হোল্ডিং ট্যাক্স বেড়েছে, ব্যয়ের প্রভাব পড়তে পারে কোম্পানিগুলোতে

0
729

স্টাফ রিপোর্টার : প্রায় ১৩ বছর পর বেড়েছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স। ঢাকার পাশাপাশি দেশের অন্যসব সিটি করপোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্সও বাড়ানো হয়েছে। ২ মার্চ এ সংক্রান্ত গেজেট জারি করেছে স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ। দেশের সকল সিটি করপোরেশনে এ গেজেট বাস্তবায়নের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গেজেট জারির দিন থেকে এটি কার্যকর করা হবে।

সম্পত্তি হস্তান্তর কর, ময়লা নিষ্কাশন ও সড়কবাতি করসহ কিছু ক্ষেত্রে নতুন করে করারোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে এগুলো বাস্তবায়নের আগে পৃথক গেজেট জারি করা হবে। তবে যেসব কর বিদ্যমান রয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এখন থেকে নতুন হার কার্যকর করা হবে। যদিও বার্ষিক হোল্ডিং ট্যাক্স, সড়কবাতি ও ময়লা নিষ্কাশন কর পাঁচ বছরের জন্য একসাথে দেয়া যাবে। এ সময়ের মধ্যে করহার পরিবর্তন হলে পরবর্তীতে তা সমন্বয়ও করা যাবে। গেজেটে বলা হয়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৮৪ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আদর্শ কর তফসিল প্রণয়ন করা হলো, যা সিটি করপোরেশন আদর্শ কর তফসিল ২০১৫ নামে অভিহিত হবে। সব সিটি করপোরেশনের জন্য এ কর তফসিল প্রযোজ্য হবে। এ গেজেট জারির ফলে ২০০২ সালের ঢাকা সিটি করপোরেশন কর তফসিল ও ২০০৪ সালের রাজশাহী ও ২০০৬ সালের চট্টগ্রাম কর তফসিলও রহিত হবে। নতুন এ ঘোষণায় ভূমি ও ইমারত এবং ট্রেড লাইসেন্সের কর হার বাড়ানো হয়েছে। বেশকিছু ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন করারোপ করা হয়েছে। এছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তর, ময়লা বা পয়নিষ্কাশন, সড়কবাতি ও পানি এবং স্বাস্থ্য করারোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।

                                   ইমারত ও ভূমি কর:

সিটি করপোরেশন এলাকায় মালিকানাধীন ও দখলস্বত্বের সব হোল্ডিংয়ে অবস্থিত ইমারত ও ভূমির বার্ষিক মূল্যের ওপর ৭ শতাংশ হারে করারোপ করা হয়েছে। এতোদিন এ হার ছিল ৩ থেকে ৬ শতাংশ। তবে কোনো ইমারত বা ভূমি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহার হলে তা থেকে হোল্ডিং কর আদায় করা যাবে না। কিন্তু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কোনো অংশ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার হলে তার ওপর করারোপ করা হবে। রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধারা বসবাস করছেন, এমন ইমারত বা ভূমির ওপর কর দিতে হবে না। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ মালিকানাধীন জমি ও ইমারতের এক হাজার বর্গফুট পর্যন্ত হোল্ডিং করমুক্ত থাকবে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের মালিকানাধীন ভূমি বা ইমারতের কোনো অংশ বাণিজ্যিক বা লাভজনক উদ্দেশ্যে ব্যবহার হলে তার ওপর হোল্ডিং কর আদায় করা হবে।
এদিকে ভূমি ও ইমারতের বার্ষিক মূল্যও বাড়ানো হয়েছে। নিজস্ব প্রয়োজনে ব্যবহৃত জমির মূল্য নির্ধারণে এর প্রকৃত ব্যবহার বিবেচনা করা হবে। আর ভাড়া দেয়া জমি ও ইমারতের ক্ষেত্রে ভাড়া প্রদানকারী ও গ্রহণকারী উভয়ের রসিদ বিবেচনায় নেয়া হবে।

                             স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর কর:

স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিলে উল্লেখিত মূল্যের সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে করারোপ করা যাবে। তবে ওয়াক্ফ-ই-আল আওয়াদ ছাড়া নিবন্ধনকৃত ধর্মীয়, দাতব্য, ক্রীড়া বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে যে কোনো দান বা উইল-সংক্রান্ত হস্তান্তর দলিলে ওই কর আরোপ করা যাবে না। এছাড়া বৈধ ঋণ পরিশোধের জন্য কোনো স্থাবর সম্পত্তি হস্তান্তর দলিলের ক্ষেত্রে করারোপ করা যাবে না।

                  ময়লা নিষ্কাশন ও সড়কবাতি কর:

সিটি করপোরেশন এলাকায় ময়লা নিষ্কাশনের জন্য ময়লা নিষ্কাশন কর আরোপ করা যাবে। এর হার হবে সিটি করপোরেশনের প্রতিটি হোল্ডিংয়ের ইমারতের বার্ষিক করের সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ। একইভাবে সিটি করপোরেশন এলাকায় সড়কবাতির সুবিধা দেয়ার জন্যও অধিবাসীদের ওপর করারোপ করা যাবে। এর হার হবে ইমারতের বার্ষিক করের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ।

                                                   স্বাস্থ্য কর:

সিটি করপোরেশনের নাগরিকদের কাছ থেকে ইমারত বা জমির বার্ষিক করের সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ হারে স্বাস্থ্য কর আরোপ করা যাবে। নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করলে তার ব্যয় নির্বাহে এ কর আরোপ করা হবে।

                                        পানি সরবরাহ কর:

কোনো এলাকায় ওয়াসা কর্তৃক পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকলে সিটি করপোরেশন এ দায়িত্ব পালন করবে। এজন্য জমি বা ইমারতের কর মূল্যায়নের ওপর সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ হারে কর আরোপ হবে। তবে ওয়াসা কর্তৃক পানি সরবরাহ ও বিল আদায় করা হলে সিটি করপোরেশন পৃথক কর আরোপ করতে পারবে না।

                                  হোটেলের ওপর নগর কর:

সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন, চার ও পাঁচ তারকা হোটেল স্থাপন করা হলে হোল্ডিং ট্যাক্সের পাশাপাশি পৃথক নগর কর আরোপ করা হবে। এক্ষেত্রে হোটেলের কক্ষ সংখ্যার ওপর যথাক্রমে সর্বোচ্চ ৩, ৪ ও ৫ শতাংশ হারে কর আরোপ করা যাবে।

                                        শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর:

সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কর দিতে হবে। সাধারণ দোকান বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের আয়তন অনুযায়ী কর দিতে হবে, যা ট্রেড লাইসেন্স কর হিসেবে বিবেচিত হবে। এছাড়া প্রতি বছর নির্দিষ্ট হারে করও দিতে হবে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে (মূলধন অনুযায়ী) বার্ষিক কর ১ হাজার ৫০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আরোপ করা হয়েছে। তবে ব্যাংকের ক্ষেত্রে কর হার ১৫ হাজার ৫০০ টাকা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে ১০ হাজার, বেসরকারি কলেজ ৫ হাজার, কিন্ডারগার্টেন ২ হাজার ও কোচিং সেন্টারের ক্ষেত্রে ১ হাজার টাকা কর দিতে হবে। ঠিকাদারি ও আবাসন ব্যবসার ক্ষেত্রে ধরন ভেদে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর দিতে হবে। আর ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিপণন ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিং হোম ও ক্লিনিকের ক্ষেত্রে আকার ভেদে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা বার্ষিক কর নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যান্য ব্যবসার ক্ষেত্রে ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এর বাইরেও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, পোষা প্রাণী পালন, সিনেমা ও অডিও ভিজুয়াল প্রদর্শনী, মেলা প্রদর্শনীর ওপর কর এবং ব্যক্তিগত ভবনের ওপর সাইনবোর্ড, সেলফোন কোম্পানির টাওয়ার স্থাপনে কর ও সারচার্জ আরোপ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here