে ১৫ শতাংশ কম নির্ধারণ করা যেতে পারে বলে প্রস্তাব করা হয়। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত না হলে বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের ওপর প্রয়োজনে বর্ধিত হারে করারোপসহ প্রাপ্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা কাট-ছাঁট করার প্রস্তাব করে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। কিন্তু এরপর আর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মসে (আরজেএসসি) নিবন্ধিত বহুজাতিক কোম্পানির সংখ্যা হচ্ছে ৩৫৫টি। এর মধ্যে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত রয়েছে মাত্র ১১টি। এগুলো হচ্ছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ, ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীণফোন, ম্যারিকো বাংলাদেশ, লিন্ডে বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট লিমিটেড, সিঙ্গার বাংলাদেশ ও বাটা শো কোম্পানি।

এ প্রসঙ্গে ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, আমি মনে করি এসব কোম্পানির প্রতি সরকারের কঠিন হওয়া উচিত। তাদের ওপর করের পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দিলে তারা পুঁজিবাজারে আসবে। কঠিন সিদ্ধান্ত না নিলে তারা কিছুতেই পুঁজিবাজারমুখী হবেন না।

এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, যেসব বহুজাতিক কোম্পানি আমাদের দেশে ব্যবসা করছে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য সরকারসহ সবার পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। কারণ পুঁজিবাজারে ভালো শেয়ারের জোগান দিতে এসব কোম্পানির বিকল্প নেই।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here